মব সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৫
সিলেট শিশু শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে খগেন্দ্র চন্দ্র দাস নামের এক ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শাহপরান থানায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন আহতের ছেলে রুবেল দাস।
রুবেল দাস জানান, তার বাবার মালিকানাধীন ‘রানী স্টোর’ দোকানে প্রথমে কয়েকজন এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে। পরে আরও লোকজন নিয়ে এসে তার বাবাকে মারধর করে। এ সময় দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। মারধরের কারণে ওনার বাবা খগেন্দ্র চন্দ্র দাস গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় খুর্শেদের ছেলে আরিফ ও তার সহযোগীরা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, ‘একটি শিশুকে ফ্রিজের সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে বলাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। পরে শিশুটির মা এসে অভিযোগ করেন এবং কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে হামলা চালানো হয়।’
তার
সিলেট শিশু শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে খগেন্দ্র চন্দ্র দাস নামের এক ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শাহপরান থানায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন আহতের ছেলে রুবেল দাস।
রুবেল দাস জানান, তার বাবার মালিকানাধীন ‘রানী স্টোর’ দোকানে প্রথমে কয়েকজন এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে। পরে আরও লোকজন নিয়ে এসে তার বাবাকে মারধর করে। এ সময় দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। মারধরের কারণে ওনার বাবা খগেন্দ্র চন্দ্র দাস গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় খুর্শেদের ছেলে আরিফ ও তার সহযোগীরা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহত ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, ‘একটি শিশুকে ফ্রিজের সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে বলাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। পরে শিশুটির মা এসে অভিযোগ করেন এবং কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে হামলা চালানো হয়।’
তার দাবি, দোকানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ রয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সিলেট জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। এছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী হাসপাতালে তাকে দেখে যান। তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত মব সহিংসতা উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব বলেন, গত ২৯ মে রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মুদি ব্যবসায়ী খগেন্দ্র কুমার দাসের দোকানে এক শিশুকে পণ্য দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলা, মারধর ও দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে আরও লোকজন এসে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
তিনি জানান, পরদিন নেতারা হাসপাতালে আহত ব্যবসায়ীকে দেখতে গেলে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, পূর্বে টাকা বা বাকি পণ্য না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে যৌন হয়রানির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে বাকি না দেওয়াকে কেন্দ্র করেও হামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মব সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।