মাছের আঁশ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

কুড়িগ্রামে ফেলে দেওয়া মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে! এতে করে পরিবেশদূষণ রোধের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় বাড়তি আয়ে মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে।  জাপান, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মাছের আঁশ রপ্তানি করার সুবাদে এটি লাভজনক খাতে পরিণত হচ্ছে। মাছের আঁশ সাধারণত উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ কুড়িগ্রামে মাছের আঁশ এখন মূল্যবান পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতি বছর কয়েকশ মণ মাছের আঁশ রপ্তানি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এ মাছের আঁশ সংগ্রহ করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান।  রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্পু, ইলিশসহ হরেক রকম মাছের আঁশের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। শুধু আঁশ নয় মাছের পেটের বেলুন, ফুলকা, কানকাসহ ফেলে দেওয়া অনেক উচ্ছিষ্ট অংশেরও চাহিদা রয়েছে। বড় মাছের আঁশ সংগ্রহ করার পর সেগুলো পানিতে অথবা গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে বিক্রির উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। বছরে দুই থেকে তিনবার এই আঁশ বিক্রি করা হয় পাইকারের নিকট।  প্রতি মণ আঁশ বিক্রি করা হয় দুই-চার হাজার টাকায়। শুধু আঁশ নয়, মাছের নাড়িভুঁড়িও বিক্রি হয়

মাছের আঁশ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে
কুড়িগ্রামে ফেলে দেওয়া মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে! এতে করে পরিবেশদূষণ রোধের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় বাড়তি আয়ে মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে।  জাপান, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মাছের আঁশ রপ্তানি করার সুবাদে এটি লাভজনক খাতে পরিণত হচ্ছে। মাছের আঁশ সাধারণত উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ কুড়িগ্রামে মাছের আঁশ এখন মূল্যবান পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতি বছর কয়েকশ মণ মাছের আঁশ রপ্তানি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এ মাছের আঁশ সংগ্রহ করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান।  রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্পু, ইলিশসহ হরেক রকম মাছের আঁশের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। শুধু আঁশ নয় মাছের পেটের বেলুন, ফুলকা, কানকাসহ ফেলে দেওয়া অনেক উচ্ছিষ্ট অংশেরও চাহিদা রয়েছে। বড় মাছের আঁশ সংগ্রহ করার পর সেগুলো পানিতে অথবা গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে বিক্রির উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। বছরে দুই থেকে তিনবার এই আঁশ বিক্রি করা হয় পাইকারের নিকট।  প্রতি মণ আঁশ বিক্রি করা হয় দুই-চার হাজার টাকায়। শুধু আঁশ নয়, মাছের নাড়িভুঁড়িও বিক্রি হয়। নাড়িভুঁড়ি ব্যবহার করা হয় মাছের খাদ্য হিসেবে। মাছের জাত অনুযায়ী আঁশের দাম ভিন্ন হয়।  মাছের আঁশে প্রচুর পরিমাণে ‘কোলাজেন’ থাকে, যা খাদ্য, ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট, কসমেটিকস, ওষুধ, ক্যাপসুলের খোসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ব্যাটারি, কৃত্রিম কর্নিয়া, বায়ো পাইজোলেকট্রিক ন্যানো জেনারেটর, রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চার্জ দেওয়া, ব্যাটারি তৈরি, বৈদ্যুতিক পণ্যসহ পোলট্রি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।  মাছের আঁশ সংগ্রহ করে অনেক মানুষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ এখন স্থানীয় পর্যায়ে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে মাছ কাটার শ্রমিকরা বাড়তি আয় করছেন। ঢাকা, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারের নিকট শুকনো আঁশ কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।  রাজারহাট উপজেলার সুনীল চন্দ্র এবং দীলিপ কুমার বলেন, মাছের ব্যবসা করি দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু আঁশের ব্যবসা গত বছর থেকে শুরু করেছি। এর আগে এ আঁশ ফেলে দেওয়া হতো। কিন্তু আরডিআরএস বাংলাদেশের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে এখন আর মাছের আঁশ ফেলে দেই না।  তারা আরও বলেন, প্রতিদিন মাছ কাটার পরে আঁশ সংগ্রহ করে বছরে দুই থেকে তিনবার বিক্রি করে থাকি। এক মণ মাছের আঁশ কিনতে খরচ যায় ২০ থেকে ২৫ টাকা। একমণ মাছের আঁশ শুকিয়ে এক কেজি পাওয়া যায়। সেগুলো ৬০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে থাকি। এতে করে আমাদের বাড়তি আয় হচ্ছে।  খলিলগঞ্জ বাজারের পূর্ণ চন্দ্র দাস বলেন, বর্তমানে বড় মাছের আঁশ সংগ্রহ করে থাকি। এক মাসে ২০-৩০ কেজি পর্যন্ত মাছের আঁশ হয়। এগুলো বিভিন্ন জেলার পাইকারের কাছে বছরে তিনবার বিক্রি করি। শুধু মাছের আঁশ নয়, মাছের নাড়িভুঁড়ি, পাখনা, মাছের পেটে থাকা বেলুন, মাছের মাথাও বিক্রি করি।  মাছ কাটা শ্রমিক সজিব বলেন, দিনে বাজারে ২/৪ মণ পর্যন্ত মাছ কাটা হয়। সে মাছের আঁশ আগে আমরা ফেলে দিতাম। এখন আর দেই না। বিভিন্ন মহাজনের কাছে সেই আঁশ বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় করছি।  আরডিআরএস বাংলাদেশের অ্যাগ্রিকালচার বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মশিউর রহমান বলেন, আরডিআরএস বাংলাদেশের সহায়তায় প্রায় দুই বছর ধরে জেলার দুটি উপজেলায় ৬ মৎস্যজীবীকে পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উচ্ছিষ্ট এসব মাছের আঁশ সদস্যদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে পাইকারের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ চলছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, মাছের আঁশ মানুষের রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও সারা বিশ্বে কাঁচামাল হিসেবে মাছের আঁশ জনস্বাস্থ্যের এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এ খাত ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি শিল্পে পরিণত হতে যাচ্ছে। মৎস্য বিভাগ মাছের আঁশের গুণগত মান ঠিক রাখতে কাজ করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow