মগড়া পালস ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে মেধা পুরস্কার ও অভিভাবক সমাবেশ 

টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার মগড়া পালস ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য মেধা পুরস্কার প্রদান ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ৬৩ জন শিক্ষার্থী ও সাতজন শিক্ষককে তাদের একাডেমিক উৎকর্ষ, নিয়মিত উপস্থিতি ও সদাচরণের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে অনুপ্রেরণা জাগায়। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই মহতী আয়োজনের সার্বিক অর্থায়ন করে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এসএসসি ১৯৯৮ ব্যাচ। তাদের এই উদ্যোগ বিদ্যালয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকরা উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ১৯৯৮ ব্যাচের সদস্যরা উপস্থিত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন, যা অনুষ্ঠানের আবেগঘন পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক খালেদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ১৯৯৮ ব্যাচের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন—

মগড়া পালস ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে মেধা পুরস্কার ও অভিভাবক সমাবেশ 

টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার মগড়া পালস ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য মেধা পুরস্কার প্রদান ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ৬৩ জন শিক্ষার্থী ও সাতজন শিক্ষককে তাদের একাডেমিক উৎকর্ষ, নিয়মিত উপস্থিতি ও সদাচরণের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে অনুপ্রেরণা জাগায়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই মহতী আয়োজনের সার্বিক অর্থায়ন করে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এসএসসি ১৯৯৮ ব্যাচ। তাদের এই উদ্যোগ বিদ্যালয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকরা উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ১৯৯৮ ব্যাচের সদস্যরা উপস্থিত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন, যা অনুষ্ঠানের আবেগঘন পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক খালেদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ১৯৯৮ ব্যাচের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শংকর চন্দ্র মণ্ডল, আবুল খায়ের গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুর রাজ্জাক এফসিএ, পূবালী ব্যাংক কমরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক এস এম মনিরুজ্জামান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রুহুল আমিন, নাসা গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হাসান হিমেল এবং জনতা ব্যাংক আশেকপুর শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক।

প্রাক্তন শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক অমূল্য কর্মকার ও মো. হাবিবুর রহমান বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বর্তমান সিনিয়র শিক্ষক মো. সানোয়ার হোসেনও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রথমবারের মতো ‘বর্ষসেরা শিক্ষক ২০২৫’ পুরস্কার প্রদান। বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গোপন ভোটের মাধ্যমে বর্ষসেরা শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক মূল্যায়নের একটি অনন্য উদাহরণ। সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান 'বর্ষসেরা শিক্ষক ২০২৫' পুরস্কার অর্জন করেন। এ উদ্যোগ শিক্ষকদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং নিয়মিত অধ্যয়ন, সময় ব্যবস্থাপনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তারা শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, সন্তানদের প্রতি নিয়মিত নজরদারি ও সহানুভূতিশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া, ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্তানদের ভালো বন্ধু নির্বাচন ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়; বরং নৈতিকতা, মানবিকতা এবং জীবনদক্ষতা শেখানোও তাদের দায়িত্ব। শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো যত্ন নেওয়া, তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে সহায়তা করা এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের মেধা পুরস্কার অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে এবং তাদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ায়। একই সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে এসএসসি ১৯৯৮ ব্যাচের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য ব্যাচকেও শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। পুরো আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত, শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক, যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow