মন্দাকিনী বিলে ৭ কৃষকের বাজিমাত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাটে অবস্থিত ‘মন্দাকিনী বিল’। পানির সংকটে বছরের দীর্ঘ সময় অনাবাদি পড়ে থাকাই ছিল এই বিলের নিয়মিত চিত্র। আমন মৌসুম শেষ হলে সেচ সুবিধার অভাবে হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা সম্ভব হতো না। তবে এবার সেই ধূ-ধূ প্রান্তরে ভিন্ন এক দৃশ্য ফুটে উঠেছে। রাঙামাটি থেকে আসা সাত বর্গাচাষির হাত ধরে বিলটি এখন পরিণত হয়েছে সবুজ তরমুজের বিশাল এক সমারোহে। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বরকল উপজেলা থেকে আসা সাত কৃষক স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে প্রথমবারের মতো ৭৬ কানি জমিতে তরমুজ আবাদ শুরু করেন। শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমে মিলেছে বাম্পার ফলন। বিশাল এই বিলটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘তরমুজ বিল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চাষিরা জানান, সঠিক সময়ে চারা রোপণ, পরিমিত সার ব্যবহার এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণে ফলন আশাতীত হয়েছে। বর্তমানে বাজারে তরমুজের ভালো চাহিদা থাকায় বড় অঙ্কের লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা। এই সাফল্যের নেপথ্যে কেবল সাত বর্গাচাষিই নন, তাদের স্ত্রী ও সন্তানরাও সমান তালে মাঠে কাজ করছেন। তরমুজ ক্ষেতের পাশেই অস্থায়ী তাঁবু টানিয়ে তারা রাতযাপন করছেন। দিন-রাত এক

মন্দাকিনী বিলে ৭ কৃষকের বাজিমাত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাটে অবস্থিত ‘মন্দাকিনী বিল’। পানির সংকটে বছরের দীর্ঘ সময় অনাবাদি পড়ে থাকাই ছিল এই বিলের নিয়মিত চিত্র। আমন মৌসুম শেষ হলে সেচ সুবিধার অভাবে হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা সম্ভব হতো না।

তবে এবার সেই ধূ-ধূ প্রান্তরে ভিন্ন এক দৃশ্য ফুটে উঠেছে। রাঙামাটি থেকে আসা সাত বর্গাচাষির হাত ধরে বিলটি এখন পরিণত হয়েছে সবুজ তরমুজের বিশাল এক সমারোহে।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বরকল উপজেলা থেকে আসা সাত কৃষক স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে প্রথমবারের মতো ৭৬ কানি জমিতে তরমুজ আবাদ শুরু করেন। শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমে মিলেছে বাম্পার ফলন। বিশাল এই বিলটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘তরমুজ বিল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

চাষিরা জানান, সঠিক সময়ে চারা রোপণ, পরিমিত সার ব্যবহার এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণে ফলন আশাতীত হয়েছে। বর্তমানে বাজারে তরমুজের ভালো চাহিদা থাকায় বড় অঙ্কের লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

এই সাফল্যের নেপথ্যে কেবল সাত বর্গাচাষিই নন, তাদের স্ত্রী ও সন্তানরাও সমান তালে মাঠে কাজ করছেন। তরমুজ ক্ষেতের পাশেই অস্থায়ী তাঁবু টানিয়ে তারা রাতযাপন করছেন। দিন-রাত এক করে ফসলের পরিচর্যা ও পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে পুরো পরিবার।

চাষি মো. কাউসার হোসেন বলেন, আগে এই জমি বছরের বেশিরভাগ সময় পতিত পড়ে থাকত। আমরা সাতজন মিলে সেই জমি বর্গা নিয়ে ‘গ্লোরী জাম্বু’ জাতের তরমুজ চাষ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবার হিসেবে অনেক ভালো ফলন পেয়েছি। পাইকাররা সরাসরি জমিতে এসেই ফসল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

আরেক চাষি মো. বাবুল জানান, শুরুতে পানির অভাবে দুশ্চিন্তায় থাকলেও সঠিক পরিচর্যায় ফসল ভালো হয়েছে। তবে ফসল কাটার এই সময়ে বৃষ্টি হলে পচে যাওয়ার কিছুটা আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান অপু বলেন, এই বিল আগে ফাঁকা পড়ে থাকত। এখন এখানে তরমুজ চাষ দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছি। 
কৃষকদের এই সাফল্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, সেচ সংকটের কারণে মন্দাকিনী বিল পুরোপুরি কাজে লাগানো যেত না। এই সাত বর্গাচাষি গ্লোরী জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। আমরা শুরু থেকেই তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে এসেছি।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এই উদ্যোগ সফল হওয়ায় আগামীতে আরও অনেক কৃষক পতিত জমিতে তরমুজসহ অন্যান্য বিকল্প ফসল চাষে আগ্রহী হবেন। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মন্দাকিনী বিলের মতো অন্যান্য অনাবাদি জমিগুলোও উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্রে পরিণত হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow