ভোটের দিন দেশে ফিরতে পারছেন না আলোচিত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল, কারণ কী

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সোচ্চার থাকা সাবেক সাংবাদিক এবং বর্তমানে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন না। সশরীরে দেশে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি ফিরতে পারছেন না বলে নিজেই জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ছুটির আবেদন করেছিলেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তবে সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়, যেখানে নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো রাষ্ট্রদূত বা মিশন প্রধানকে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম ও প্রশাসনিক নীতিমালার কারণে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তার ছুটির আবেদনটি অনুমোদন করেননি। ফলে তাকে মেক্সিকোতেই অবস্থান করতে হচ্ছে। ফেসবুক পোস্টে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আমি টানা দেড় দশক পথ হেঁটেছি। ইতিহ

ভোটের দিন দেশে ফিরতে পারছেন না আলোচিত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল, কারণ কী

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সোচ্চার থাকা সাবেক সাংবাদিক এবং বর্তমানে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন না। সশরীরে দেশে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি ফিরতে পারছেন না বলে নিজেই জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ছুটির আবেদন করেছিলেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তবে সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়, যেখানে নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো রাষ্ট্রদূত বা মিশন প্রধানকে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম ও প্রশাসনিক নীতিমালার কারণে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তার ছুটির আবেদনটি অনুমোদন করেননি। ফলে তাকে মেক্সিকোতেই অবস্থান করতে হচ্ছে।

ফেসবুক পোস্টে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আমি টানা দেড় দশক পথ হেঁটেছি। ইতিহাস সাক্ষী, গণতন্ত্র কখনো দয়া ভিক্ষা করে ফিরে আসে না; গণতন্ত্র ফিরে আসে মানুষের অদম্য সাহস আর ত্যাগের বিনিময়ে। অনেকে জানতে চাইছেন, ভোটের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে আমি কি আসছি? এর উত্তর- না। পারছি না ভোট উৎসবে শামিল হতে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সশরীরে ভোট দেবেন বলেই তিনি পোস্টাল ব্যালটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেননি। তিনি চাইলে ছুটি-ছাটার তোয়াক্কা না করেই দেশে ফিরতে পারতেন, কিন্তু কাউকে বিব্রত বা চাপের মুখে ফেলতে চান না বলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এই রাষ্ট্রদূত লেখেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬- এই দিনের দিকে তাকিয়ে আছে একটি জাতির নিঃশ্বাস। ভোটাধিকার শুধু একটি সাংবিধানিক শব্দ নয়, এটি একটি জাতির সম্মান ও অস্তিত্বের প্রশ্ন। জনগণের প্রত্যাশিত রায়ের মধ্য দিয়েই দায়িত্ব লাভ করবেন একজন ক্যারিশম্যাটিক ও যোগ্যতম নেতা, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আত্মমর্যাদার নতুন পথে এগিয়ে যাবে। 

উল্লেখ্য, মুশফিকুল ফজল আনসারী জাতিসংঘের সদর দপ্তর, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow