ভারতীয় রেশমাকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশইন, নিজ দেশে ফিরতে ঘুরছেন পথে পথে

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও দেশটির পুলিশের বিরুদ্ধে এক ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় এমনই এক ভুক্তভোগী নারী, রেশমা খাতুনের সন্ধান পাওয়া যায়। তার সঙ্গে রয়েছে এক শিশু সন্তান। চোখেমুখে আতঙ্ক আর চরম অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে তিনি এখন নিজ জন্মভূমিতে ফেরার আকুল উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন। রেশমা খাতুন জানান, তিনি ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা। মুম্বাইয়ের একটি কারখানায় কাজ করার সময় সেখানকার পুলিশ তাকে এবং আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে আটক করে। ওই সময় তিনি বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করে প্রমাণপত্র দেখানোর অনুরোধ করলেও পুলিশ তা সম্পূর্ণ আমলে নেয়নি। পরে তাকে আটককৃত অন্যদের সঙ্গে বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে গভীর রাতে অন্য একটি সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাংলাদেশে কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কেউ না থাকায় রেশমা তার সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় পথচারীরা তার অসহায়ত্ব দেখে মানবিক কারণে আর্থিক সহায়তা দিয়ে বাসে তুলে বেনাপোল

ভারতীয় রেশমাকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশইন, নিজ দেশে ফিরতে ঘুরছেন পথে পথে

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও দেশটির পুলিশের বিরুদ্ধে এক ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় এমনই এক ভুক্তভোগী নারী, রেশমা খাতুনের সন্ধান পাওয়া যায়। তার সঙ্গে রয়েছে এক শিশু সন্তান। চোখেমুখে আতঙ্ক আর চরম অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে তিনি এখন নিজ জন্মভূমিতে ফেরার আকুল উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

রেশমা খাতুন জানান, তিনি ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা। মুম্বাইয়ের একটি কারখানায় কাজ করার সময় সেখানকার পুলিশ তাকে এবং আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে আটক করে। ওই সময় তিনি বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করে প্রমাণপত্র দেখানোর অনুরোধ করলেও পুলিশ তা সম্পূর্ণ আমলে নেয়নি। পরে তাকে আটককৃত অন্যদের সঙ্গে বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে গভীর রাতে অন্য একটি সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশে কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কেউ না থাকায় রেশমা তার সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় পথচারীরা তার অসহায়ত্ব দেখে মানবিক কারণে আর্থিক সহায়তা দিয়ে বাসে তুলে বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার উপায় খুঁজতে বেনাপোল সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন।

স্থানীয় সীমান্তবাসীরা জানান, রেশমা যদি প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক হন, তবে মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এদিকে, সীমান্তে ভারতীয় নাগরিক দাবি করা ওই নারী প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করলেও সেখানে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে বিষয়টি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে বলে সীমান্ত সূত্র জানিয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের করণীয় তেমন কিছু নেই। বিষয়টির সমাধান হয়তো বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow