মায়ের কষ্ট দূর করার স্বপ্ন দেখা সানি রেখে গেলেন শূন্যতা

মাত্র ২০ বছর বয়সেই সানির জীবন থেমে গেল। স্বামীকে হারিয়ে বছরের পর বছর গার্মেন্টসে কাজ করে ছেলেদের বড় করেছেন মা আশোকী জলদাস। সেই ছেলে প্রাণ হারালো জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে। মায়ের দুঃখ-কষ্ট দূর করার স্বপ্ন দেখা সানি পরিবারের জন্য রেখে গেলেন গভীর শূন্যতা। স্বামী প্রদীপ জলদাসকে হারিয়েছিলেন ১১ বছর আগে। এরপর গার্মেন্টসে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন মা আশোকী। বড় ছেলে চন্দনও চাকরি করেন, আর ছোট ছেলে সানি জলদাস মাত্র ২০ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, একদিন সানি তাদের কষ্টের দিন বদলাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল সানির। সানির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী মির্জানগর জেলেপাড়ায়। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ওই জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কাজ করতেন। সানির নানা সুবল দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তাদের পরিবারের কোনো স্থায়ী বসতভিটা নেই। একসময় সাগরে মাছ ধরে জীবিকা চলত। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সানির বাবা প্রদীপ জলদাস ছিলেন সবার বড়। বিয়ের কয়েক বছর পর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রদীপ। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাব

মায়ের কষ্ট দূর করার স্বপ্ন দেখা সানি রেখে গেলেন শূন্যতা

মাত্র ২০ বছর বয়সেই সানির জীবন থেমে গেল। স্বামীকে হারিয়ে বছরের পর বছর গার্মেন্টসে কাজ করে ছেলেদের বড় করেছেন মা আশোকী জলদাস। সেই ছেলে প্রাণ হারালো জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে। মায়ের দুঃখ-কষ্ট দূর করার স্বপ্ন দেখা সানি পরিবারের জন্য রেখে গেলেন গভীর শূন্যতা।

স্বামী প্রদীপ জলদাসকে হারিয়েছিলেন ১১ বছর আগে। এরপর গার্মেন্টসে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন মা আশোকী। বড় ছেলে চন্দনও চাকরি করেন, আর ছোট ছেলে সানি জলদাস মাত্র ২০ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, একদিন সানি তাদের কষ্টের দিন বদলাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল সানির।

সানির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী মির্জানগর জেলেপাড়ায়। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ওই জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কাজ করতেন।

সানির নানা সুবল দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তাদের পরিবারের কোনো স্থায়ী বসতভিটা নেই। একসময় সাগরে মাছ ধরে জীবিকা চলত। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সানির বাবা প্রদীপ জলদাস ছিলেন সবার বড়।

বিয়ের কয়েক বছর পর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রদীপ। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেননি। একপর্যায়ে ১১ বছর আগে মারা যান তিনি। তখন তার দুই ছেলে চন্দন ও সানি ছিল ছোট।

স্বামীকে হারানোর পর মা আশোকী জলদাস গার্মেন্টসে চাকরি নেন। সেই আয়ে দুই ছেলেকে বড় করেন। বড় ছেলে চন্দন এখন গার্মেন্টসে কাজ করেন। সংসারের হাল ধরতে ছোট ছেলে সানি যোগ দেন জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে।

নানা সুবল দাস বলেন, ‘২০ বছরের নাতি এভাবে অকালে চলে যাবে, কখনো ভাবিনি। ওদের সংসারে এমনিতেই অনেক কষ্ট। বাবা নেই, মা অনেক কষ্ট করে দুই ছেলেকে বড় করেছে।’

সানির বড় ভাই চন্দন জানান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের থানায় ডেকেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে তারা রাজি নন বলে জানান তিনি।

সানির এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর সানি ইয়ার্ডের গেটের সামনে চলে এসেছিলেন। কিন্তু তাকে দ্রুত বের হতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে তারা জানতে পারেন, বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

ওই স্বজনের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে হয়ত প্রাণহানি কমানো সম্ভব হতো। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এতগুলো তরতাজা প্রাণ ঝরে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে বিষক্রিয়ায় নয় শ্রমিক নিহত হন। তাদের একজন সানি জলদাস।

এম মাঈন উদ্দিন/কেজে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow