মৃত ভেবে কুলখানির প্রস্তুতি, ইউএনও জানালেন- বেঁচে আছেন

বিষক্রিয়ায় অসুস্থ অটোরিকশাচালককে মৃত ভেবে বাড়িতে শুরু হয়েছিল কুলখানির আয়োজন। ঠিক সেই সময় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান গিয়ে জানালেন- তিনি বেঁচে আছেন। পরে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে ওই ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিজ খরচে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান তিনি। শনিবার (৪ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, এদিন দুপুরে নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক ছালাতুল্লা (৫০) বিষক্রিয়াজনিত অবস্থায় আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। কিন্তু তাকে হাসপাতালে রেখে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা চলে যান। পরে অভিভাবকহীন অবস্থায় জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা শুরু করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান শিমুল। এক পর্যায়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমানকে জানানো হয়। পরে তিনি ইউএনও মো. আসাদুর রহমানকে অবহিত করেন। এরপর ইউএনও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রোগীর দেওয়া ঠিকানায় যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করেন। সেই সঙ্গে রোগীর বাড়িতে গি

মৃত ভেবে কুলখানির প্রস্তুতি, ইউএনও জানালেন- বেঁচে আছেন

বিষক্রিয়ায় অসুস্থ অটোরিকশাচালককে মৃত ভেবে বাড়িতে শুরু হয়েছিল কুলখানির আয়োজন। ঠিক সেই সময় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান গিয়ে জানালেন- তিনি বেঁচে আছেন। পরে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে ওই ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিজ খরচে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এদিন দুপুরে নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক ছালাতুল্লা (৫০) বিষক্রিয়াজনিত অবস্থায় আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। কিন্তু তাকে হাসপাতালে রেখে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা চলে যান। পরে অভিভাবকহীন অবস্থায় জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা শুরু করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান শিমুল। এক পর্যায়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমানকে জানানো হয়।

পরে তিনি ইউএনও মো. আসাদুর রহমানকে অবহিত করেন। এরপর ইউএনও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রোগীর দেওয়া ঠিকানায় যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করেন। সেই সঙ্গে রোগীর বাড়িতে গিয়ে ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখতে পান, পরিবারের পক্ষ থেকে ছালাতুল্লা মারা গেছেন- এমন খবরে তার কুলখানির প্রস্তুতি চলছে।

পরে ইউএনওর উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে আনা হয়। রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছালাতুল্লা বলেন, তার স্ত্রী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জোর করে বিষপান করিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমার প্রশাসনিক এলাকার বাইরের হলেও একজন মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেছি। চিকিৎসকদের সহযোগিতায় রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, রোগীর জীবন রক্ষাই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সে কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow