মানসিক স্বাস্থ্যসেবা-ওভারটাইম ভাতা চায় পুলিশ
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সময়ের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। বলা হয় পুলিশের কাজের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ম করে আট ঘণ্টার ডিউটি থাকলেও পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। ক্ষেত্র বিশেষ ডিউটি ১৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি হয়ে থাকে। পুলিশের কর্মজীবনেও থাকে বিপদ, চাপসহ নানামুখী ঝুঁকি। অনেকে আবার পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। প্রতিদিনই সামলাতে হয় সমাজের নানান অবক্ষয় ও অস্থিরতার ঢেউ। এমনকি কাউন্সেলিংয়ের জন্য সাইকোলজি ইউনিটও নেই। ফলে প্রায়ই পুলিশ সদস্যদের আত্মহনন, অন্যকে গুলিসহ নানান অপ্রীতিকর ঘটনা সামনে আসে। টানা ডিউটির প্রভাব শুধু নিজের জীবনেই নয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণেও প্রকাশ পায়। পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সাইকিয়াট্রিক সেবা (মানসিক স্বাস্থ্যসেবা) নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘদিনের দাবি এখনো পূরণ করেনি কোনো সরকারই। নতুন সরকারের কাছে আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে সাইকিয়াট্রিক সেবাসহ একগুচ্ছ দাবি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ বাহিনীর। রাজাররাগ পুলিশ লাইনসে আগামী ১০ মে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশ
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সময়ের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। বলা হয় পুলিশের কাজের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ম করে আট ঘণ্টার ডিউটি থাকলেও পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। ক্ষেত্র বিশেষ ডিউটি ১৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি হয়ে থাকে। পুলিশের কর্মজীবনেও থাকে বিপদ, চাপসহ নানামুখী ঝুঁকি। অনেকে আবার পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। প্রতিদিনই সামলাতে হয় সমাজের নানান অবক্ষয় ও অস্থিরতার ঢেউ। এমনকি কাউন্সেলিংয়ের জন্য সাইকোলজি ইউনিটও নেই। ফলে প্রায়ই পুলিশ সদস্যদের আত্মহনন, অন্যকে গুলিসহ নানান অপ্রীতিকর ঘটনা সামনে আসে। টানা ডিউটির প্রভাব শুধু নিজের জীবনেই নয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণেও প্রকাশ পায়।
পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সাইকিয়াট্রিক সেবা (মানসিক স্বাস্থ্যসেবা) নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘদিনের দাবি এখনো পূরণ করেনি কোনো সরকারই। নতুন সরকারের কাছে আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে সাইকিয়াট্রিক সেবাসহ একগুচ্ছ দাবি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ বাহিনীর।
রাজাররাগ পুলিশ লাইনসে আগামী ১০ মে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশ সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠান বাদ রাখা হয়। তবে এবার পুলিশ সপ্তাহের তৃতীয় দিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি অনুষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠানও হবে যথা নিয়মে।
পুলিশিং সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং কাজ। অথচ সদস্যদের মানসিক স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের কোনো ব্যবস্থা বাংলাদেশ পুলিশে নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হঠাৎ যে কেউ ট্রমায় পড়তে পারেন। সে সময় মানসিক সুরক্ষা না পেলে তার পক্ষে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।
প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন। পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘পিপিএম’ ও ‘বিপিএম’ পদক পরিয়ে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে এবারের আয়োজনে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। সাত দিনের বদলে অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে চার দিনে, কমানো হয়েছে ইভেন্ট ও অতিথি সংখ্যা। এমনকি পদকপ্রাপ্তদের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়েছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহে ১১৫ জন সদস্য পদক পাচ্ছেন। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আরও পড়ুন
পুলিশের ডিউটির শুরু আছে শেষ নেই
ঝুঁকিভাতাসহ অনেক দাবি পুলিশের, কমছে ভিআইপি প্রটোকল
তিন মাসের ব্যবধানে ফের পুলিশের পোশাক বদলের হাওয়া
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে যেসব দাবি বা প্রস্তাব করা হয়েছিল, তার একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকারের সময়ে পুলিশের দাবি বাস্তবায়ন হবে এমন প্রত্যাশা বাহিনীটির সদস্যদের।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চায় পুলিশ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশিং সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং কাজ। অথচ সদস্যদের মানসিক স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের কোনো ব্যবস্থা বাংলাদেশ পুলিশে নেই। মানসিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হঠাৎ যে কেউ ট্রমায় পড়তে পারেন। সে সময় মানসিক সুরক্ষা না পেলে তার পক্ষে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এজন্য এবার সরকারপ্রধানের কাছে দাবি করা হবে পুলিশ সদস্যের জন্য যেন মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। সাইকিয়াট্রিক সেবা নিশ্চিত করলে আরও উন্নত হবে পুলিশের কাজের মান।
দেশের সব শ্রেণির মানুষ যখন বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উৎসব আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে উদযাপন করে, তখন পুলিশ সদস্যরা পরিবারের আনন্দকে উৎসর্গ করে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকেন। বিরামহীন এই দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যরা শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক নানামুখী ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
ওভারটাইম ভাতা দাবি
সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে নিজেদের পারিবারিক জীবনসহ অবকাশের সময়টুকু উৎসর্গ করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন পুলিশ সদস্যরা। দিনে আট কর্মঘণ্টার বদলে গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের সব শ্রেণির মানুষ যখন বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উৎসব আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে উদযাপন করে, তখন পুলিশ সদস্যরা পরিবারের আনন্দকে উৎসর্গ করে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকেন। বিরামহীন এই দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যরা শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক নানামুখী ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। সার্বিক বিবেচনায় প্রতিবছর নির্ধারিত ১২৯ দিনের সরকারি ছুটির বিপরীতে কমপক্ষে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ ভাতা দাবি করেছেন পুলিশ সদস্যরা। এ ভাতা পুলিশ সদস্যদের কর্মস্পৃহা এবং মনোবল বহুগুণে বাড়াবে বলে মনে করছেন তারা।
কনস্টেবল থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত আট কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ওভারটাইম ভাতা চালুর প্রস্তাব করা হবে এবার।
আরও পড়ুন
ছিনতাই-চুরির মামলায় জামিন ‘ডালভাত’, বারবার একই অপরাধ
ছোট বয়সে ‘বড়’ অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা
আরও ভয়ংকর রূপে ‘কিশোর গ্যাং’
আরও যেসব দাবি পুলিশের
অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পুলিশের সব স্তরে ঝুঁকি ভাতা চালু করা, আবাসন সংকট নিরসন, ট্রেনিং একাডেমিতে ভাতা দেওয়া, নারী প্রশিক্ষণ সেন্টার বাড়ানো, পুলিশ সদস্য স্বামী-স্ত্রী হলে একই কর্মস্থলে পদায়ন এবং নারী ট্রাফিকের জন্য নারীবান্ধব টয়লেটের ব্যবস্থা। এছাড়া বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহসহ সার্বিক মান উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়।
পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে যা থাকছে
চার দিনের আয়োজনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া পুনাক বার্ষিক সমাবেশ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মেলন, আইজিপি সম্মেলন, শিল্ড প্যারেড এবং আইজি’জ ব্যাজ প্রদান করা হবে। এসবি, সিআইডি ও পিবিআইয়ের প্রেজেন্টেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে সম্মেলন, অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্মিলনী এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সম্মিলন আয়োজনের তালিকায় থাকছে। এছাড়া, বৃষ্টি না হলে এবার রাজারবাগ মাঠে প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশের কর্মজীবনেও থাকে বিপদ, চাপসহ নানামুখী ঝুঁকি/ ফাইল ছবি
পদক পাচ্ছেন ১১৫ জন
অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য প্রতিবছর পুলিশ সদস্যদের বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী এবার ১১৫ জন পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন এই পদক।
মাঠপর্যায়ের সদস্যদের প্রাধান্য দিয়ে এবং রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে পদকপ্রত্যাশীদের প্রোফাইল যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। কারা পদক পাচ্ছেন, তার তালিকা তৈরি করে পাঠানো হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে জারি করা হবে প্রজ্ঞাপন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, আগামী ১০ মে শুরু হচ্ছে এবারের পুলিশ সপ্তাহ। চার দিনের পুলিশ সপ্তাহে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুলিশ সপ্তাহ উদযাপনে মোট ২৪টি কমিটি এবং আরও কিছু উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সফল পুলিশ সপ্তাহ উদযাপিত হবে।
টিটি/কেএসআর
What's Your Reaction?