মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে কি স্থূলতার সম্পর্ক আছে
স্থূলতার কথা ভাবলেই আমরা সাধারণত ধরে নেই যে, অতিরিক্ত খাওয়া, কম নড়াচড়া ও জেনেটিক কারণেই এটি হচ্ছে। কিন্তু, মনের সঙ্গে শরীরের এই বাড়তি ওজনের কি কোনো যোগসূত্র আছে কিনা ভেবে দেখেছেন কি? আধুনিক গবেষণা বলছে, সম্পর্ক আছে এবং তা একমুখী নয়, বরং দুই দিক থেকেই প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্থূলতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যাগুলোও বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের স্থূলতা আছে তাদের মধ্যে ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। আবার দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থেকেও ওজন বাড়তে পারে। প্রথমত, মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের সময় শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদি কর্টিসল বৃদ্ধি ক্ষুধা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। অনেকেই ‘ইমোশনাল ইটিং’-এর শিকার হন, অর্থাৎ - দুঃখ, একাকীত্ব বা রাগের সময়ে অতিরিক্ত খাওয়া। এতে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ে। দ্বিতীয়ত, ডিপ্রেশন থাকলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়। ক্লান্তি, আগ্রহহীনতা ও ঘুমের ব্যাঘাত - সব মিলিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম বা স্বাস্থ্যকর রুটিন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়
স্থূলতার কথা ভাবলেই আমরা সাধারণত ধরে নেই যে, অতিরিক্ত খাওয়া, কম নড়াচড়া ও জেনেটিক কারণেই এটি হচ্ছে। কিন্তু, মনের সঙ্গে শরীরের এই বাড়তি ওজনের কি কোনো যোগসূত্র আছে কিনা ভেবে দেখেছেন কি?
আধুনিক গবেষণা বলছে, সম্পর্ক আছে এবং তা একমুখী নয়, বরং দুই দিক থেকেই প্রভাব ফেলে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্থূলতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যাগুলোও বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের স্থূলতা আছে তাদের মধ্যে ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। আবার দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থেকেও ওজন বাড়তে পারে।
প্রথমত, মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের সময় শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদি কর্টিসল বৃদ্ধি ক্ষুধা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। অনেকেই ‘ইমোশনাল ইটিং’-এর শিকার হন, অর্থাৎ - দুঃখ, একাকীত্ব বা রাগের সময়ে অতিরিক্ত খাওয়া। এতে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, ডিপ্রেশন থাকলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়। ক্লান্তি, আগ্রহহীনতা ও ঘুমের ব্যাঘাত - সব মিলিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম বা স্বাস্থ্যকর রুটিন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ক্যালরি খরচ কমে যায়, ওজন বাড়ে।
তৃতীয়ত, সামাজিক বৈষম্য ও বডি শেমিংও বড় ভূমিকা রাখে। যাদের ওজন বেশি, তারা অনেক সময় কটূক্তি বা বৈষম্যের শিকার হন। এতে আত্মসম্মান কমে যায়, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ে, যা আবার ডিপ্রেশনকে উসকে দেয়। অর্থাৎ একটি চক্র তৈরি হয় - ওজন বাড়ে, মন খারাপ হয়; মন খারাপ হয়, ওজন আরও বাড়ে।
গবেষণায় এ তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে যে - স্থূলতা ও বিষণ্নতার মধ্যে দ্বিমুখী সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ স্থূলতা ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়, আবার ডিপ্রেশনও স্থূলতার সম্ভাবনা বাড়ায়।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার - সব স্থূল ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় ভোগেন না, এবং সব মানসিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি স্থূল হন না। জেনেটিক্স, পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, সামাজিক সমর্থন - সব মিলিয়েই চিত্রটি তৈরি হয়।
তাহলে করণীয় কী?
শুধু ডায়েট চার্ট বা জিম মেম্বারশিপ দিয়ে সমস্যার সমাধান সবসময় হয় না। মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সিলরের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (সিবিটি) ইমোশনাল ইটিং কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত ঘুম, ছোট ছোট হাঁটা, পরিবারের সমর্থন - এসবও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
স্থূলতাকে কেবল ইচ্ছাশক্তির ঘাটতি হিসেবে দেখলে আমরা সমস্যার অর্ধেকটাই বুঝি। শরীর ও মন একই সিস্টেমের অংশ। একটিকে উপেক্ষা করলে অন্যটি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ওজন কমানোর যাত্রা শুরু হোক আত্মদোষারোপ নয়, আত্মবোঝাপড়া দিয়ে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জামা সাইকিয়াট্রি, দ্য ল্যানসেট সাইকিয়াট্রি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং
এএমপি/এমএস
What's Your Reaction?