ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু : হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল সাজিনাজে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন শিশুর মা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আমাতুল মাকনুন নামে ওই নারী আটজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (তৃতীয়) আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সহযোগী কনসালটেন্ট ডা. আনোয়ার হোসেন (৫০), সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান (৪৫), শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান (৬০), কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ (৫০), ডা. মো. তানিম সাফায়েত চৌধুরী আলভি (৪৫) ও সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী(৫২)। এছাড়া সাজিনাজ হাসপাতালে ওই সময়ে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদেরও আসামি করা হয়েছে। বাদীর আদালতে দাখিলকৃত আর্জি সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সি সেকশন) উনার পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর ওই বাচ্চার শ্বাসকষ্ট থাকার কারণে নগরীর বায়েজিদ
চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল সাজিনাজে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন শিশুর মা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আমাতুল মাকনুন নামে ওই নারী আটজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন (তৃতীয়) আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সহযোগী কনসালটেন্ট ডা. আনোয়ার হোসেন (৫০), সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমেদ, পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. মিনহাজুল হাসান (৪৫), শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান (৬০), কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. মো. ফজলে মারুফ (৫০), ডা. মো. তানিম সাফায়েত চৌধুরী আলভি (৪৫) ও সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী(৫২)। এছাড়া সাজিনাজ হাসপাতালে ওই সময়ে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদেরও আসামি করা হয়েছে।
বাদীর আদালতে দাখিলকৃত আর্জি সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সি সেকশন) উনার পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর ওই বাচ্চার শ্বাসকষ্ট থাকার কারণে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এলাকার সাজিনাজ হাসপাতালে এনআইসিইউতে ভর্তি করানো হলে ডা. ফয়সাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। পরবর্তীতে তিনি ঈদুল আজহার ছুটিতে গেলে নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেন বাচ্চার নিয়মিত চিকিৎসা দেন।
চিকিৎসার ৫ দিনের মাথায় ভিজিটিং আওয়ারে বাচ্চাকে দেখতে গেলে বাম হাতে একটি ব্যান্ডেজ দেখতে পান এবং চিকিৎসকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘কিছু না’ বলে তারা এড়িয়ে যান৷ পরবর্তীতে ডা. ফয়সাল ছুটি থেকে ফিরে এসে বাচ্চার হাত দেখালে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চেয়ে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা পাননি।
পরবর্তীতে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেন বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে না। ওই সময় হাতের কালোভাব শুরুতে কিছুটা কমলেও দুই একদিন পর আবারও তা খারাপের দিকে যাওয়ার কারণে পেডিয়াট্রিক সার্জন ডা. আদনান ওয়ালিদের মাধ্যমে ছোট একটা অপারেশন করানো হয়৷
এরপর তারা আইসিইউ এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ব্যান্ডেজ খুলে দেখে বাচ্চার হাতের কবজি পর্যন্ত গ্যাংগ্রিন এবং এর কারণে বাচ্চার পুরো শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। পরবর্তীতে ইবনেসিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য অপারগতা প্রকাশ করলে এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ওইখানে ডাক্তারদের পরামর্শমতে বাম হাত কেটে ফেলা হলেও বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।
গত ১২ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া নবজাতক শিশুটির মায়ের একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে সাজিনাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পূর্বের হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের সময় শিশুটির ডান পায়ের তালুতে কাটা দাগ ও বাম হাতের উপরের অঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফোলা বিদ্যমান ছিলো যা ভর্তির সময়ই নবজাতকের পিতাকে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার বাদী আমাতুল মাকনুন কালবেলাকে জানান, সিজারের পর থেকে আমি অসুস্থ থাকায় এতদিন এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। এখন সুস্থতা অনুভব করলে আদালতে এই ব্যাপারে মামলা করতে এসেছি। আশা করছি ন্যায়বিচার পাব।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা জানান, ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদালত আমাদের দেওয়া আর্জি আমলে নিয়ে সিআইডিকে এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী জানান, আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে শুনেছি তবে এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আগাব।
What's Your Reaction?