‘ব্রাজিল ষষ্ঠবারের মতো কাপ জিতে হাফ ডজন পূর্ণ করবে’

তিনদিন পরেই পর্দা উঠছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ফুটবল বিশ্বকাপের সেই চিরচেনা উন্মাদনা আর উৎসব শুরু হয়েছে বাংলাদেশেও। সেই ছোঁয়ায় রঙিন হতে শুরু করেছে যশোরও। আকাশি-সাদা কিংবা হলুদ-সবুজ রঙের পতাকায় সেজেছে শহরের বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট। প্রিয় দলের জার্সি, রিস্ট ব্যান্ড ও ক্যাপ কিনতে ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলোতে এখন ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। বরাবরের মতোই সমর্থক ও বিক্রির শীর্ষে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থাকলেও এবার যশোরে দারুণ সাড়া ফেলেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। তবে বিশ্বকাপের এই জমজমাট বাজারের মাঝেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের সরকারি নির্দেশনায় কিছুটা হতাশ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে, আকাশি-সাদা, হলুদ-সবুজ, লাল, নীল কিংবা বেগুনি—নানা রঙের কাপড়ে তৈরি বিভিন্ন দেশের পতাকা, জার্সি, রিস্ট ব্যান্ড, মাথার ফিতা আর প্রিয় খেলোয়াড়দের পোস্টারে সেজে উঠেছে গোটা শহর। বিশ্বকাপের ক্ষণগণনায় সময় যতই কমছে, ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলোতে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। কেউ কিনছেন আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের জার্সি, কেউবা ছুটছেন পর্তুগা

‘ব্রাজিল ষষ্ঠবারের মতো কাপ জিতে হাফ ডজন পূর্ণ করবে’

তিনদিন পরেই পর্দা উঠছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ফুটবল বিশ্বকাপের সেই চিরচেনা উন্মাদনা আর উৎসব শুরু হয়েছে বাংলাদেশেও। সেই ছোঁয়ায় রঙিন হতে শুরু করেছে যশোরও।

আকাশি-সাদা কিংবা হলুদ-সবুজ রঙের পতাকায় সেজেছে শহরের বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট। প্রিয় দলের জার্সি, রিস্ট ব্যান্ড ও ক্যাপ কিনতে ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলোতে এখন ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়।

বরাবরের মতোই সমর্থক ও বিক্রির শীর্ষে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থাকলেও এবার যশোরে দারুণ সাড়া ফেলেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। তবে বিশ্বকাপের এই জমজমাট বাজারের মাঝেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের সরকারি নির্দেশনায় কিছুটা হতাশ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে, আকাশি-সাদা, হলুদ-সবুজ, লাল, নীল কিংবা বেগুনি—নানা রঙের কাপড়ে তৈরি বিভিন্ন দেশের পতাকা, জার্সি, রিস্ট ব্যান্ড, মাথার ফিতা আর প্রিয় খেলোয়াড়দের পোস্টারে সেজে উঠেছে গোটা শহর। বিশ্বকাপের ক্ষণগণনায় সময় যতই কমছে, ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানগুলোতে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। কেউ কিনছেন আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের জার্সি, কেউবা ছুটছেন পর্তুগাল, জার্মানি, স্পেন কিংবা ফ্রান্সের পতাকার খোঁজে।

শুধু স্থায়ী দোকানই নয়, ফেরিওয়ালাদের হাতেও শোভা পাচ্ছে হরেক দেশের ক্রীড়াসামগ্রী। রাস্তার ধারে কিংবা দর্জিপাড়ায় এখন দম ফেলার ফুরসত নেই, চলছে পতাকা তৈরির ধুম। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের এই জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়েছে প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই।

‘ব্রাজিল ষষ্ঠবারের মতো কাপ জিতে হাফ ডজন পূর্ণ করবে’

এদিকে, ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে তুমুল তর্ক-বিতর্ক। ফেসবুকে এই লড়াই তুঙ্গে উঠেছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক এনামুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে এবারও আর্জেন্টিনাই চ্যাম্পিয়ন হবে।’

পাল্টা দাবি করে ব্রাজিল সমর্থক বাদল হোসেন বলেন, ‘ব্রাজিল পাঁচবার জিতেছে, এবার ষষ্ঠবারের মতো কাপ জিতে হাফ ডজন পূর্ণ করবে।’

অন্যদিকে ফ্রান্সের সমর্থক ডালিম হোসেন এবং পর্তুগালের সমর্থক তমাল সরকারের আশা—এবার নতুন কোনো ইতিহাস তৈরি করে তাদের প্রিয় দলই ট্রফি ঘরে তুলবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিশ্বকাপ ঘিরে যশোরের দোকানগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ধুম বেচাকেনা। শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে, পার্কে ও পাড়া-মহল্লায় পতাকা-জার্সি হাতে ঘুরছেন ফেরিওয়ালারা।

বিক্রেতাদের মতে, বরাবরের মতোই বিক্রির শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। তবে এবার তিন নম্বরে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। এর পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনের জার্সি-পতাকাও বিক্রি হচ্ছে বেশ ভালো। তবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশনা থাকায় হতাশ বিক্রেতারা।

শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে বিভিন্ন দেশের প্রতিটি জার্সি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। বড় পতাকা পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। এছাড়া রিস্ট ব্যান্ড ৮০ টাকা এবং বিভিন্ন দেশের পতাকাখচিত ক্যাপ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। তবে ফুটপাতের ফেরিওয়ালা ও দর্জিদের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যেই মিলছে বিভিন্ন সাইজের পতাকা।

যশোর শহরের মুজিব সড়কের ফেরিওয়ালা নুরুজ্জামান বলেন, ‘ঈদের আগে থেকেই কাপড়ের বাজারে বিশ্বকাপের হাওয়া লেগেছে।’

ব্যবসায়ী জাহিদুল বলেন, ‘ঈদের আগে আনা ১৫০ পিস আর্জেন্টিনার জার্সির প্রায় সবগুলোই বিক্রি হয়ে গেছে।’

মুজিব সড়কের মধু দর্জি জানান, এক মাস ধরে তিনি শুধু পতাকাই বানাচ্ছেন। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার পতাকার অর্ডারই সবচেয়ে বেশি।

মেসার্স খেলাধুলা’র বিক্রয়কর্মী সোহান হোসেন বলেন, ‘দোকানে ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা বেশি। তবে সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ করে দিতে হয় বলে বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন যদি দোকান খোলা রাখার সময় আরেকটু বাড়িয়ে দিতো, তবে ব্যবসা ভালো হতো।’

যশোর শহরের পুরানো ও নামি দোকান খেলাঘরের স্বত্বাধিকারী কাজী শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমার এখানে আর্জেন্টিনার জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে ব্রাজিল ও পর্তুগাল।’

মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow