মালিকের অজান্তেই ‘প্রত্নসম্পদ’ ঘোষণা, ‘রঘুনাথ ভবন’ ঘিরে বিতর্ক

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মির্জাপুরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘রঘুনাথ ভবন’কে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ ঘোষণা করা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভবনের প্রকৃত মালিকদের মতামত বা সম্মতি ছাড়াই সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভবনটিকে সংরক্ষিত হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রঘুনাথ ভবনের মূল মালিক ছিলেন জমিদার রায় মোহন সাহা রায়। পরবর্তীতে এসএ ও আরএস জরিপে তার উত্তরাধিকারীদের নামে সম্পত্তি রেকর্ডভুক্ত হয়। বর্তমানে ভবন ও সংলগ্ন ১.৩৭ একর (১৩৭ শতাংশ) জমির একাংশের মালিক শশী মোহন সাহা রায়ের পাঁচ পুত্র। তাদের মধ্যে একজন এখনো ভবনের পাশে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আরএস রেকর্ডীয় মালিকরা মালিকানা হস্তান্তরে সম্মত হয়েছেন। তবে এ দাবিকে ভিত্তিহীন ও প্রতারণামূলক বলে দাবি করেছেন শশী মোহন সাহা রায়ের ওয়ারিশরা। তাদের ভাষ্য, তারা কখনোই এ ধরনের কোনো সম্মতি দেননি। ওয়ারিশদের অভিযোগ, জমিদার পরিবারের সদস্য বিপ্লব রায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে ভবনটিকে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে অন্য ওয়ারিশদে

মালিকের অজান্তেই ‘প্রত্নসম্পদ’ ঘোষণা, ‘রঘুনাথ ভবন’ ঘিরে বিতর্ক

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মির্জাপুরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘রঘুনাথ ভবন’কে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ ঘোষণা করা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভবনের প্রকৃত মালিকদের মতামত বা সম্মতি ছাড়াই সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভবনটিকে সংরক্ষিত হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রঘুনাথ ভবনের মূল মালিক ছিলেন জমিদার রায় মোহন সাহা রায়। পরবর্তীতে এসএ ও আরএস জরিপে তার উত্তরাধিকারীদের নামে সম্পত্তি রেকর্ডভুক্ত হয়। বর্তমানে ভবন ও সংলগ্ন ১.৩৭ একর (১৩৭ শতাংশ) জমির একাংশের মালিক শশী মোহন সাহা রায়ের পাঁচ পুত্র। তাদের মধ্যে একজন এখনো ভবনের পাশে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আরএস রেকর্ডীয় মালিকরা মালিকানা হস্তান্তরে সম্মত হয়েছেন। তবে এ দাবিকে ভিত্তিহীন ও প্রতারণামূলক বলে দাবি করেছেন শশী মোহন সাহা রায়ের ওয়ারিশরা। তাদের ভাষ্য, তারা কখনোই এ ধরনের কোনো সম্মতি দেননি।

ওয়ারিশদের অভিযোগ, জমিদার পরিবারের সদস্য বিপ্লব রায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে ভবনটিকে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে অন্য ওয়ারিশদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যায়। তাদের দাবি, মোট ১০ জন ওয়ারিশের মধ্যে মাত্র তিনজন আবেদন করেছেন; বাকি সাতজন এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না।

মালিকের অজান্তেই ‘প্রত্নসম্পদ’ ঘোষণা, ‘রঘুনাথ ভবন’ ঘিরে বিতর্ক

ওয়ারিশরা জানান, সম্পত্তিটি এসএ খতিয়ান নং ১৫০, ৩৫৫, ৫১৮ এবং আরএস খতিয়ান নং ৬২৮-এ অন্তর্ভুক্ত। তাদের অভিযোগ, সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় যথাযথ যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তারা বলেন, পুরাকীর্তি আইন, ১৯৬৮-এর ধারা ১০(২) অনুযায়ী সংরক্ষিত পুরাতত্ত্ব ঘোষণা করার পর প্রজ্ঞাপনের কপি সংশ্লিষ্ট মালিকদের কাছে পাঠানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো কপি পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা কেশব লাল সাহা বলেন, এটি ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি এবং ওয়ারিশরা দেশে বসবাস করছেন। সরকারি কোনো কর্মকর্তা তদন্তে এসেছেন বলেও তিনি জানেন না।

এলাকার ব্যবসায়ী রঞ্জিত দেবনাথ বলেন, সম্পত্তিটি পৈতৃক হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয়দের মতামত নেওয়া হয়নি এবং কোনো যাচাই-বাছাই চোখে পড়েনি। একই অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মনির উদ্দিনও।

মালিকের অজান্তেই ‘প্রত্নসম্পদ’ ঘোষণা, ‘রঘুনাথ ভবন’ ঘিরে বিতর্ক

ওয়ারিশ উত্তম কুমার সাহা বলেন, তাদের অজ্ঞাতে মাত্র তিনজন আবেদন করেছেন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড টানানোর পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ভবনটি পরিদর্শনে আসেন ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা। তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এসকে রাসেল/কেএইচকে/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow