মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে ব্যয় ৯৮৩ কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বলেছেন, ‘মুজিববর্ষ’ পালন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে এবং শেখ মুজিবের ছবি ও বেদি তৈরি, বিভিন্ন সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা, মার্বেল পাথরের মূর্তি বানাইতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করেছে।  রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে জামায়াতের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।  মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি, ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি, ৩ লাখ ২০ হাজার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার, সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি, ২৬ লাখ ৪১ হাজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার, সড়ক পরিব

মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে ব্যয় ৯৮৩ কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বলেছেন, ‘মুজিববর্ষ’ পালন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে এবং শেখ মুজিবের ছবি ও বেদি তৈরি, বিভিন্ন সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা, মার্বেল পাথরের মূর্তি বানাইতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। 

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে জামায়াতের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। 

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি, ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি, ৩ লাখ ২০ হাজার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার, সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি, ২৬ লাখ ৪১ হাজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২৩ কোটি ২০ হাজার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে।

সম্পূরক প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান জানতে চান, এই বিপুল সরকারি ব্যয়ের কোনো নিরীক্ষা বা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না। সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনা হবে কি না এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির প্রচারে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তাও জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষের ব্যয় নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মুজিববর্ষ ছাড়াও আগের সরকারের সময় বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের আরও অনেক বিষয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সেগুলোর হিসাব যাচাই করছে। এই যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তো শুধু মুজিব বর্ষ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এক বছরে খাওয়া দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা’।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের সঙ্গে আগের প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের তুলনা টেনে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এ ধরনের আরও অনেক ব্যয় রয়েছে। তিনি বলেন, সবগুলোর বিষয়ে ক্রমান্বয়ে স্টক চেকিং করছি। পরবর্তীতে এটা কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে ভবিষ্যতে আমি নিশ্চিত করবো।

স্বতন্ত্র সংসদ রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তও চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে সংসদকে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়েছি। অনেক মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত অনেকের সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার তার কঠোর অবস্থানে অনড়। তিনি বলেন, দেশের টাকা লুট করে যারা বিদেশে পালিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে বিএনপি কোনো আপস করবে না। এই সরকারও কোনো আপস করবে না। এই অভিযান চলতেই থাকবে।

আমির খসরু বলেন, সরকার এ পর্যন্ত যেসব আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি একাধিকবার সংসদকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৩ টি লাইন অব ক্রেডিট ঋণচুক্তির আওতায় বর্তমানে ৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow