ঈদ উল আজহা পরবর্তী মাদক বিরোধী প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে জাজিরা ব্যাচ-১১ জয় লাভ করে।
শনিবার (৩০ মে) বিকাল তিনটায় সরকারি জাজিরা মোহর আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত খেলায় ১৪ ওভারে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে জাজিরা ব্যাচ-০৯। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন দলের ক্যাপ্টেন আল মামুন৷ তিনি ব্যাট হাতে ১৬ বলে ৩৪ রান সংগ্রহ করেন এছাড়াও ১১ বলে ৩৩ রান করেন মনির হোসেন, সাদ্দাম হোসেন সংগ্রহ করেন ১৭ বলে ২৭ রান। ২২ বলে পলাশ আহমেদ সংগ্রহ দাড়ায় ২৩ রান, ১৮ বলে সম্রাট হোসেনের সংগ্রহ ১৯ রান। এদিকে ব্যাচ-১১ এর হয়ে বল হাতে ইমরান খান ৩ ওভার বল করে ২০ রানে ২ উইকেট পরাস্ত করেন৷ রাসেল খান ৩ ওভারে ৪৫ রানে ২ উইকেট সাজঘরে পাঠান। সৌরভ ২ ওভার বল করে ২৫ রানে ১ উইকেট, মামুন ৩ ওভারে ৩০ রানে ১ উইকেট এবং মাহাবুব ৩ ওভার বল করে ৩৮ রানে শূণ্য উইকেটে মাঠ ছাড়েন।
এরপর ১৫৯ রানের টার্গেটে ব্যাট হাতে মাঠে নামে জাজিরা ব্যাচ-১১। ব্যাচ-১১ ব্যাট হাতে ৪ ওভার এক বলে ৪৪ রান সংগ্রহের পর বৃষ্টি জনিত কারণে আম্পয়ায়ার খেলা সাময়িক স্থগিত করে। পরবর্তীতে আম্পায়ার এবং দুই ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তে আবারও খেলা শুরু হয়। তারপর ৭ ওভার ৪ বলে ১ উইকেট হারিয়ে ব্যাচ-১১ সংগ্রহ করে ৯৩ রান।
পরে আবারও বৃষ্টি জনিত কারণে খেলা বন্ধ করে আম্পায়ার। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতি বা ডিএলএস মেথডে ব্যাচ-১১ এর প্রতি ওভারে ১১ দশমিক ৩৪ রান সংগ্রহ করা প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ ব্যাচ-১১ কে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮৪ রান। সেখানে ব্যাচ-১১ সংগ্রহ করেন ৯৩ এবং ১ উইকেট যাওয়ার ফলে ম্যাচ বৃষ্টি আইনে ০৩ রানে ব্যাচ ২০১১ কে জয়ী ঘোষণা করে মাঠের অনফিল্ড দুই আম্পায়ার।
ব্যাচ ২০১১ এর হয়ে ৩০ বলে সর্বোচ্চ ৬৪ রান সংগ্রহ করেন রাসেল খান। সহ অধিনায়ক নাইম ১৬ বলে ১৪ রান সংগ্রহ করে অপরাজিত ছিলেন। এদিকে ব্যাচ-০৯ এর হয়ে বল হাতে ৩ ওভার ৪ বলে ১৯ রান দিয়ে আল-মামুন ১ উইকেট সংগ্রহ করেন। ২ ওভারে মনির ৩৪ রান এবং ২ ওভারে সাদ্দাম ৩৮ রান দিয়ে কোনো উইকেট শিকার করতে পারেনি।
ম্যাচ সেরা হয়েছে রাসেল খান
ব্যাচ-০৯ দলের অধিনায়ক আল মামুন, সহ-অধিনায়ক আলিনুর খান, পলাশ আহমেদ, এইচএম সম্রাট হোসেন, মনির, সাদ্দাম, শহিদুল ইসলাম, ইমরান ফকির, মনির ২, বি.এম ইমরান, লতিফ, দিপংকর ঢংগী, চঞ্চল এবং দাদন। টীম ম্যানেজার ছিল সোহাগ ফরাজি।
ব্যাচ-১১ দলের স্কোয়াড অধিনায়ক মাসুদ খান, সহ-অধিনায়ক নোমান হাসান নাইম, রাইসুল ইসলাম রাসেল, সাইদুর রহমান, সাইফুল ইসলাম সাগর, ইমরান খান, মাহবুব দর্জি, বিশ্বজিৎ রায়, মাহফুজ হাসান মুরাদ, সৌরভ, আল মামুন, নাহিদ রানা, জয়নাল, মাসুদ রানা এবং হাবিবুর জাহিদ। দলের মেন্টর ছিল মেহেদী হাসান শ্যামল। টিম ম্যানেজার ছিলেন মাহমুদুল হাসান, ব্যাটিং কোচ হাসান আল বান্না, বোলিং কোচ মুজাম্মেল শিকদার টিম ব্যাচ-১১ এর ফিন্যান্সিয়াল কো-অর্ডিনেটর ফারুক হাওলাদার এবং টিমের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সাইদুর রহমান।
মাঠের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মামুন মুন্সী, অ্যাম্পায়ারের দায়িত্বে চঞ্চল বেপারী ও শাওন মুন্সী আর ম্যাচের ধারা ভাষ্যে ছিলেন অর্নব কাজী।
খেলা শেষে যশোরের মনিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ব্যাচ-০৯ এর খেলোয়াড় এইচএম সম্রাট হোসেন বলেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আকৃষ্ট করা সম্ভব হলে সমাজে মাদক নির্মুল সহজ হবে।
এসময় বরগুনার বামনা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ আহমেদ বলেন, সুস্থ সবল জাতি গঠনে জাজিরার প্রতিটি তরুণ-যুবককে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের আজকের এই আয়োজন। এই আয়োজনের ধারা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক ও ব্যাচ-১১ এর তারিকুল ইসলাম শুভ প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক রুবেল মিয়া এবং পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে রেড সি গেট ওয়ে টার্মিনালের (আরএসজিটি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নোমান খেলার আয়োজক ও দর্শকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
খেলা শেষে জাজিরা মোহর আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ব্যাচ-২০০৯ এর সংগঠন (চেইঞ্জ ইয়েস) এর পক্ষথেকে ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষ রোপন করা হয়।