মানব পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান
মানব পাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার আয়োজন করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান এবং মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তফা কামাল খান। এছাড়া ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা জেলা সমন্বয়কারী বজলুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিচয় পর্ব শেষে সভার উদ্বোধন করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় মানব পাচারের বর্তমান প্রবণতা, পাচারের বিভিন্ন রুট এবং বিদেশে পাচার হও
মানব পাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার আয়োজন করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান এবং মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তফা কামাল খান। এছাড়া ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন, ঢাকা জেলা সমন্বয়কারী বজলুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিচয় পর্ব শেষে সভার উদ্বোধন করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
উপস্থাপনায় মানব পাচারের বর্তমান প্রবণতা, পাচারের বিভিন্ন রুট এবং বিদেশে পাচার হওয়া ব্যক্তিদের ওপর সংঘটিত শোষণ ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রতারণা ও পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা, পুনর্বাসন, পুনঃএকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
সভায় জানানো হয়, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে বিদেশফেরত সংকটাপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দেশে ফেরার পর যেসব ভুক্তভোগীর নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য রেফারেল ও আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়। বিশেষ করে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা নারী ভুক্তভোগীদের নিরাপদ আবাসন, চিকিৎসা, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মূল উপস্থাপনার পর মানব পাচারের শিকার লিবিয়াফেরত সারভাইভার এনামুল বিদেশে যাওয়ার পর প্রতারণার শিকার হওয়া এবং মানবেতর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য মানব পাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা সম্পর্কে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যক্ষ ধারণা দেয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। উন্নত জীবনের আশায় অনিয়মিত পথে বিদেশগমন কিংবা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশে যাওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি মানব পাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে সর্বদা প্রস্তুত। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তিনি ব্যক্ত করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
What's Your Reaction?