মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। অন্যদিকে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া এলাকায় বিএসএফের বাধায় বন্ধ থাকা মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙন দিয়ে ফের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে স্থানীয় শিকড়িয়া, গনকিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের কালারায়ের চর, নিশ্চিন্তপুর, ছারিয়াঘাট (হাসারকোনা) এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ২০-২৫টি বসতবাড়ি পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ ফুট ভাঙনের কাজ বিএসএফের বাধায় এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু কয়েক মাস আগে সীমান্তের ওপারে ভারতের মাগুরউলি, দেবীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁটাতার ঘেঁষে বেড়িবাঁধে বিএসএফের উপস্থিতিতে কাজ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান, রজব আলী ও রমিজ আলী বলেন, গতবছ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।
অন্যদিকে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া এলাকায় বিএসএফের বাধায় বন্ধ থাকা মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙন দিয়ে ফের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে স্থানীয় শিকড়িয়া, গনকিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের কালারায়ের চর, নিশ্চিন্তপুর, ছারিয়াঘাট (হাসারকোনা) এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ২০-২৫টি বসতবাড়ি পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ ফুট ভাঙনের কাজ বিএসএফের বাধায় এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু কয়েক মাস আগে সীমান্তের ওপারে ভারতের মাগুরউলি, দেবীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁটাতার ঘেঁষে বেড়িবাঁধে বিএসএফের উপস্থিতিতে কাজ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান, রজব আলী ও রমিজ আলী বলেন, গতবছরও মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। বিশেষ করে শিকড়িয়া গ্রামে ভারতের বিএসএফের বাধায় বন্ধ থাকা মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে বুধবার রাতে ফের পানি প্রবেশ করেছে। এ বাঁধ যদি সরকার দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ না নেয় তাহলে আবারও মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে এই বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে। এতে আমাদের বাড়িঘর ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত ভাঙা বাঁধটি পুনর্নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জুল হক, মখলিছ মিয়া, আতিক মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। এর আগেও ২০১৮ সালের বন্যায় উপজেলার টিলাগাঁও, হাজীপুর, শরীফপুর ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নে অর্ধ-শতাধিক গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বাড়লে প্রতিরক্ষা বাঁধ, নদী আর গ্রাম কোনোটির কোনো অস্তিত্ব থাকে না। সেই সঙ্গে এ ইউনিয়নগুলোর বানভাসি লোকজন প্রতিটি মুহূর্তে বন্যা আতঙ্কে তাদের দিন কাটায়।
তারা আরও বলেন, বিএসএফের বাধায় বাংলাদেশ অংশে কাজ বন্ধ হলেও ভারতীয় অংশে ঠিকই কাজ চলছে। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন না করা যায়, তাহলে আবারও নদীভাঙনের আতঙ্কে রয়েছেন মনুপাড়ের মানুষ। স্থানীয়রা বাঁধটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়ায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনকৃত স্থান পরিদর্শন করেছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে আপাতত ৫০ বস্তা শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বাঁধের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলেছে, আপাতত তাদের পক্ষ থেকে ওই বাঁধ মেরামত করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ বিএসএফের বাধায় সীমান্তের ১৫ গজের ভেতর শিকড়িয়া এলাকার ভাঙনকৃত বাঁধটির কাজ দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি। স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হলে বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃমন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন অলিদ বলেন, ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কুলাউড়ায় এখনো মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধে ফের বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। গত বছর এই বাঁধের কাজ শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএসএফের বাধায় কাজ শুরু করা যায়নি। কাজ শেষ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।
What's Your Reaction?