মানব পাচার প্রতিরোধের নতুন আইনে ‘আশার আলো’
• মানব পাচার ও প্রতিরোধ আইন-২০১২ রহিত • নতুন আইনে মামলা ও বিচার কার্যক্রম চলবে দেশে ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মানবপাচারের ঘটনায় মামলা ও বিচার কার্যক্রম চললেও তাতে অন্তত ৯৫ ভাগ আসামিই অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যেতেন। আইনি ও ধারার দুর্বলতা ত্রুটিতে পাচারকারীরা পার পেয়ে একই অপরাধ করে আসছিল। তবে সেই আইন রহিত করে এবার ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ অনুযায়ী মামলা ও বিচার কার্যক্রম চলবে। দেশে মানবপাচার প্রতিরোধে নতুন এই আইনে ‘আশার আলো’ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ নিয়ে দিনব্যাপী এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় নতুন আইনটির নানা দিকে উঠে আসে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ওই কর্মশালা করে। কর্মশালায় উঠে আসে, কাউকে অবৈধ পথে বা কাগজপত্র নকল ও গোপন করে বিদেশ পাঠালে আগে শুধু মানবপাচারের ধারায় মামলা হতো। এতে ওই অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হওয়ায় আসামিরাও খালাস পেয়ে যেত। তবে নতুন আইনে অভিবাসী চোরাচালানের বিষ
দেশে ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মানবপাচারের ঘটনায় মামলা ও বিচার কার্যক্রম চললেও তাতে অন্তত ৯৫ ভাগ আসামিই অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যেতেন। আইনি ও ধারার দুর্বলতা ত্রুটিতে পাচারকারীরা পার পেয়ে একই অপরাধ করে আসছিল।
তবে সেই আইন রহিত করে এবার ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ অনুযায়ী মামলা ও বিচার কার্যক্রম চলবে। দেশে মানবপাচার প্রতিরোধে নতুন এই আইনে ‘আশার আলো’ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ নিয়ে দিনব্যাপী এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় নতুন আইনটির নানা দিকে উঠে আসে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ওই কর্মশালা করে।
কর্মশালায় উঠে আসে, কাউকে অবৈধ পথে বা কাগজপত্র নকল ও গোপন করে বিদেশ পাঠালে আগে শুধু মানবপাচারের ধারায় মামলা হতো। এতে ওই অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হওয়ায় আসামিরাও খালাস পেয়ে যেত। তবে নতুন আইনে অভিবাসী চোরাচালানের বিষয়টি উঠে আসায় এখন অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে।
তাছাড়া আগে অবৈধ পথে বা ভুয়া কাগজপত্রে বিদেশ পাঠানো হলে বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারণার ধারায় মামলা হতো। এতে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ বা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসেব থেকে শুরু করে তাকে আর্থিকভাবে আটকানোর সুযোগ ছিল না।
নতুন আইনে তদন্ত কর্মকর্তা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মতোই আসামির ব্যাংক হিসেব জব্দ ও সম্পদ ক্রোকসহ এই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগে আদালতের অনুমতি নিতে পারবেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন এই আইনের মাধ্যমে মানব পাচার অপরাধের প্রকৃতি ও ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত সংস্থাসমূহকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার মতো যুগান্তকারী বিধান এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট বা ভিসা জালিয়াতিকেও কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে অপরাধীদের আর্থিক জবাবদিহিতা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশ এই সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইন প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ২০০০ সালে গৃহীত জাতিসংঘ কনভেনশন এবং এর সম্পূরক প্রোটোকলগুলোর আলোকে বাংলাদেশ সরকার ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন এই আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ এবং যুগ্ম সচিব রেবেকা খান নতুন আইনটির নানা দিক তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তারা বলেন, নতুন আইনটির বিষয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।
কর্মশালায় জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আগের আইন অনুযায়ী মানব পাচারের বিষয়টি শোষণ এবং ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ। মানব পাচারের বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে এবং বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে বৈধ বা অবৈধ-উভয় পন্থাই ব্যবহার হতে পারে। কিন্তু মানব চোরাচালান বিদেশ গমনের একটি বেআইনি সার্ভিস এবং একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ। মানব চোরাচালানের গন্তব্য দেশের বাইরে এবং এই অপরাধে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে শুধু অবৈধ পন্থাই ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই এই ধরনের অপরাধ বন্ধ ও শাস্তির ক্ষেত্রে নতুন আইনটি সময়োপযোগী এবং কার্যকর।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ২০১২ সালের আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে সঠিকভাবে আলাদা করা হয়নি। নতুন আইনে এই দুটিকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তা ছাড়া অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনলাইনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন বা অভিবাসনের নামে প্রতারণা করলে কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত হয়েছে। নতুন আইনে তদন্ত ও বিচারিক ক্ষমতার আধুনিকায়নের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
What's Your Reaction?