‘মাদরাসা’ আছে কাগজে, মাঠে গরু

শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের দশকাহনীয়া বালিকা দাখিল মাদরাসায় ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২২ শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, পাঠদানের জন্য নেই শ্রেণিকক্ষ। মাদরাসাটির নেই সাইনবোর্ড কিংবা একটি কক্ষও। মাঠে গরু ঘাস খাচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ঘর থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে এখানে আর মাদরাসার কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থানীয় সোবহান মিয়া বলেন, একসময় এখানে দুটি ঘর ছিল কিন্তু এখন এগুলো আর কিছুই নেই। মাঝেমধ্যে দু-একজন এসে জায়গাটি দেখে যায়। তবে এখানে বালিকা মাদরাসাটি হলে এলাকার জন্য ভালোই হবে। মাদরাসার সুপার মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, সুদীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আমাদের নিজেদের খরচে উপজেলার একমাত্র বালিকা মাদরাসাটি পরিচালনা করে আসছি। আরও পড়ুন বগুড়ার ধুনট / তিন প্রতিষ্ঠানের ৪৬ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল পাঠদানের জন্য শ্রেণিকক্ষ নেই এই প্রশ্নে তিনি বলেন, বারবার আবেদন করেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরাও হতাশ। জীবিকার তাগিদে অনেকেই ভিন্ন কাজ করে দিনাতিপাত করছেন। আর সেখানে ঘরগুলো ভেঙে গেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের

‘মাদরাসা’ আছে কাগজে, মাঠে গরু

শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের দশকাহনীয়া বালিকা দাখিল মাদরাসায় ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২২ শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, পাঠদানের জন্য নেই শ্রেণিকক্ষ। মাদরাসাটির নেই সাইনবোর্ড কিংবা একটি কক্ষও। মাঠে গরু ঘাস খাচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ঘর থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে এখানে আর মাদরাসার কোনো অস্তিত্ব নেই।

স্থানীয় সোবহান মিয়া বলেন, একসময় এখানে দুটি ঘর ছিল কিন্তু এখন এগুলো আর কিছুই নেই। মাঝেমধ্যে দু-একজন এসে জায়গাটি দেখে যায়। তবে এখানে বালিকা মাদরাসাটি হলে এলাকার জন্য ভালোই হবে।

মাদরাসার সুপার মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, সুদীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আমাদের নিজেদের খরচে উপজেলার একমাত্র বালিকা মাদরাসাটি পরিচালনা করে আসছি।

পাঠদানের জন্য শ্রেণিকক্ষ নেই এই প্রশ্নে তিনি বলেন, বারবার আবেদন করেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরাও হতাশ। জীবিকার তাগিদে অনেকেই ভিন্ন কাজ করে দিনাতিপাত করছেন। আর সেখানে ঘরগুলো ভেঙে গেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র পড়াশোনা করানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সাল হতে পাঠদানের অনুমতি পাই, এরপর মোটামুটি ভালো রেজাল্ট করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এবার হঠাৎ ২২ জন ছাত্রী অকৃতকার্য হয়। এর মধ্যে ১১ জনই গণিতে। আমরা গণিতের ওপর আরও জোর দেবো।

সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক জিহাদ হাসান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে প্রথমদিকে অনেক আগ্রহ নিয়ে পথচলা শুরু করলেও পরে একসময় হাঁপিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদাসীনতা রয়েছে, যার কারণে ঘর নেই সেটাও কাগজে কলমে বড় প্রতিষ্ঠান।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রেজুয়ান বলেন, ময়মনসিংহ বোর্ডে এবার অপ্রত্যাশিতভাবে শেরপুর জেলা খারাপ রেজাল্ট করেছে। আর যে কয়েকটি মাদরাসায় কেউ পাস করেনি, মূলত সেইসব মাদরাসাগুলো আসলে নন-এমপিও। আর তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করানো হয় না। পাশাপাশি আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য আমরা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মো. নাঈম ইসলাম/এসজেডএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow