ভিড় এড়িয়ে একা থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা কি মানসিক অসুস্থতা?
অনেকেই একা থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। কেউ ফোনে খুব কম কথা বলেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সময় দেন। আবার কেউ একা থাকতেই বেশি ভালোবাসেন। পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর চেয়ে নিজের জগতে নিজের মতো করে পছন্দ করেন। কিন্তু কাছের মানুষের এই একা থাকা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন প্রশ্ন ওঠে-এটা কি মানসিক সমস্যার লক্ষণ, নাকি স্বাভাবিক আচরণ? এই প্রশ্নের উত্তরে মনোবিদরা কী বলছে আসুন জেনে নেওয়া যাক - মনোবিদদের মতে, একা থাকতে ভালো লাগা সব সময় মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত নয়। ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী মানুষদের কাছে একা থাকা মানে মানসিক শক্তি সঞ্চয় করা। এই সময়টুকুতে তারা নিজেকে গুছিয়ে নেন, ভাবনাগুলো পরিষ্কার করেন এবং মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন। একা থাকতে ভালো লাগার সঙ্গে যদি দীর্ঘস্থায়ী হতাশা, উদ্বেগ বা সামাজিক ও পেশাগত কাজকর্মে অংশগ্রহণে অসুবিধা না থাকে, তাহলে সেটি স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর আচরণ হিসেবেই ধরা যায়। একা থাকা মানেই নেতিবাচক কিছু নয়। বরং ইতিবাচকভাবে একাকী সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক মানুষের মাঝে থাকলে যেমন আনন্দ
অনেকেই একা থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। কেউ ফোনে খুব কম কথা বলেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সময় দেন। আবার কেউ একা থাকতেই বেশি ভালোবাসেন। পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর চেয়ে নিজের জগতে নিজের মতো করে পছন্দ করেন।
কিন্তু কাছের মানুষের এই একা থাকা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন প্রশ্ন ওঠে-এটা কি মানসিক সমস্যার লক্ষণ, নাকি স্বাভাবিক আচরণ? এই প্রশ্নের উত্তরে মনোবিদরা কী বলছে আসুন জেনে নেওয়া যাক -
মনোবিদদের মতে, একা থাকতে ভালো লাগা সব সময় মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত নয়। ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী মানুষদের কাছে একা থাকা মানে মানসিক শক্তি সঞ্চয় করা। এই সময়টুকুতে তারা নিজেকে গুছিয়ে নেন, ভাবনাগুলো পরিষ্কার করেন এবং মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন। একা থাকতে ভালো লাগার সঙ্গে যদি দীর্ঘস্থায়ী হতাশা, উদ্বেগ বা সামাজিক ও পেশাগত কাজকর্মে অংশগ্রহণে অসুবিধা না থাকে, তাহলে সেটি স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর আচরণ হিসেবেই ধরা যায়।
একা থাকা মানেই নেতিবাচক কিছু নয়। বরং ইতিবাচকভাবে একাকী সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক মানুষের মাঝে থাকলে যেমন আনন্দ পাওয়া যায়, তেমনই তা মানসিক চাপও তৈরি করতে পারে। ভিড়ের মধ্যে সবার সঙ্গে মানিয়ে চলা, অন্যরা কী ভাবছে তা নিয়ে সচেতন থাকা, নিজের আচরণ বদলে নেওয়ার চাপ-এসব মিলিয়ে মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নির্জন পরিবেশে একা থাকলে মানুষের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে পারে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ও জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে সুবিধা হয়। অন্যদের কাছ থেকে সাময়িক বিরতি দেহ ও মনে নতুন উদ্যম এনে দেয়, জীবনকে করে আরও গতিশীল।
তাই জীবনে এগিয়ে যেতে ও নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজেকে তৈরি করতে নিয়মিত নির্জনে কিছু সময় কাটানো প্রয়োজন। এছাড়া নিজের অনুভূতির দিকে খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। একা থাকতে ভালো লাগা শুধু স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে, নাকি ধীরে ধীরে মানুষ ও সমাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার লক্ষণ-এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজের কাছেই খুঁজতে হবে।
দৈনন্দিন কাজকর্ম ও সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে চলছে কি না, দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ বা বিষণ্নতা কাজ করছে কি না-এসব বিষয় ভেবে দেখা দরকার। নিজের কাছে স্পষ্ট উত্তর না পেলে বা অস্বস্তি বাড়তে থাকলে বন্ধু, পরিবার কিংবা মনোবিদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, মিডিয়াম
আরও পড়ুন:
মানসিকভাবে শক্ত নারীরা কি সত্যিই ‘ম্যারেজ মেটিরিয়াল’ নন?
ডিজিটাল যুগে দিন দিন আমাদের সহনশীলতা কমছে কেন
এসএকেওয়াই/
What's Your Reaction?