ভালো পদ পেতে ক্ষমতাবানদের কাছে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ
মন্ত্রী ও বিএনপি নেতাদের দিয়ে নিজেদের পক্ষে ডিও দিচ্ছেন কর্মকর্তারা বিধিমালা অনুযায়ী নিজের পক্ষে কাউকে দিয়ে ডিও দেওয়া ‘অসদাচরণ’ তদবিরের শাস্তি তিরস্কার থেকে চাকরিচ্যুতি পদায়ন-পদোন্নতিতে ডিও-কে বিবেচনায় না নেওয়ার অনুরোধ বিশেষজ্ঞদের ভালো পদ পেতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন সরকারের মন্ত্রী, বিএনপি নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন, ক্ষমতাবান এসব ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিজেদের পক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন। এদের অবসরে যাওয়া অনেক কর্মকর্তাও রয়েছেন, যারা চুক্তিতে নিয়োগপ্রত্যাশী। ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা কাউকে দিয়ে নিজের পক্ষে তদবির করা ‘অসদাচরণ’। ‘অসদাচরণ’ এর ক্ষেত্রে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী গুরু ও লঘুদণ্ড দেওয়া যাবে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলারা জানিয়েছেন, পদোন্নতি ও ভালো পদায়নের জন্য যে কর্মকর্তারা তদবির করছেন এবং যাদের মাধ্যমে তদবির করছেন উভয়েই বেআইনি কাজ করছেন। তবে ডিও যেহেতু আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে, তাই এগুলো তথ্য হিসেবে নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ জনপ্রশাসন
- মন্ত্রী ও বিএনপি নেতাদের দিয়ে নিজেদের পক্ষে ডিও দিচ্ছেন কর্মকর্তারা
- বিধিমালা অনুযায়ী নিজের পক্ষে কাউকে দিয়ে ডিও দেওয়া ‘অসদাচরণ’
- তদবিরের শাস্তি তিরস্কার থেকে চাকরিচ্যুতি
- পদায়ন-পদোন্নতিতে ডিও-কে বিবেচনায় না নেওয়ার অনুরোধ বিশেষজ্ঞদের
ভালো পদ পেতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন সরকারের মন্ত্রী, বিএনপি নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন, ক্ষমতাবান এসব ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিজেদের পক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন। এদের অবসরে যাওয়া অনেক কর্মকর্তাও রয়েছেন, যারা চুক্তিতে নিয়োগপ্রত্যাশী।
‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা কাউকে দিয়ে নিজের পক্ষে তদবির করা ‘অসদাচরণ’। ‘অসদাচরণ’ এর ক্ষেত্রে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী গুরু ও লঘুদণ্ড দেওয়া যাবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলারা জানিয়েছেন, পদোন্নতি ও ভালো পদায়নের জন্য যে কর্মকর্তারা তদবির করছেন এবং যাদের মাধ্যমে তদবির করছেন উভয়েই বেআইনি কাজ করছেন। তবে ডিও যেহেতু আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে, তাই এগুলো তথ্য হিসেবে নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে ডিও-কে বিবেচনায় না নেওয়ার অনুরোধ করেন। যোগ্যতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। তারা বলছেন, বিবেচনায় না নিলেই ডিও দেওয়া বন্ধ হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তারা ফোন ধরেননি।
পদায়ন-নিয়োগের কিছু তদবিরের চিঠি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. সাইফুল ইসলামকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে পদায়নের অনুরোধ জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর কাছে আধা-সরকারি পত্র বা ডিও (ডেমি অফিসিয়াল) লেটার পাঠিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
তিনি লিখেছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. সাইফুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচিত। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি মেধা ও যোগ্যতার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি একজন মেধাবী কর্মকর্তা। তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে পদায়ন করা হলে তিনি তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পর্যটন খাতে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তাকে পদে পদায়ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই।
সাইফুল ইসলাম এক সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের একান্ত সচিব (পিএস) ছিলেন।
পদায়ন ও বিমানমন্ত্রীর ডিও দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আরও পড়ুন
শূন্যপদে বসতে তদবিরে ব্যস্ত শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা
শঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা, পদ বাঁচাতে ‘দৌড়ঝাঁপ’
জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ’র কাছে চিঠি লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, বিসিএস (মৎস্য) ক্যাডার থেকে উপসচিব পুলে আগত সাবেক যুগ্মসচিব ড. বেগম আনওয়ারীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও জানি। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৎস্য বিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। চাকরি জীবনে তিনি মৎস্য অধিদপ্তরের ১৯৭৯ সালে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ২০০৯ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে যোগদান করেন। ২০১৪ সালে তিনি যুগ্মসচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
এমতাবস্থায়, আনওয়ারীকে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জনপ্রশাসন উপদেষ্টাকে লিখেছেন, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের অষ্টম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। অত্যন্ত দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য এই কর্মকর্তা ২০০৪ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সিইও পদে দায়িত্ব পালনকালে সেনানিবাস এলাকায় আইন অমান্য ও সরকারের বিরুদ্ধে কটূক্তিসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৩(৩) এবং ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল অ্যাক্টের ৩(৩) ধারায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামুনকে রাজনৈতিক হয়রানিসহ বারবার পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয় এবং দীর্ঘ সময় শাস্তিমূলক ওএসডি থাকতে বাধ্য করা হয়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মামুনকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আব্দুল্লাহ আল মামুনকে উপযুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান বিএনপির এ নেতা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের কাছে একটি ডিও দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, খাগড়াছড়ির এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা। তিনি গত ১৯ মে পিআরএলে গমন করেন। তিনি একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম রয়েছে। স্থানীয় অধিবাসী প্রকৌশলী হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও জনআকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে তুলনামূলক অধিক ধারণা রাখায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত হবে।
এমতাবস্থায়, পিআরএল ভোগরত নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমাকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী শূন্যপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিনিয়র সচিবকে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
বিএনপির সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ওসমান ফারুক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি চিঠিতে প্রশাসন ক্যাডারের অষ্টম ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব (সচিব পদে পদোন্নতির জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনাপ্রাপ্ত) মো. গোলাম ইয়াহিয়াকে যে কোনো মন্ত্রণালয়ে বা বিভাগে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগ ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ কর্মকর্তার বিষয়ে তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ইয়াহিয়া আমার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করায় আমার তাকে ব্যক্তিগত ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছে। তিনি একজন সজ্জন, মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠা উঁচুমানের। তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে সরকারি দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম।
আরও পড়ুন
শনিবারেও অফিস করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা
বরখাস্ত হলেন আন্দোলন করা সচিবালয়ের ১৪ কর্মচারী
সচিবালয়ে নিজ দফতরের কর্মকর্তাকে ঘুষ সেধে বরখাস্ত কর্মচারী
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কাছে আরেকটি ডিও দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি লিখেছেন, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুল মান্নানকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও জানি। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। চাকরিজীবনে তিনি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে কর্মরত ছিলেন। তাকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য পদে নিয়োগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ডিও নয়, যোগ্যতাকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত
সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অনুযায়ী এ রকম ডিও দেওয়া বেআইনি। তো এখন যারা চিঠি আনতে যাচ্ছেন তারাও বেআইনি কাজ করছেন, যারা দিচ্ছেন তারাও বেআইনি কাজ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘এখন জনপ্রশাসনের হাতে যেটা আছে সেটা হলো— আচ্ছা ঠিক আছে, জনপ্রশাসন এটাকে শাপ হিসেবে না নিয়ে— ইনফরমেশন হিসেবে নিয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলো, খোঁজখবর নিলো। খোঁজখবর নিয়ে যদি দেখা যায় যে আপনার কোনো অফিসার অসাধারণ ভালো অফিসার, সততায়, নিষ্ঠায়, কর্মে- তাহলে তাকে তারা নিয়োগ করতে পারে। আর যদি দেখা যায় যে না, এটা দেওয়ার মতো নয়, তাহলে তারা ওই এমপি সাহেব বা যিনি ডিও দিছেন তারে একটা চিঠি দিয়েও জানাতে পারেন, মুখেও জানাইতে পারেন যে আপনে যে অফিসারকে দিছেন এটা সম্ভব নয়।’
আবদুল আউয়াল মজুমদার আরও বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে যেহেতু এই কালচার চলে আসছে। এটা সহজে বন্ধ করতে পারবেন না। কিন্তু এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এই বেআইনি কাজটা সতর্কতার সঙ্গে, দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।’
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই ডিও কালচার তো আগে খুব ছিল। যে সে আমার লোক। তাকে দিয়ে আমি কাজ করাতে পারব। এখানে দুটি দিকই আছে, একটা হচ্ছে- সে দক্ষ হতে পারে বা রাজনৈতিক আনুগত্য থাকতে পারে। কোনটা আছে এইটা তো জানা নেই।’
আরও পড়ুন
সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ৯ দফা দাবি পেশ
সচিবালয়ে ২ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে কর্মচারীরা
কর্মচারীদের দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব, মারামারির পর থমথমে সচিবালয়
তিনি বলেন, ‘আমার মতে, ডিও যতই দিক, জনপ্রশাসনের উচিত যে যেই জায়গায় যোগ্য তাকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া। যোগ্যতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ একেকজনের একেক দিকে দক্ষতা থাকে। সবার তো সব জায়গায় কাজ করার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা থাকে না।’
‘এই সরকার নতুন আসছে, তারা যেহেতু পরিবর্তন চায়, এই সরকারের উচিত ডিও-র দিকে না তাকিয়ে ওই কর্মকর্তার সম্পূর্ণ সার্ভিস হিস্ট্রি দেখে যদি পদায়ন করে তাহলে আগের কালচারটা ফিরে আসবে না। ডিও দিক, জনপ্রশাসন এটাকে পাত্তা না দিলেই হয়। ডিও-কে যদি মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে তো আর ডিও আসবে না।’
সাবেক এ অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আগে তো ডিও ফাইলে রেখে দেওয়া হতো। এটা পরে তার নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু, সেই কালচার তো আর নেই।’
তদবির নিয়ে যা আছে বিধিমালায়
‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ এর বিধি-২০ এ বলা হয়েছে- ‘কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো বিষয়ে তার পক্ষে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে অনুরোধ জানাতে পারবেন না।’
বিধি-৩০ এ বলা হয়েছে- ‘কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি সংক্রান্ত কোনো দাবির সমর্থনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার বা কোনো সরকারি কর্মচারীর ওপর কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বহিঃপ্রভাব খাটাতে পারবেন না।’
বিধি-৩১ এ বলা হয়েছে- কোনো সরকারি কর্মচারী নিজের জন্য বিদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ সংগ্রহ বা বিদেশে প্রশিক্ষণের সুবিধা লাভের জন্য দেশে অবস্থিত কোনো বিদেশি মিশন বা সাহায্য সংস্থার কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো তদবির করতে পারবেন না।
আচরণ বিধিমালায় বিধি লঙ্ঘনের শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, এই বিধিমালার যে কোনো বিধান লঙ্ঘন সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার আওতায় অসদাচরণ বলে গণ্য হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এ বলা হয়েছে, অসদাচরণের জন্য বিধিমালায় উল্লিখিত লঘু ও গুরুদণ্ডের যে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে।
শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালায় বিভিন্ন অপরাধের জন্য লঘু এবং গুরুদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। তিরস্কার, পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা, দায়িত্বে অবহেলার কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতির সম্পূর্ণ অংশ বা অংশবিশেষ আদায়, বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিত করা হচ্ছে লঘুদণ্ড।
অন্যদিকে গুরুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে- নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিত করা, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান, চাকরি থেকে অপসারণ ও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।
আরএমএম/এমআরএম/এমএফএ
What's Your Reaction?