মালয়েশিয়ায় ১০৫ প্রবাসী শ্রমিককে সহায়তায় হাইকমিশনকে আইনি নোটিশ

মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংয়ে অবস্থিত অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে কর্মরত ১০৫ বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য জরুরি কনস্যুলার, মানবিক ও আইনি সহায়তা চেয়ে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবী স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুন) এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বর্তমানে গুরুতর শ্রম, কর্মসংস্থান, কল্যাণ ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সংকটে রয়েছেন। অনেকেই অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পোর্ট ক্লাং শ্রম আদালতে তাদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে যৌথ মামলা চলমান রয়েছে। আইনজীবীর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শ্রমিকদের পাসপোর্টের তথ্য, ভিসার মেয়াদ এবং ওয়ারেন্ট টু অ্যাক্টসহ বিভিন্ন নথি যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ চলছে। তবে শ্রমিকদের বড় একটি অংশ বর্তমানে চরম খাদ্যসংকট ও মৌলিক চাহিদার অভাবে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অনেকের থাকার স্থানে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিবাসী কল্যাণ নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন), সোশ্যালিস্ট অল্টারনেটিভসহ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অস্থায়ীভাবে খাদ্য, যাতায়াত, অ

মালয়েশিয়ায় ১০৫ প্রবাসী শ্রমিককে সহায়তায় হাইকমিশনকে আইনি নোটিশ

মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংয়ে অবস্থিত অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে কর্মরত ১০৫ বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য জরুরি কনস্যুলার, মানবিক ও আইনি সহায়তা চেয়ে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবী স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুন) এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বর্তমানে গুরুতর শ্রম, কর্মসংস্থান, কল্যাণ ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সংকটে রয়েছেন। অনেকেই অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পোর্ট ক্লাং শ্রম আদালতে তাদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে যৌথ মামলা চলমান রয়েছে।

আইনজীবীর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শ্রমিকদের পাসপোর্টের তথ্য, ভিসার মেয়াদ এবং ওয়ারেন্ট টু অ্যাক্টসহ বিভিন্ন নথি যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ চলছে। তবে শ্রমিকদের বড় একটি অংশ বর্তমানে চরম খাদ্যসংকট ও মৌলিক চাহিদার অভাবে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অনেকের থাকার স্থানে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও নেই।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিবাসী কল্যাণ নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন), সোশ্যালিস্ট অল্টারনেটিভসহ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অস্থায়ীভাবে খাদ্য, যাতায়াত, অনুবাদ, গবেষণা ও নথিপত্র প্রস্তুতসহ জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কনস্যুলার সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বিকল্প হতে পারে না।

আইনজীবী জানান, অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শ্রমিকরা খাদ্য, বৈধ অভিবাসন সুরক্ষা, কার্যকর আইনি প্রতিনিধিত্ব এবং বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

নোটিশে শ্রমিকদের ভিসার বর্তমান অবস্থার একটি শ্রেণিবিন্যাস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জন শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। আরও ৩৪ জনের ভিসার মেয়াদ আগামী ২৯ জুন থেকে ২৬ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হবে। বাকি ৪৩ জনের ভিসার মেয়াদ তিন মাসের বেশি সময় পর্যন্ত বৈধ রয়েছে।

শ্রমিকদের পাসপোর্ট ও মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দ্রুত যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জরুরি কনস্যুলার ও মানবিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঋণগ্রস্ত এসব প্রবাসী শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা ও সংকট নেমে আসতে পারে।

এদিকে, মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল পোর্ট ক্লাং এলাকায় বিভিন্ন সময় শ্রমিক নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার ঘটনাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow