ব্রাজিল যখন ফিলিস্তিনের পক্ষে, আর্জেন্টিনা কেন ইসরায়েলের পাশে?
দক্ষিণ আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। মাঠের চিরবৈরী এই দুই প্রতিবেশীর বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে অবস্থানও সম্পূর্ণ বিপরীত। মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক সংকট ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে লাতিন আমেরিকার এ দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই সুর বাজাচ্ছে। একদিকে, ব্রাজিল (Brazil) যখন ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও গাজায় চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে; তখন আর্জেন্টিনা (Argentina) বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বরাজনীতিতে দুই প্রতিবেশীর এই কূটনৈতিক বৈরিতা এখন আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো কণ্ঠস্বর ব্রাজিল ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে থাকার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ব্রাজিলের। বিশেষ করে বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভার আমলে এই অবস্থান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট রূপ নিয়েছে। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ব্রাজিলের ফিলিস্তিনপিন্থি অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ ছিল ২০১০ সাল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার সরকার ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অন
দক্ষিণ আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। মাঠের চিরবৈরী এই দুই প্রতিবেশীর বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে অবস্থানও সম্পূর্ণ বিপরীত। মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক সংকট ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে লাতিন আমেরিকার এ দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই সুর বাজাচ্ছে।
একদিকে, ব্রাজিল (Brazil) যখন ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও গাজায় চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে; তখন আর্জেন্টিনা (Argentina) বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বরাজনীতিতে দুই প্রতিবেশীর এই কূটনৈতিক বৈরিতা এখন আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো কণ্ঠস্বর ব্রাজিল
ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে থাকার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ব্রাজিলের। বিশেষ করে বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভার আমলে এই অবস্থান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট রূপ নিয়েছে।
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি
ব্রাজিলের ফিলিস্তিনপিন্থি অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ ছিল ২০১০ সাল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার সরকার ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে (Palestine) একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। ব্রাজিলের এই সিদ্ধান্তের পর লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, যাদের মধ্যে আর্জেন্টিনাও ছিল। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের পক্ষে একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় ছিল।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই
২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের (Israel) বিরুদ্ধে অন্যতম সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে ব্রাজিল। প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ (Genocide) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এটি কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়, এটি একটি আধুনিক যুগের সুপরিকল্পিত গণহত্যা, যেখানে নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’

ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ/ ফাইল ছবি: ওয়াফা
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন
২০২৪ সালের শুরুতে ইথিওপিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে লুলা ডি সিলভা গাজার পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের ইহুদি নিধনের (হলোকস্ট) সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের পর ইসরায়েল লুলাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিল সরকার তেল আবিব থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ব্রাজিলে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত তলানিতে নেমে আসে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ‘গণহত্যা’ মামলায় সমর্থন
২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা দায়ের করে, ব্রাজিল শুরু থেকেই তাতে প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়। শুধু মুখে সমর্থন দিয়েই ব্রাজিল ক্ষান্ত থাকেনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিজে (ICJ) বিধির ৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে এই মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করে। এর মাধ্যমে ব্রাজিল ‘গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার’ আইনি লড়াইয়ে সরাসরি অংশীদার হয়।
ইসরায়েলের ‘বন্ধু’ আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলপন্থি অবস্থান সবসময় এমন ছিল না। তবে অতি-ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ক্ষমতায় আসার পর আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আসে। মিলেই নিজেকে ইসরায়েলের একজন ‘কট্টর মিত্র’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
মিলেইয়ের ইসরায়েল সফর এবং কান্নায় ভেঙে পড়া
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাভিয়ের মিলেই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরের জন্য ইসরায়েলকে বেছে নেন। জেরুজালেমের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ বা পশ্চিম দেওয়ালে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ঘোষণা করেন, আর্জেন্টিনা কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, আধ্যাত্মিকভাবেও ইসরায়েলের পাশে রয়েছে। এমনকি মিলোই নিজে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
জেরুজালেমের ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’-এ গিয়ে কান্নারত মিলেই/ ছবি: কাসা রোসাডা, উইকিমিডিয়া কমনস
তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর
ইসরায়েল সফরকালে মিলেই একটি বড় কূটনৈতিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আর্জেন্টিনার দূতাবাস তেল আবিব থেকে বিতর্কিত শহর জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করা হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হলেও মিলেই যুক্তরাষ্ট্রের (ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের সিদ্ধান্ত) পথ অনুসরণ করে ইসরায়েলকে খুশি করতে এই সিদ্ধান্ত নেন।
হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা
২০২৪ সালের জুলাই মাসে আর্জেন্টিনার সরকার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে হামাসের সব আর্থিক সম্পদ আর্জেন্টিনায় ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর্জেন্টিনা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার অবস্থান স্পষ্ট।
জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘না’ ভোট
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যখনই গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতি বা ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো প্রস্তাব আনা হয়েছে, আর্জেন্টিনা হয় তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, নয়তো ভোটদানে বিরত থেকেছে। যেমন—২০২৫ সালের জুনে সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনকে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে আনা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা সরাসরি বিপক্ষে ভোট দেয়। এছাড়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারত্ব বন্ধের আন্তর্জাতিক প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয় বুয়েনস আয়ার্স।
আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রশাসন মনে করে, ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার’ রয়েছে এবং এই অধিকারের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক চাপ থাকা উচিত নয়।
বিপরীত মেরুতে অবস্থানের কারণ কী?
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার এই সম্পূর্ণ ভিন্নমুখী অবস্থানের পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ:
আদর্শিক ও রাজনৈতিক ভিন্নতা
ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা একজন প্রগতিশীল বামপন্থি নেতা। লাতিন আমেরিকার বামপন্থিদের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি একটি আত্মিক ও রাজনৈতিক সহমর্মিতা রয়েছে, যা তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেখে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই একজন কট্টর ডানপন্থি এবং উগ্র-পুঁজিবাদী নেতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে ‘মুক্ত পৃথিবীর’ বাতিঘর মনে করেন এবং তাদের সঙ্গে কৌশলগত জোট বাঁধাকেই নিজের প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছেন।
জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি
ব্রাজিল এবং চিলির মতো লাতিন দেশগুলোতে বিশাল আরব ও ফিলিস্তিনি অভিবাসী (Diaspora) জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। এর বিপরীতে, আর্জেন্টিনায় লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস (প্রায় আড়াই লাখ)। ফলে আর্জেন্টিনার রাজনীতিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বেশ জোরালো। তাছাড়া, প্রেসিডেন্ট মিলেই নিজে খ্রিষ্টধর্মে বড় হলেও ইহুদি ধর্মের প্রতি তার গভীর অনুরাগ রয়েছে, এমনকি প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হতে চান বলে জানিয়েছেন।

হাভিয়ের মিলেই ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু/ছবি: পিএমও ইসরায়েল
ইতিহাসের ক্ষত
আর্জেন্টিনা অতীতে সরাসরি দুটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিল। ১৯৯২ সালে বুয়েনস আয়ার্সে ইসরায়েলি দূতাবাসে এবং ১৯৯৪ সালে একটি ইহুদি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভয়াবহ বোমা হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হন। আর্জেন্টিনা সরকার এই হামলার জন্য ইরান ও হিজবুল্লাহকে দায়ী করে থাকে। মিলেই প্রশাসন এই ঐতিহাসিক ক্ষতকে সামনে এনে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তামূলক জোটকে বৈধতা দিচ্ছে।
বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে প্রভাব
লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তির ভিন্ন ভিন্ন নীতি পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। ব্রাজিল যখন গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করছে, আর্জেন্টিনা তখন লাতিন আমেরিকায় মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থের প্রধান পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে।
ফুটবলের মাঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ দর্শকদের আনন্দ দিলেও, বিশ্বরাজনীতির এই মঞ্চে তাদের মধ্যকার ফিলিস্তিন-ইসরায়েল কেন্দ্রিক কূটনৈতিক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে লাতিন আমেরিকার ভূমিকাকে এক নতুন সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, জেরুজালেম পোস্ট, টাইমস অব ইসরায়েল, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, এপি
কেএএ/
What's Your Reaction?





