বড় দরপতনের পর বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের মূল্য 

ডলারের মান এবং তেলের দাম কমে যাওয়ায় উদ্বেগ কমেছে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক সুদের হারে। এতে বিশ্ববাজারে বড় দরপতনের পর ফের ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের বাজার। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এখনো অস্থির স্বর্ণের বিশ্ববাজার।  ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার (২৫ মার্চ) মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্পট গোল্ডের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯০ থেকে ৪ হাজার ৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সপ্তাহের শুরুর দাম অনুযায়ী ২ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সোমবার স্বর্ণের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৯৭.৯৯ ডলারে নেমে যাওয়ার পর এটিই প্রথম বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানো। রয়টার্স জানিয়েছে, ডলারের মান কমে যাওয়ায় স্বর্ণ কেনা আগের চেয়ে সাশ্রয়ী হয়েছে, ফলে এর চাহিদা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জেপি মরগান এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ এখনও ঊর্ধ্বমুখী। জেপি মরগান এক নোটে জানিয়েছে, ‘ডলারের শক্তি এবং ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার কারণে স্বর্ণের দাম যুদ্

বড় দরপতনের পর বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের মূল্য 

ডলারের মান এবং তেলের দাম কমে যাওয়ায় উদ্বেগ কমেছে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক সুদের হারে। এতে বিশ্ববাজারে বড় দরপতনের পর ফের ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের বাজার। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এখনো অস্থির স্বর্ণের বিশ্ববাজার। 

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার (২৫ মার্চ) মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্পট গোল্ডের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯০ থেকে ৪ হাজার ৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সপ্তাহের শুরুর দাম অনুযায়ী ২ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত সোমবার স্বর্ণের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৯৭.৯৯ ডলারে নেমে যাওয়ার পর এটিই প্রথম বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানো।

রয়টার্স জানিয়েছে, ডলারের মান কমে যাওয়ায় স্বর্ণ কেনা আগের চেয়ে সাশ্রয়ী হয়েছে, ফলে এর চাহিদা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জেপি মরগান এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ এখনও ঊর্ধ্বমুখী।

জেপি মরগান এক নোটে জানিয়েছে, ‘ডলারের শক্তি এবং ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার কারণে স্বর্ণের দাম যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ নিচে থাকলেও, ঐতিহাসিকভাবে এই দরপতন স্বর্ণ কেনার একটি কৌশলগত সুযোগ। এই সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, স্বর্ণের বাজার চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।’

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও ২.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩.০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৫১.৩৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৬০.৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়া শুরু করলেও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা সোনা) মূল্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা ষষ্ঠবারের মতো স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১০ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২২ শতাংশ কমে যাওয়ার প্রভাবে দেশের বাজারে এই বড় পরিবর্তন এসেছে।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ১৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৯০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৬১৬ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায়। টানা ছয় দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ২৮ হাজার ৯৮৫ টাকা কমল। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow