মাঠের বাইরে নেইমারের ভিন্ন জগত, এখনও আছেন সেই মডেলের সঙ্গে?
মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। ইনজুরি পিছুই ছাড়ছে না। বিশ্বকাপে সুযোগ পাবেন কি না, সেটা নিয়েই ছিলেন দীর্ঘ সংশয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারকে দলে রেখেছেন; কিন্তু সেই ইনজুরির কারণে দলের অনুশীলন শুরু হলেও নেইমার মাঠে নামতে পারছেন না। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে খবরের শিরোনামে থাকতে না পারলেও মাটের বাইরের ভিন্ন জগৎ নিয়ে প্রায়ই শিরোনামে আসেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান টপ মডেল ব্রুনা বিয়ানকার্দির সঙ্গে নেইমারের সম্পর্ক লুকোচুরির কিছুই নয়। সবাই জানে। কিন্তু এই জুটির প্রেম একবার ভাঙে, আরেকবার জোড়া লাগে। দুটি কন্যা সন্তানের জন্মও দেন তারা। আবারও ভাঙে, আবারও জোড়া লাগে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ভক্তদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- সেই মডেল ব্রুনা বিয়ানকার্দির সঙ্গে কি এখনও আছেন নেইমার? নাকি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে? এ দু’জনের বিচ্ছেদ, পুনর্মিলন, প্রতারণার অভিযোগ, সন্তান জন্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে নানা আলোচনার মধ্য দিয়ে অনেকবার শিরোনামে এসেছেন তারা দু’জন। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগে, ভক্তদের কাছ থেকে আসা সবচেয়ে বড় এই প্রশ্নের উত্ত
মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। ইনজুরি পিছুই ছাড়ছে না। বিশ্বকাপে সুযোগ পাবেন কি না, সেটা নিয়েই ছিলেন দীর্ঘ সংশয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারকে দলে রেখেছেন; কিন্তু সেই ইনজুরির কারণে দলের অনুশীলন শুরু হলেও নেইমার মাঠে নামতে পারছেন না।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সে খবরের শিরোনামে থাকতে না পারলেও মাটের বাইরের ভিন্ন জগৎ নিয়ে প্রায়ই শিরোনামে আসেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান টপ মডেল ব্রুনা বিয়ানকার্দির সঙ্গে নেইমারের সম্পর্ক লুকোচুরির কিছুই নয়। সবাই জানে। কিন্তু এই জুটির প্রেম একবার ভাঙে, আরেকবার জোড়া লাগে। দুটি কন্যা সন্তানের জন্মও দেন তারা। আবারও ভাঙে, আবারও জোড়া লাগে।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে ভক্তদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- সেই মডেল ব্রুনা বিয়ানকার্দির সঙ্গে কি এখনও আছেন নেইমার? নাকি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে?
এ দু’জনের বিচ্ছেদ, পুনর্মিলন, প্রতারণার অভিযোগ, সন্তান জন্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে নানা আলোচনার মধ্য দিয়ে অনেকবার শিরোনামে এসেছেন তারা দু’জন। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগে, ভক্তদের কাছ থেকে আসা সবচেয়ে বড় এই প্রশ্নের উত্তর হলো- ‘হ্যাঁ, নেইমার ও ব্রুনা এখনও একসঙ্গেই আছেন।’
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো নেইমার ও ব্রুনার সম্পর্কের গুঞ্জন শুরু হয়। পরে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশ্যে আসে তাদের সম্পর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমের নজরবন্দি এই সম্পর্কের গল্পে ছিল বিচ্ছেদ, আবার মিলনের ঘটনা; ছিল সন্তান আগমনের সুখবরও।
তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন সময় আসে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে। একাধিকবার প্রকাশ্যে আসে বিচ্ছেদের খবর। নেইমারের বিরুদ্ধে ওঠে পরকীয়ার অভিযোগও। ওই সময় গুরুতর হাঁটুর চোট থেকে পুনরুদ্ধারের সময় ফুটবলের প্রতি নেইমারের মনোযোগ ও প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ব্রুনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকবার নিজের হতাশার ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট দেন। অনেকেরই ধারণা হয়েছিল, সম্পর্কটি হয়তো শেষ হয়ে গেছে।
কিন্তু ২০২৫ সালের শুরু থেকেই দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে রিও কার্নিভালে একসঙ্গে দেখা যায় নেইমার ও ব্রুনাকে। তখন ব্রুনা তাদের দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে যাচ্ছিলেন।
কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ধীরে ধীরে আবার কাছাকাছি আসেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে ছবি পোস্ট করা এবং প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়ার মধ্য দিয়েই পুনর্মিলনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০২৫ সালের ৫ জুলাই জন্ম নেয় তাদের দ্বিতীয় কন্যাসন্তান মেল। ইনস্টাগ্রামে মেয়ের জন্মের খবর জানিয়ে ব্রুনা লিখেছিলেন, ‘মেল আমাদের জীবনকে আরও পূর্ণতা ও মাধুর্যে ভরিয়ে দিতে এসেছে।’ সেই সময় নেইমার ব্রাজিলেই ছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে এসেছিলেন।
২০২৬ সালেও তাদের সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রমাণ মিলেছে একাধিক ঘটনায়। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ব্রুনার জন্মদিনে নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেন। সেখানে তিনি ব্রুনাকে একজন অসাধারণ মা হিসেবে প্রশংসা করেন এবং পরিবারের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন। সম্পর্ক নিয়ে অতীতের বিতর্কিত খবরগুলোর বিপরীতে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা আরও পরিষ্কার হয় চলতি মে মাসে। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার পর নেইমারকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন একটি পোস্ট দেন ব্রুনা। সেখানে তিনি লিখেন, ‘চোট থেকে ফেরার দীর্ঘ সময়ে নেইমার যেসব সমালোচনা, আক্রমণ ও অতিরঞ্জিত সংবাদ সহ্য করেছেন, তা দেখে তিনি সত্যিই তার মানসিক ও আবেগিক অবস্থার জন্য চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন।
ব্রুনা আরও লেখেন, নেইমার কখনো নিজের স্বপ্ন ছেড়ে দেননি। কঠোর পরিশ্রম, বিশ্বাস, সাহস এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার ফল হিসেবেই তিনি আবার ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন।
ব্রুনা বিয়ানকার্দি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯৪ সালের ১৫ এপ্রিল, সাও পাওলোতে। নেইমারের সঙ্গে সম্পর্ক বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসার আগেই তিনি নিজস্ব পরিচয়ে ফ্যাশন, ডিজিটাল মিডিয়া ও ব্র্যান্ড মার্কেটিং জগতে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি একজন জনপ্রিয় ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার এবং ফ্যাশন মার্কেটিং পেশাজীবী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা নেইমারের সঙ্গে সম্পর্কের আগ থেকেই ছিল।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?