মার্কিন রণতরি ধ্বংসে চীনের ‘সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল’ কিনছে ইরান

ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী প্রস্তুতির মধ্যেই চীনের থেকে বিধ্বংসী ‘সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল’ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে তেহরান। যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আরও দুই বছর আগে থেকে আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও চীন। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর এ চুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। কোন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা? আলোচনায় থাকা ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ‘সিএম-৩০২’ (CM-302) সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহে ইরান, চীন ও রাশিয়া হরমুজ প্রণালী, ওমান উপসাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহকে উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এই মিসাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামর

মার্কিন রণতরি ধ্বংসে চীনের ‘সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল’ কিনছে ইরান

ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী প্রস্তুতির মধ্যেই চীনের থেকে বিধ্বংসী ‘সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল’ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে তেহরান।

যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আরও দুই বছর আগে থেকে আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও চীন। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর এ চুক্তির পথ প্রশস্ত হয়।

কোন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা?

আলোচনায় থাকা ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ‘সিএম-৩০২’ (CM-302) সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাশাপাশি গত সপ্তাহে ইরান, চীন ও রাশিয়া হরমুজ প্রণালী, ওমান উপসাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহকে উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এই মিসাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দফায় আলোচনা চললেও ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে।

বর্তমানে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে এবং ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে। এছাড়া বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বহুসংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান ইসরায়েলে অবতরণ করেছে। অত্যাধুনিক এসব যুদ্ধবিমানগুলোকে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে অনেকটা গোপনে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হয়েছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েললে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইরানে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন এফ-৩৫, এগ-১৫, এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোকে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।

চীন-ইরান সামরিক সম্পর্ক

চীন ও ইরানের সামরিক সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরোনো। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় চীনের তৈরি এইচওয়াই-২ ‘সিল্কওয়ার্ম’ ক্ষেপণাস্ত্র ইরান ব্যবহার করেছিল। ২০১০ সালে ইরান চীনের ‘এইচকিও-৯’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

সম্প্রতি মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরান চীনের কাছ থেকে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি সংগ্রহ করেছে, যার মূল্য তেল সরবরাহের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।

বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়।

এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে ইরান। সমুদ্রপথে বিশ্বে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যায়। সম্প্রতি ইরান অস্থায়ীভাবে প্রণালিটি বন্ধ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বোপরি সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণের এই জটিল পরিস্থিতিতে ইরান-চীন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow