বড় ব্যবধানে জয় পেলেন গয়েশ্বর

ঢাকা-৩ ( কেরানীগঞ্জ) আসনে টানটান উত্তেজনার নির্বাচনী লড়াই শেষে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর চেয়ে ১৬ হাজার ৫৫৩ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে তিনটার দিকে ১২৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত এ প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে মোট ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫৫৩। এছাড়াও এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মো. সুলতান আহম্মদ খাঁন (হাতপাখা) পেয়েছেন ৬ হাজার ২৪৫ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফারুক (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ৭০ ভোট, বাংলাদেশ সমাজ তান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর প্রার্থী মজিবুর হাওলাদার (মই) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৯৬ ভোট, গণফোরাম’র প্রার্থী মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদ

বড় ব্যবধানে জয় পেলেন গয়েশ্বর

ঢাকা-৩ ( কেরানীগঞ্জ) আসনে টানটান উত্তেজনার নির্বাচনী লড়াই শেষে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর চেয়ে ১৬ হাজার ৫৫৩ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে তিনটার দিকে ১২৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত এ প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে মোট ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫৫৩।

এছাড়াও এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মো. সুলতান আহম্মদ খাঁন (হাতপাখা) পেয়েছেন ৬ হাজার ২৪৫ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফারুক (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ৭০ ভোট, বাংলাদেশ সমাজ তান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর প্রার্থী মজিবুর হাওলাদার (মই) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৯৬ ভোট, গণফোরাম’র প্রার্থী মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী (উদীয়মান সুর্য) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৭৪ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস’র প্রার্থী মোহাম্মদ জাফর (ডাব) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৫০ ভোট, গণসংহতি আন্দোলন-এর প্রার্থী মো. বাচ্চু ভুইয়া পেয়েছেন ৩৭৮ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. সাজ্জাদ (ট্রাক) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৬ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনির হোসেন (ফুটবল) পেয়েছেন ৩১০ ভোট।

আসটিতে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৫৯ জন। এরমধ্যে ভোট কাষ্ট হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৭৮ ভোট। বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৬৪২ ভোট।

জানা যায়, এ আসনে গণভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭১২টি। যাহা সংসদ নির্বাচনের থেকে ১৪৩৪ টি ভোট বেশি। এরমধ্যে হ্যাঁ ভোট ১লাখ ৩৭ হাজার ৪৭ ভোট পড়ে জয় যুক্ত হয়েছে। না ভোট পড়েছে ৪৪ হাজার ৬৩৭ টি, এবং বাতিল হয়েছে ১৩ হাজার ২৮ টি।

নির্বাচনের শুরু থেকেই এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যায়। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে কখনও ব্যবধান কমেছে, কখনও বেড়েছে—তবে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

ফলাফল ঘোষণার পরপরই কেরানীগঞ্জ জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও তাৎক্ষণিক সমাবেশ করতে দেখা যায় দলীয় সমর্থকদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-৩ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এলাকা হিসেবে বিবেচিত। প্রধান দুই রাজনৈতিক ধারার প্রার্থীর সরাসরি লড়াই এ আসনের নির্বাচনী উত্তাপ বরাবরই বাড়িয়ে তোলে।

চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। তবে ১২৬টি কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট সূত্র গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিজয় নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য অতীতে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কেরানীগঞ্জের আসন থেকে এবারই প্রথম দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেন। আর প্রথমবারের অংশগ্রহণেই জয় পেয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিলেন বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow