মেলার স্টলে বিনামূল্যে বাঁশপাতার চায়ে মুগ্ধ বৃক্ষপ্রেমীরা
এক কাপ চা শুধু ক্লান্তি দূর করার পানীয় নয়; আড্ডা, গল্প আর প্রশান্তিরও অনন্য সঙ্গী। চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি বদলেছে, বদলেছে চায়ের জগতও। প্রচলিত লাল চা বা দুধ চায়ের পাশাপাশি এখন ভেষজ নানা চা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে পরিচিত সব স্বাদের ভিড়ে জাতীয় বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে ব্যতিক্রমী পানীয় বাঁশপাতার চা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে গত ৯ জুলাই শুরু হওয়া মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত। মেলার শেষ সময়ে জমে উঠেছে কেনাবেচা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। ফুল, ফল ও বনজ গাছের অসংখ্য চারার মাঝেও আলাদা করে নজর কাড়ছে একটি বাঁশের নার্সারি। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশের চারা, বাঁশজাত নান্দনিক পণ্য এবং অভিনব আয়োজন নিয়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে কোয়ান্টাম ব্যাম্বুরিয়ান। স্টলের সামনে গেলেই চোখে পড়ে সারি সারি বাঁশের চারা। কেউ আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ সম্পর্কে জানছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ নিজের বাড়ি বা বাগানের জন্য পছন্দের চারা কিন
এক কাপ চা শুধু ক্লান্তি দূর করার পানীয় নয়; আড্ডা, গল্প আর প্রশান্তিরও অনন্য সঙ্গী। চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি বদলেছে, বদলেছে চায়ের জগতও। প্রচলিত লাল চা বা দুধ চায়ের পাশাপাশি এখন ভেষজ নানা চা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে পরিচিত সব স্বাদের ভিড়ে জাতীয় বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে ব্যতিক্রমী পানীয় বাঁশপাতার চা।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে গত ৯ জুলাই শুরু হওয়া মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত। মেলার শেষ সময়ে জমে উঠেছে কেনাবেচা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। ফুল, ফল ও বনজ গাছের অসংখ্য চারার মাঝেও আলাদা করে নজর কাড়ছে একটি বাঁশের নার্সারি। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশের চারা, বাঁশজাত নান্দনিক পণ্য এবং অভিনব আয়োজন নিয়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে কোয়ান্টাম ব্যাম্বুরিয়ান।
স্টলের সামনে গেলেই চোখে পড়ে সারি সারি বাঁশের চারা। কেউ আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ সম্পর্কে জানছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ নিজের বাড়ি বা বাগানের জন্য পছন্দের চারা কিনে নিচ্ছেন। অনেকেই শুধু কৌতূহলবশত স্টলটি ঘুরে দেখছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় জমছে এক কোণায়, যেখানে বিনামূল্যে পরিবেশন করা হচ্ছে বাঁশপাতার চা।
নাম শুনেই অনেকে অবাক হচ্ছেন। এরপর এক কাপ চায়ে চুমুক দিতেই বদলে যাচ্ছে সেই বিস্ময়ের রূপ। কেউ স্বাদ নিয়ে মুগ্ধ, কেউ আবার হাসতে হাসতে বলে উঠছেন, ‘শেষ পর্যন্ত বাঁশের চা খাইয়ে ছাড়লেন আপনারা!’ ব্যতিক্রমী এই আয়োজনই স্টলটিকে মেলার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত করেছে।

বৃক্ষমেলায় খুঁজে নিন আপনার পছন্দের গাছ
জানা যায়, চীনে বহুল প্রচলিত এই বাঁশপাতার চা অর্গানিক সিলিকার আধার। অর্গানিক সিলিকাকে বলা হয় ভেগান কোলাজেন। শরীরের জন্য এই অর্গানিক সিলিকা খুবই উপকারী। ত্বক ও চুলকে স্বাস্থ্যকর রাখায় এই উপাদানের জুড়ি নেই। এ ছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। এই চা শরীরের বিভিন্ন হাড়ের ব্যথা কমায়।
বাঁশপাতার চায়ে চুমুকের পাশাপাশি কথা হয় কোয়ান্টাম ব্যাম্বুরিয়ানের তত্ত্বাবধায়ক সাইফউদ্দিন সাইফের সঙ্গে। দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশ নিচ্ছে তাদের প্রতিষ্ঠান। গত বছরও তারা বাঁশের চারার নার্সারি নিয়ে এসেছিলেন। প্রথমবার থেকেই দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে বাঁশপাতার চা পান করানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাইফউদ্দিন সাইফ বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরাই প্রথম বাঁশপাতার চা নিয়ে কাজ করেছি। অভিনব হওয়ায় মানুষ এর প্রতি আগ্রহও দেখাচ্ছে বেশ ভালোই। অনেকেই প্রথমে কৌতূহল নিয়ে আসেন, পরে চায়ের স্বাদ নিয়ে নিজেদের মতামতও দেন।’
তিনি বলেন, ‘বাঁশপাতার এই পানীয়কে চীনে বলে ‘ব্যাম্বু লিফ টি’। দেশটিতে এই চা বেশ জনপ্রিয়, সেখান থেকে আগ্রহী হয়েই বাংলাদেশেও প্রচার করা হচ্ছে বাঁশপাতার চায়ের। এখানে ফাউন্টেন ও দেশি স্বর্ণা বাঁশের পাতা দিয়ে বানানো হচ্ছে চা। স্টলে এসে এই চা পানের পাশাপাশি অনেকেই আমাদের থেকে নানা তথ্যও জানছেন।’
বর্তমানে বাজারে বাণিজ্যিকভাবে বাঁশপাতার চা পাওয়া যায় না। তবে ভবিষ্যতে এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কোয়ান্টাম ব্যাম্বুরিয়ানের এই তত্ত্বাবধায়ক।
দর্শনার্থীদের মতে, এটি শুধু একটি নার্সারি নয় বরং প্রকৃতি, শিক্ষা ও নতুন অভিজ্ঞতার অনন্য মিলনমেলা। চারা বিক্রির পাশাপাশি মানুষকে বাঁশের বৈচিত্র্য, পরিবেশ সংরক্ষণে এর ভূমিকা এবং বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করছে এই স্টল। ফলে মেলার শেষ মুহূর্তে এসে বাঁশের চারা আর এক কাপ বাঁশপাতার চা—দুটোই হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের স্মরণীয় অভিজ্ঞতার অংশ।
এসইউ
What's Your Reaction?
