মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান অর্ডার সমাপ্ত হতে যাচ্ছে?

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘ছাগায় যেমন বাঘারে ডরায়, বাঘায় তেমন ছাগারে ডরায়।’ সত্যি সত্যি বাঘ যখন ছাগল শিকার করে, তখন ‘ডরায়’ কি না, তা কারও জানা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে বাঘের তুলনায় ছাগলের শক্তি ইরানকে ভয় পাচ্ছে এবং ইরান যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার পাওয়ারকে সত্যিই বেকায়দায় ফেলেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই যুদ্ধ এখন বিশ্ববাসীর কাছে বিস্ময়, ইরানের কাছে টিকে থাকার গৌরব আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘ইজ্জতের সওয়াল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৮ তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু করেছে। যাকে বলে ডিসাইসিভ ওয়ার। নিঃসন্দেহে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি আর কিছুদিন পর হয়তো ইরান হেরেও যেতে পারে। কিন্তু গত কয়েক দিনের এই অসম যুদ্ধে ইরান নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বলে গর্ব করা যুক্তরাষ্ট্রকে। যুদ্ধের এটি তৃতীয় ধাপ। ২০২৫ সালে সংক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আক্রমণের পর কাতারের মধ্যস্থতায় বিরতি ঘটেছিল। এরপর ইসরায়েলের প্ররোচনায় আবার হামলা শুরু হয় এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। হামলার শুরুতেই ইরানের সুপ্রিম নেতা আলী খামেনি, গুরুত্বপূর্ণ পার্লাম

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান অর্ডার সমাপ্ত হতে যাচ্ছে?

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘ছাগায় যেমন বাঘারে ডরায়, বাঘায় তেমন ছাগারে ডরায়।’ সত্যি সত্যি বাঘ যখন ছাগল শিকার করে, তখন ‘ডরায়’ কি না, তা কারও জানা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে বাঘের তুলনায় ছাগলের শক্তি ইরানকে ভয় পাচ্ছে এবং ইরান যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার পাওয়ারকে সত্যিই বেকায়দায় ফেলেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই যুদ্ধ এখন বিশ্ববাসীর কাছে বিস্ময়, ইরানের কাছে টিকে থাকার গৌরব আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘ইজ্জতের সওয়াল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ৮ তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু করেছে। যাকে বলে ডিসাইসিভ ওয়ার। নিঃসন্দেহে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি আর কিছুদিন পর হয়তো ইরান হেরেও যেতে পারে। কিন্তু গত কয়েক দিনের এই অসম যুদ্ধে ইরান নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বলে গর্ব করা যুক্তরাষ্ট্রকে।

যুদ্ধের এটি তৃতীয় ধাপ। ২০২৫ সালে সংক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আক্রমণের পর কাতারের মধ্যস্থতায় বিরতি ঘটেছিল। এরপর ইসরায়েলের প্ররোচনায় আবার হামলা শুরু হয় এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। হামলার শুরুতেই ইরানের সুপ্রিম নেতা আলী খামেনি, গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্টারিয়ান, খামেনি পরিবারের সদস্যসহ ১৩৭ জনকে বিমান হামলার মাধ্যমে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে।

যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল, ইরান দু-চার দিনের হামলার পরই আত্মসমর্পণ করবে। তারা পছন্দের শাসক বসিয়ে দেবে। কিন্তু যুদ্ধের মোড় নেয় ৩-৪ মার্চ। ইরান ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। সেই হরমুজ প্রণালী আর খুলতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ আক্রমণ চালিয়েও। এই প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে চাপ পড়ে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। শুধু তা-ই নয়, প্রতিশোধমূলক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে গেছে।

২১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব ওয়ার—একটি দেশ কতটা যুদ্ধবাজ হলে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নাম পাল্টে যুদ্ধমন্ত্রী রাখে, তা অনুমেয়) সিনেট ফরেন অ্যাফেয়ার্সের শুনানিতে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে বিধ্বস্ত ঘাঁটি, আধুনিক রাডার সিস্টেম, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ও অবকাঠামো তৈরির ব্যয় নেই। সেগুলোসহ ব্যয় হয়েছে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এবং এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য আরও ৬৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে।

যুদ্ধে দুই পক্ষই মিথ্যাচার করছে। যুদ্ধে মিথ্যাচার চলে, পরাজয়ের মুখে থাকা পক্ষও সফলতার গল্প শুনিয়ে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিথ্যাচার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ১৮ জন সার্ভিসম্যান, অর্থাৎ সেনা নিহত হয়েছেন। যদিও প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। সেন্টকম বলেছে, একশর কিছু বেশি সেনা আহত হয়েছেন, তবে তাঁদের ৭০ শতাংশ আবার কর্মে ফিরেছেন।

কিন্তু ২১ তারিখ দেশটির হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শুনানিতে সিনেটর টেড লিউ জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে পরিষ্কার জানিয়েছেন, পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম জানিয়েছে, ২১ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮২ জন সেনা আহত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পেন্টাগন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, আহত সার্ভিসম্যানের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে ৫০০ ছাড়িয়েছে।

যুদ্ধ যে মাত্রায় চলছে, তা অব্যাহত থাকলে এবং হরমুজ ও বাব-আল-মানদেব নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকলে আমাদের পেটের যুদ্ধ ভয়ানক আকার ধারণ করবে। ইয়েমেন ও ইরান যুদ্ধ করতে থাকবে অস্ত্রের বিরুদ্ধে। আমরা যুদ্ধ করব টিসিবির ট্রাকের পেছনে আগে লাইনে দাঁড়াতে।

এই যুদ্ধে দুই পক্ষই সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর এখন বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রই এই অপকর্ম শুরু করেছে। ইরানের সেতু ও রেলস্টেশনে হামলার পর প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েতের পানি শোধনাগার ও একাধিক বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইরান। ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরান-ইরাক সীমান্তের সালেমশেহ বর্ডার ক্রসিংয়ের যাত্রী টার্মিনালে হামলা চালায়, যেখানে দুজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এর জবাবে ২৩ জুলাই ইরান কুয়েতের স্থলবাহিনীর সদর দপ্তরে ব্যাপক হামলা চালায়। ওই সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অবস্থান করছিলেন।

প্রশ্ন আসতে পারে, ইরান কেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভূখণ্ডে হামলা করছে? উত্তর খুবই সহজ। এই দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এরা অনেকটা মাথার হেলমেটের মতো হয়ে ছিল। তবে রাজনীতি ঘুরছে। একমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়া অন্যান্য দেশগুলোর ভাবনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। উপসাগরীয় অন্য দেশগুলো ইরানের আক্রমণের পরও যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না।

কেন জড়াবে? যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মাথার ওপর বসে আছে নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে এবং সামরিক স্বার্থ হাসিল করছে, তারা নিজেদেরই ইরানের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ঘরের পাশে চীনের মতো জায়ান্টকে দূরে সরিয়ে রেখে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে তারা কেন সিনোফোবিয়ায় ভুগবে? একেবারে খাঁটি চিন্তা ধরা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।

তবে সৌদি আরব পড়েছে এক জটিল সমস্যায়। একদিকে ইরান তার বহুকালের শত্রু, অন্যদিকে চীনকেও নাখোশ করার উপায় নেই। ফলে পেট্রোডলারের দেশটি বহুদিকে হাত প্রসারিত করার চেষ্টা করছে। একদিকে চীনের শিষ্য পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক চুক্তি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিনিয়োগ। একদিকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের ব্যাপারে অনীহা, অন্যদিকে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান। সব মিলিয়ে দেশটি একটি জগাখিচুড়ির মধ্যে পড়েছে।

যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইয়েমেনের হুতিরা। ইয়েমেনের একদল হুতি নেতা গিয়েছিলেন ইরানের ধর্মীয় নেতা আলী খামেনির জানাজায়। ১৩ জুলাই তাঁরা ফিরে আসার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরামর্শে সৌদি আরব ইয়েমেনের এডেন এলাকায় অবস্থান করা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে দিয়ে রাজধানী সানার বিমানবন্দরের টারমাকে হামলা করায়, যাতে ইরানের ওই যাত্রীবাহী বিমান অবতরণ করতে না পারে।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের যুদ্ধ বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ ছিল। এই ঘটনার পর তা আবার চালু হলো। সেই সঙ্গে ইরান যুদ্ধও আরও একবার নতুন মোড় নিল। সানা বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর ২১ জুলাই ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরের বাব-আল-মানদেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে সৌদি আরবের তেল, রাসায়নিক ও সার আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। বিশ্বের ৮ শতাংশ তেল এই পথে রপ্তানি হয়। হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বাব-আল-মানদেব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির গলায় পাড়া পড়েছে। পাগল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করে তারা বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

লক্ষ করলেই দেখা যাবে, শেষ দফার যুদ্ধে ইসরায়েল অংশগ্রহণ করছে না এবং ইরানও ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে না। এর দুটি সম্ভাব্য কারণ হলো, ইসরায়েল ইরান, গাজা ও লেবাননে হামলা চালিয়ে যথেষ্ট শক্তি ক্ষয় করেছে। এত দূরের ইরানে হামলা করে তারা আর শক্তি ক্ষয় করতে চাইছে না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইউরোপ ও আমেরিকায় জনমত গড়ে উঠেছে।

ইরানের ক্ষেত্রে ইসরায়েলে হামলা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কুয়েত ও জর্দানের আকাশ ভেদ করে ইসরায়েলে হামলা চালাতে হয়। তাতে অনেক বেশি শক্তি ক্ষয় হয়।

সম্প্রতি ইরান এমন সব যুক্তরাষ্ট্রের গোপন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যেসব ঘাঁটি সম্পর্কে মিত্র দেশগুলো তো দূরের কথা, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সেনারাও জানতেন না। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দুটি ঘাঁটি পরপর ধ্বংসের পর এখন যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছে যে, এই যুদ্ধে পেছন থেকে সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। ইনিয়ে-বিনিয়ে তারা চীনের প্রচ্ছন্ন সমর্থনের কথাও বলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় বন্ধুদের এমন অভিযোগ অমূলক নয়। যদি রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে পেছন থেকে মদদ না দেয়, তাহলে নিজেদের পায়ে কুড়াল দিয়ে আঘাত করার মতো হবে। রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধে ঝুলিয়ে দিয়েছে ন্যাটো। ফলে রাশিয়ারও দায়িত্ব পড়েছে ন্যাটোর সবচেয়ে বড় হর্তাকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান যুদ্ধে ঝুলিয়ে দেওয়ার।

ইরান হেরে গেলে রাশিয়াও ইউক্রেন যুদ্ধে পরাজিত হবে। অন্যদিকে, পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকশন চীনকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, যদি ইরান হেরে যায়। চীনের জ্বালানির বিশাল চাহিদার দুটি প্রধান উৎস ভেনেজুয়েলা ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্র চোখের সামনে ডাকাতি করে ভেনেজুয়েলার দখল নিয়ে নিয়েছে। এখন ইরানকে নিলে চীনকেও জ্বালানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করে চলতে হবে, যা পরাজয়েরই শামিল। চীন কোনো ক্রমেই সেটা হতে দেবে না—বলে আমার ধারণা। এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেই ভয়ই পাচ্ছে।

তবে এই যুদ্ধ আগামী নভেম্বর মাসের আগে সমাপ্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মিডটার্ম নির্বাচন। ইতিমধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ওই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিতে পারেন।

তবে সবচেয়ে বড় অশনিসংকেত আমাদের জন্য। যুদ্ধ যে মাত্রায় চলছে, তা অব্যাহত থাকলে এবং হরমুজ ও বাব-আল-মানদেব নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকলে আমাদের পেটের যুদ্ধ ভয়ানক আকার ধারণ করবে। ইয়েমেন ও ইরান যুদ্ধ করতে থাকবে অস্ত্রের বিরুদ্ধে। আমরা যুদ্ধ করব টিসিবির ট্রাকের পেছনে আগে লাইনে দাঁড়াতে।

লেখক: সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক
[email protected]

এইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow