মামলা-সম্পদে পিছিয়ে রশিদ এগিয়ে ইকবাল, আয় বেশি এনামুলের

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নেমেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। তবে দল মনোনয়ন দিয়েছে জোটের শরীক দলের নেতা রশিদ আহমাদকে। সম্পদ ও মামলা—দুটিতেই রশিদ আহমাদের চেয়ে এগিয়ে শহীদ ইকবাল হোসেন। তবে শহীদ ইকবালের চেয়ে মামলা কম থাকলেও আয় বেশি জামায়াত প্রার্থী গাজী এনামুল হকের। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে রশিদ আহমাদকে। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব। জোটের শরিক হিসেবে তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে তার দলের নিবন্ধন না থাকায় লড়বেন ধানের শীষ প্রতীকে। এই আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক। শহীদ ইকবাল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির নেতা শহীদ ইকবাল হোসেন হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তার নামে বিভিন্ন সময়ে ৩৮টি মামলা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি মামলা বিচারাধীন। বাকি ২৩টি মামলা নিষ্পত্তি, খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। তার

মামলা-সম্পদে পিছিয়ে রশিদ এগিয়ে ইকবাল, আয় বেশি এনামুলের

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নেমেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। তবে দল মনোনয়ন দিয়েছে জোটের শরীক দলের নেতা রশিদ আহমাদকে। সম্পদ ও মামলা—দুটিতেই রশিদ আহমাদের চেয়ে এগিয়ে শহীদ ইকবাল হোসেন। তবে শহীদ ইকবালের চেয়ে মামলা কম থাকলেও আয় বেশি জামায়াত প্রার্থী গাজী এনামুল হকের।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে রশিদ আহমাদকে। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব। জোটের শরিক হিসেবে তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে তার দলের নিবন্ধন না থাকায় লড়বেন ধানের শীষ প্রতীকে। এই আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক।

শহীদ ইকবাল হোসেন

স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির নেতা শহীদ ইকবাল হোসেন হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তার নামে বিভিন্ন সময়ে ৩৮টি মামলা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি মামলা বিচারাধীন। বাকি ২৩টি মামলা নিষ্পত্তি, খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ১৮ হাজার ৪০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৯০ হাজার টাকা, ব্যবসায় তিন লাখ টাকা এবং পরামর্শক হিসেবে আয় এক লাখ টাকা।

তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৪ টাকা। এরমধ্যে নগদ চার লাখ ৪২ হাজার ৬২৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ১০ লাখ টাকা, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের যানবাহন, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য এবং দুই লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র।

শহীদ ইকবাল হোসেনের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৫৯৯ টাকা। ৫২ শতক পৈতৃক কৃষি জমি, এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ১৭ দশমিক ৫০ শতক অকৃষি জমি, ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭২০ টাকার ভবন।

হলফনামায় পৈতৃক বাড়ির তথ্য থাকলেও এর দাম উল্লেখ নেই। উপহার হিসেবে পাওয়া ৩৫ ভরি সোনা রয়েছে তার। তার স্ত্রী মেরি ইকবাল পেশায় গৃহিণী। তার বার্ষিক আয় ৪৫ হাজার টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ১৫ হাজার ও বাড়ি ভাড়া ৩০ হাজার টাকা।

স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দুই লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এরমধ্যে দুই লাখ টাকা নগদ, ব্যাংকে জমা ১৫ হাজার, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ২৪ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন। স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮৫ টাকা। এরমধ্যে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কৃষিজমি ৫২ শতক, তিন লাখ টাকা মূল্যের ৩ দশমিক ৫০ শতক অকৃষি জমি, তিন লাখ টাকা মূল্যের টিনশেডের দোকান।

রশিদ আহমাদ

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রশিদ আহমাদ স্নাতকোত্তর পাস। তার বার্ষিক আয় তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ৪০ হাজার টাকা ও শিক্ষকতায় তিন লাখ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকা। এরমধ্যে নগদ টাকা সাত লাখ ১২ হাজার ৫১৬ টাকা, ব্যাংকে জমা ৬৬ হাজার ৩০৬ টাকা, ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল, দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র এবং পাঁচ ভরি উপহার হিসেবে পাওয়া সোনা রয়েছে।

তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে পৈতৃক ১০২ দশমিক ৮০৫ শতক কৃষিজমি, পৈতৃক ও দানসূত্রে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতক অকৃষি জমি, পৈতৃক ১৬০০ বর্গফুটের একতলা একটি ভবন।

রশিদ আহমাদের নামে একটি মামলা থাকলেও সেটিতে ২০২৫ সালে খালাস পেয়েছেন। তার স্ত্রী রহিমা খাতুনের পেশা শিক্ষকতা উল্লেখ করলেও তার বার্ষিক আয় ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ নেই হলফনামায়।

গাজী এনামুল হক

পেশায় আইনজীবী গাজী এনামুল হকের নামে ১৯টি মামলা ছিল। বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন। আইন পেশায় তার বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছয় লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা। এরমধ্যে নগদ পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। তার পৈতৃক সম্পত্তির মূল্য অজানা উল্লেখ করলেও সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখ করেননি। তার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬৭ টাকা মূল্যের জমিসহ একতলা ভবন।

গাজী এনামুল হকের স্ত্রী সামছুন নাহার গৃহিণী। তার আয়ের উৎস উল্লেখ করা হয়নি। তার অস্থাবর সম্পদ নগদ ১৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ও স্থাবর সম্পদ ২৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৪ টাকা।

মিলন রহমান/এসআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow