ভারতীয় তরুণীকে অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে জামালপুরে যুবক গ্রেফতার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে জামালপুরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এর আগে দুপুরে তাকে সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতার মোস্তাফিজুর রহমান মেহেদী (১৯) জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে এবং একেএম মেমোরিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। জেলা পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সূতি থানার ধূলি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে গত ৬ জুলাই থেকে ওই তরুণী মেহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মেহেদী ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও তার পরিবারের সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামে পাঠাতে শুরু করেন। এ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে জামালপুরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এর আগে দুপুরে তাকে সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার মোস্তাফিজুর রহমান মেহেদী (১৯) জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে এবং একেএম মেমোরিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জেলা পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সূতি থানার ধূলি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে গত ৬ জুলাই থেকে ওই তরুণী মেহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মেহেদী ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও তার পরিবারের সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামে পাঠাতে শুরু করেন। একই সঙ্গে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর আইনজীবী ভাই ভারতের সূতি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি, স্ক্রিনশট ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ই-মেইলের মাধ্যমে জামালপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে পাঠানো হয়।
গত ১৭ জুলাই অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর কালিকাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যা ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) সোহাগ রানা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিওর অপব্যবহার এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে জামালপুর জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।
হৃদয় আহম্মেদ/কেজে/এএসএম
What's Your Reaction?