মুন্সিগঞ্জে প্রথম আলোর সাংবাদিককে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত, বিএনপি নেতা আটক

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দৈনিক প্রথম আলোর ফিচার বিভাগের প্রধান আলোকচিত্রী কবির হোসেনকে কুপিয়ে এবং তার ছোট ভাইকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের দোসরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া জাহাঙ্গীর মাদবর নামে এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গীর মাদবর উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালুরচর গ্রামে ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত লালন সাঁইয়ের এই আশ্রমটি স্থানীয়ভাবে পদ্মহেম ধাম বা বাউল বাড়ি নামে পরিচিত। প্রায় ২১ বছর আগে এটি প্রতিষ্ঠিত করেন সাংবাদিক কবির হোসেন। মঙ্গলবার আশ্রমের দখলকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, দোষরপাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। আহত কবির হোসেন (৪৫) দোসরপাড়া এলাকার প্রয়াত মালেক মাদবরের ছেলে। অপর আহত ব্যক্তি তার ছোট ভাই তকবির হোসেন (৪৪)। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে কবির হোসেনের অবস্থার অবনতি

মুন্সিগঞ্জে প্রথম আলোর সাংবাদিককে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত, বিএনপি নেতা আটক

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দৈনিক প্রথম আলোর ফিচার বিভাগের প্রধান আলোকচিত্রী কবির হোসেনকে কুপিয়ে এবং তার ছোট ভাইকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের দোসরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া জাহাঙ্গীর মাদবর নামে এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গীর মাদবর উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালুরচর গ্রামে ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত লালন সাঁইয়ের এই আশ্রমটি স্থানীয়ভাবে পদ্মহেম ধাম বা বাউল বাড়ি নামে পরিচিত। প্রায় ২১ বছর আগে এটি প্রতিষ্ঠিত করেন সাংবাদিক কবির হোসেন। মঙ্গলবার আশ্রমের দখলকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দোষরপাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।

আহত কবির হোসেন (৪৫) দোসরপাড়া এলাকার প্রয়াত মালেক মাদবরের ছেলে। অপর আহত ব্যক্তি তার ছোট ভাই তকবির হোসেন (৪৪)।

এ ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে কবির হোসেনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোসরপাড়া এলাকায় কবির হোসেনদের পরিচালিত একটি লালন আখড়া রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মাদবর ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মাদবর আখড়া ও এর জমি দখল করে সেখানে ইটভাটা নির্মাণের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে কবির হোসেনকে হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে কবির হোসেন আখড়ার সীমানা প্রাচীরের কাজ করছিলেন। এসময় জাহাঙ্গীর মাদবর, তার ছেলে তৌহিদ মাদবর, জাহেদ মাদবর, আলাউদ্দিন মাদবর, শাহরিয়ার মাদবর, সংগ্রাম, সাহিল ও আহম্মদ মাদবরসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে হামলা চালান।

মুন্সিগঞ্জে প্রথম আলোর সাংবাদিককে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত, বিএনপি নেতা আটক

এক পর্যায়ে কবির হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ভাই তকবির হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয়।

সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জাহানারা আক্তার বলেন, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে কবির হোসেনের মাথা ও দাঁতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কবির হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জাহাঙ্গীর ও আলাউদ্দিনরা লালনের আখড়া দখলের চেষ্টা করে আসছিল। আখড়া রক্ষা করতে হলে তারা আমার কাছে টাকা চেয়েছিল। আমি রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় আখড়ার লোকজনকে মারধর করেছে। আখড়ায় এসে মাদক সেবন ও ব্যবসা করত। দর্শনার্থীদেরও হয়রানি করত। তারা আখড়াটি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। এবার আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে।’

স্থানীয় বাউলশিল্পী ও কবির হোসেনের ছোট ভাই তকবির হোসেন বলেন, ‘সময়মতো না গেলে তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলত। আমিও আহত হয়েছি। লালনের আখড়া রক্ষা করতে গিয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি। এখন আমাদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরই মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী বলেন, অপরাধী কেউ দলের নাম ব্যবহার করে রেহাই পাবে না। ঘটনার কথা জানার পর আমরা থানায় গিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করেছি। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

শুভ ঘোষ/এফএ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow