মৃত বোনের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

ভারতের উড়িষ্যায় হাড় হিম করা এক ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের কেওঁঝর জেলায় এক ব্যক্তি তার মৃত বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল নিয়েই ব্যাংকে হাজির হয়েছেন। সোমবার (২৬ এপ্রিল) এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কেওঁঝর জেলার পাটনা ব্লকের মালিপোসি শাখায় অবস্থিত উড়িষ্যা গ্রামীণ ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তির নাম জিতু মুন্ডা (৫০), তিনি ডিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা। “GRAVE PROOF OF DEATH” SHOCK: MAN BRINGS SKELETON TO BANK IN ODISHAIn Keonjhar district, a man exhumed his sister’s body and carried her skeleton to a bank after failing to withdraw ₹20,000 from her account. Unable to understand documentation rules and believing… pic.twitter.com/O1ehOC3e4w — THE OUTLIER (@Theoutliergx) April 28, 2026 জানা গেছে, বেশকিছু দিন ধরে তিনি তার বড় বোন কালরা মুন্ডার (৫৬) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার রুপি তুলতে চেয়েছিলেন। অসুস্থতায় দুই মাস আগে মারা যান কালরা মুন্ডা। গবাদিপশু বিক্রি করে এই অর্থ উপার্জন করেছিলেন ওই নারী। অন্য কোনো আইনগত উত্তরাধিকারী না থাকায়, কয়েকদিন আগে জিতু মুন্ডা ব্যাংকে গিয়ে টাকা ত

মৃত বোনের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

ভারতের উড়িষ্যায় হাড় হিম করা এক ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের কেওঁঝর জেলায় এক ব্যক্তি তার মৃত বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল নিয়েই ব্যাংকে হাজির হয়েছেন। সোমবার (২৬ এপ্রিল) এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কেওঁঝর জেলার পাটনা ব্লকের মালিপোসি শাখায় অবস্থিত উড়িষ্যা গ্রামীণ ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তির নাম জিতু মুন্ডা (৫০), তিনি ডিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, বেশকিছু দিন ধরে তিনি তার বড় বোন কালরা মুন্ডার (৫৬) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার রুপি তুলতে চেয়েছিলেন। অসুস্থতায় দুই মাস আগে মারা যান কালরা মুন্ডা। গবাদিপশু বিক্রি করে এই অর্থ উপার্জন করেছিলেন ওই নারী।

অন্য কোনো আইনগত উত্তরাধিকারী না থাকায়, কয়েকদিন আগে জিতু মুন্ডা ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলতে চান। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাকে টাকা তুলতে মৃত্যুসনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেন।

কিন্তু জিতু মুন্ডা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারেননি। ফলে তিনি তার বোনের কবর থেকে কঙ্কাল তুলে আনেন।

নিরক্ষর জিতু মুন্ডা সাংবাদিকদের বলেন, আমি বহুবার ব্যাংকে গেছি; কিন্তু তারা বলেছেন, টাকা তুলতে হলে অ্যাকাউন্টের মালিককে আনতে হবে। আমি বলেছি, আমার বোন মারা গেছে, কিন্তু তারা আমার কথা শোনেননি। তাই বাধ্য হয়ে কবর খুঁড়ে বোনের কঙ্কাল তুলে এনেছি, যেন প্রমাণ করতে পারি যে তিনি মারা গেছেন।

এদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান পাটনা থানার পরিদর্শক (আইআইসি) কিরণ প্রসাদ সাহু। তিনি বলেন, জিতু একজন নিরক্ষর আদিবাসী মানুষ। তিনি ‘নমিনি’ কী, তা বোঝেন না। ব্যাংক কর্মকর্তারাও তাকে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াটি বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে ঘটনার পর পুলিশ জিতু মুন্ডাকে আশ্বস্ত করেছে যে, তার মৃত বোনের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার বিষয়ে তারা সহযোগিতা করবে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে কঙ্কালটি আবার দাফন করা হয়।

এদিকে স্থানীয় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) মানস দণ্ডপাট বলেন, কালরা মুন্ডার আইনগত উত্তরাধিকারী বিষয়ে কেউ তার কাছে আগে আসেনি। আজই প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম। আমরা দেখবো, কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়।

অন্যদিকে ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, কালরা মুন্ডার অ্যাকাউন্টে যিনি নমিনি ছিলেন, তিনিও মারা গেছেন। ফলে জমা টাকার একমাত্র দাবিদার জিতু মুন্ডাই। স্থানীয় প্রশাসন ব্যাংক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী একমাত্র দাবিদার জিতু মুন্ডাকে যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow