মসজিদের পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সম্প্রতি মসজিদের একটি বিবাদমান পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল। আর এ বিরোধ নিয়ে মসজিদ কমিটি মানববন্ধন করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত প্রায় ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।  রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী গ্রামে। বিষয়টি তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গাবরগাড়ী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে বিশজন গাবরগাড়ী গ্রামে অবস্থিত মসজিদের পুকুর থেকে মাছ ধরতে থাকেন। আর মাছ ধরার খবর পেয়ে মসজিদ কমিটির লোকজন পুকুর পাড়ে গিয়ে মাছ ধরতে আসা লোকজনকে মাছ ধরতে নিষেধ করেন। কিন্তু তারা এ নিষেধ না শুনে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রডসহ হামলা করতে যান।  পরে মসজিদ কমিটির পক্ষে থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তারা মাছ ধরে নিয়ে যান। এদিন রাতে মসজিদ কমি

মসজিদের পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সম্প্রতি মসজিদের একটি বিবাদমান পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল। আর এ বিরোধ নিয়ে মসজিদ কমিটি মানববন্ধন করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত প্রায় ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। 

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী গ্রামে।

বিষয়টি তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গাবরগাড়ী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে বিশজন গাবরগাড়ী গ্রামে অবস্থিত মসজিদের পুকুর থেকে মাছ ধরতে থাকেন। আর মাছ ধরার খবর পেয়ে মসজিদ কমিটির লোকজন পুকুর পাড়ে গিয়ে মাছ ধরতে আসা লোকজনকে মাছ ধরতে নিষেধ করেন। কিন্তু তারা এ নিষেধ না শুনে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রডসহ হামলা করতে যান। 

পরে মসজিদ কমিটির পক্ষে থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তারা মাছ ধরে নিয়ে যান।

এদিন রাতে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. আলতাফ হোসেন তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি পূর্বের সিদ্ধান্ত মতো জোরপূর্বক মাছ ধরার প্রতিবাদে রোববার দুপুরের দিকে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেন মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসী।    

এ সময় আব্দুর রাজ্জক গং এর নেতৃত্বে তাদের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মানববন্ধন বন্ধ করার জন্য বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে মো. ইদ্রিস হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, জফের হোসেন, মোছা. লিপি খাতুন, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. আসাদুল ইসলাম, মো. শাহাদাৎ হোসেন, মো. সুলতান, এনামুল হক, নাজমুল হোসেন, আব্দুল মজিদ, আব্দুস সালামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত হন। 
 
গাবরগাড়ী জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. আলতাফ হোসেন বলেন, মসজিদ কমিটি পুকুরে মাছ আবাদ করেছেন। মাছ বিক্রি করে মসজিদের উন্নয়ন করা হয়। কিন্তু এনামুল ও রাজ্জাকের লোকজন ক্ষমতার দাপটে মাছ বিক্রি করে পকেটস্ত করছে। যা অন্যায়। এর প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক গংরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করেন। শুধু তাই নয় অনেকের ঘর-বাড়ি ভেঙে দিয়েছে তারা। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি। 

এ বিষয়ে মোবাইলে আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আহত লোকজনের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব। 

তাড়াশ থানার তদন্ত (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করতে থানায় আসেনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow