মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের কপালে ‘দুর্ভোগ’ আছে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি প্রচলিত কথা রয়েছে—সূর্য যেমন নিয়ম করে পূর্ব দিকে ওঠে, তেমন করেই ক্ষমতাসীন দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভস বা নিম্নকক্ষে আসন হারায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে প্রথা ভাঙার কারিগর হিসেবে দাবি করলেও ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি সেই পুরোনো এবং অপ্রিয় প্রথারই শিকার হতে যাচ্ছেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। প্রতিষ্ঠানটির নতুন এক পরিসংখ্যানগত মডেল বলছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা দ্য ইকোনমিস্টের পরিসংখ্যানগত পূর্বাভাস বলছে, ৪৩৫ আসনের নিম্নকক্ষে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন মাত্র তিনটি অতিরিক্ত আসন। আর দলটি সেই লক্ষ্য অর্জন করবে, এমন সম্ভাবনা রয়েছে ৯৫ শতাংশ। জনমত জরিপ বা ‘জেনেরিক ব্যালট’ অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে ৫৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছে, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থন মাত্র ৪৭ শতাংশ। আরও পড়ুন>>দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন/ ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ‘লুজার’ ট্রাম্পমাদুরোক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের কপালে ‘দুর্ভোগ’ আছে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি প্রচলিত কথা রয়েছে—সূর্য যেমন নিয়ম করে পূর্ব দিকে ওঠে, তেমন করেই ক্ষমতাসীন দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভস বা নিম্নকক্ষে আসন হারায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে প্রথা ভাঙার কারিগর হিসেবে দাবি করলেও ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি সেই পুরোনো এবং অপ্রিয় প্রথারই শিকার হতে যাচ্ছেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। প্রতিষ্ঠানটির নতুন এক পরিসংখ্যানগত মডেল বলছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা

দ্য ইকোনমিস্টের পরিসংখ্যানগত পূর্বাভাস বলছে, ৪৩৫ আসনের নিম্নকক্ষে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন মাত্র তিনটি অতিরিক্ত আসন। আর দলটি সেই লক্ষ্য অর্জন করবে, এমন সম্ভাবনা রয়েছে ৯৫ শতাংশ। জনমত জরিপ বা ‘জেনেরিক ব্যালট’ অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে ৫৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছে, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থন মাত্র ৪৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন>>
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন/ ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ‘লুজার’ ট্রাম্প
মাদুরোকে সরিয়ে ট্রাম্প কি ভেনেজুয়েলাকে ‘ভালো জায়গা’ বানাতে পেরেছেন?
যুক্তরাষ্ট্রকে কি বিশ্বাস করা যায়? ইতিহাস কী বলে

যদিও ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, তবে জাতীয়ভাবে ডেমোক্র্যাটদের এই বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বড় কোনো পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সিনেটেও অনিশ্চয়তার মুখে রিপাবলিকানরা

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো উচ্চকক্ষ বা সিনেটের পূর্বাভাস। কাগজে-কলমে সিনেটের বর্তমান চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী মনে হলেও ইকোনমিস্টের মডেল বলছে, ডেমোক্র্যাটদের সিনেট দখলের সম্ভাবনা ৪৬ শতাংশ। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল এমনিতেই সুবিধা পায়। তার ওপর, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ১৭ পয়েন্ট নেতিবাচক থাকায় সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে, যারা এখনো কোনো পক্ষ নির্ধারণ করতে পারেননি, তারা শেষ মুহূর্তে ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষেই ভোট দেন বলে তথ্যে উঠে এসেছে।

সীমানা নির্ধারণ ও ম্যাপের লড়াই

নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ বা ‘জেরিম্যান্ডারিং’ নিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বর্তমান ম্যাপে রিপাবলিকানরা খুব সামান্যই সুবিধা পাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের নতুন করে সীমানা নির্ধারণ টেক্সাসের রিপাবলিকানদের কৌশলকে অনেকটা স্তিমিত করে দিয়েছে। ১৯৪২ সাল থেকে অনুষ্ঠিত সব কংগ্রেস নির্বাচনের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই মডেলটি আভাস দিচ্ছে যে, ২০২৬ সাল হতে পারে ১৯৭৬ সালের পর হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভসে কোনো দলের সবচেয়ে বড় ভূমিধস বিজয়ের বছর।

তবে ফ্লোরিডার মতো রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত রাজ্যগুলো যদি শেষ মুহূর্তে সীমানা পরিবর্তন করে বা সুপ্রিম কোর্ট ভোটিং রাইটস অ্যাক্টের সুরক্ষা তুলে নেয়, তবে সমীকরণ কিছুটা জটিল হতে পারে।

সিনেটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও বিশেষ রাজ্যগুলো

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অতিরিক্ত চারটি আসন প্রয়োজন, যা বেশ কঠিন এক লক্ষ্য। তবে নর্থ ক্যারোলিনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার এবং আলাস্কায় মেরি পেল্টোলা তাদের রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে জনমতে এগিয়ে থাকায় আশার আলো দেখছে ডেমোক্র্যাটরা। ওহাইওতে শেরড ব্রাউনও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইতে সমানে সমান অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে টেক্সাসে রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ‘ব্ল্যাক্সাস’ বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিতে পারে। যদিও মেইনের মতো রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ প্রার্থী সংকট রয়েছে, তবুও সামগ্রিক জাতীয় পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটদের উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পথে সামান্য এগিয়ে রাখছে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow