মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মেনে তারাগঞ্জের স্কুলগুলোতে এডহক কমিটি

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সরকারি বিধি লঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কাছে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৬ মার্চ জারি করা পরিপত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে প্রবিধি ৭৪(২) অনুসরণ করে এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনজন সম্ভাব্য ব্যক্তির নাম জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, চিলাপাক উচ্চ বিদ্যালয়, তেঁতুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ নির্দেশনা অনুসরণ না করে শিক্ষা বোর্ডের অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুরোনো বিধিমালার আলোকে শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীগত প্রভাবকে

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মেনে তারাগঞ্জের স্কুলগুলোতে এডহক কমিটি

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সরকারি বিধি লঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কাছে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৬ মার্চ জারি করা পরিপত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে প্রবিধি ৭৪(২) অনুসরণ করে এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনজন সম্ভাব্য ব্যক্তির নাম জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, চিলাপাক উচ্চ বিদ্যালয়, তেঁতুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ নির্দেশনা অনুসরণ না করে শিক্ষা বোর্ডের অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুরোনো বিধিমালার আলোকে শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীগত প্রভাবকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিতর্কিতভাবে এডহক কমিটি অনুমোদনের ঘটনায় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

তেঁতুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য সুশান্ত বাবু অভিযোগ করে বলেন, আমি যে কমিটিতে ছিলাম, সেই কমিটির সভাপতি প্রতিষ্ঠান তহবিলের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে মামলাসহ বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। একই ব্যক্তিকে আবারও বিধিবহির্ভূতভাবে সভাপতি করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, অনেক বছর ধরে একটি গোষ্ঠী বিদ্যালয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে। কমিটিতে পরিবর্তন এলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নত হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবারের ব্যক্তি সভাপতি হওয়া কাম্য নয়। অতীতেও কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, মিছিল-মিটিং এমনকি বিদ্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আমরা স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় নতুন, সমাজসচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানাই।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা লিটন বলেন, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। আশপাশের অনেক বিদ্যালয় কলেজে উন্নীত হলেও এই বিদ্যালয় পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষার মানও দিন দিন কমছে। আমরা বিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে কলেজে উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা করি।

চিলাপাক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত ২ এপ্রিল আবেদন করার পর ৮ এপ্রিল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি পাই। পরে প্রবিধানমালা-২০২৪-এর ৬৪ ধারার বিধান অনুযায়ী অভিভাবক প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি ও সভাপতি পদের জন্য প্রয়োজনীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১৪ জুন বোর্ড কমিটি অনুমোদন দেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাববর হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সভাপতি পদের জন্য তিনজন সম্ভাব্য ব্যক্তির নাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো অনুসরণ করেনি। ব্যাখ্যা চাইলে প্রধান শিক্ষকরা জানান, শিক্ষা বোর্ডের অনুমতিপত্রে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করেই তারা কমিটি গঠন করেছেন এবং অনুমোদন পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow