মেসেজের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া, শুধুই ভদ্রতা নাকি মানসিক চাপ

অনেকেই আছেন যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, ফোনে নোটিফিকেশনের শব্দ শোনা মাত্রই মোবাইল হাতে তুলে নেন। মেসেজ না দেখে থাকতে পারেন না। মনে হয়, এখনই উত্তর না দিলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মিস হয়ে যাবে। বাইরে থেকে এই আচরণকে সাধারণত ভদ্রতা বা দায়িত্বশীলতা হিসেবে দেখলেও মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি বেশ গভীর এবং জটিল। মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী, একটি মেসেজ আসা মানে শুধু তথ্য পাওয়া নয়, এটি মস্তিষ্কের কাছে একটি অসম্পূর্ণ সামাজিক পরিস্থিতি তৈরি করে। মানুষের মস্তিষ্ক অসম্পূর্ণ কাজ বা পরিস্থিতিকে সহজে মেনে নিতে পারে না। ফলে সেটি বারবার মনে পড়ে এবং অস্বস্তি তৈরি করে। এই মানসিক অবস্থার পেছনে কাজ করে জাইগারনিক ইফেক্ট। অর্থাৎ কোনো কাজ বা ঘটনা অসম্পূর্ণ থাকলে তা আমাদের মনে বারবার ফিরে আসে। মেসেজের উত্তর না দেওয়া সেই অসম্পূর্ণ কাজের মতোই মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করে। ভদ্রতা নাকি ভেতরের অস্থিরতা? বাইরে থেকে মনে হয় দ্রুত রিপ্লাই দেওয়া মানে ভদ্রতা বা শিষ্টাচার। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় এর পেছনে কাজ করে এক ধরনের অদৃশ্য উদ্বেগ। যাদের মধ্যে সামাজিক ভয় বা মানুষ কী ভাববে-এই চিন্তা বেশি থাকে, তারা মেসেজ ফেলে রাখতে পারেন না। অনেকের মাথায়

মেসেজের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া, শুধুই ভদ্রতা নাকি মানসিক চাপ

অনেকেই আছেন যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, ফোনে নোটিফিকেশনের শব্দ শোনা মাত্রই মোবাইল হাতে তুলে নেন। মেসেজ না দেখে থাকতে পারেন না। মনে হয়, এখনই উত্তর না দিলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মিস হয়ে যাবে। বাইরে থেকে এই আচরণকে সাধারণত ভদ্রতা বা দায়িত্বশীলতা হিসেবে দেখলেও মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি বেশ গভীর এবং জটিল।

মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী, একটি মেসেজ আসা মানে শুধু তথ্য পাওয়া নয়, এটি মস্তিষ্কের কাছে একটি অসম্পূর্ণ সামাজিক পরিস্থিতি তৈরি করে। মানুষের মস্তিষ্ক অসম্পূর্ণ কাজ বা পরিস্থিতিকে সহজে মেনে নিতে পারে না। ফলে সেটি বারবার মনে পড়ে এবং অস্বস্তি তৈরি করে।

এই মানসিক অবস্থার পেছনে কাজ করে জাইগারনিক ইফেক্ট। অর্থাৎ কোনো কাজ বা ঘটনা অসম্পূর্ণ থাকলে তা আমাদের মনে বারবার ফিরে আসে। মেসেজের উত্তর না দেওয়া সেই অসম্পূর্ণ কাজের মতোই মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করে।

jago

ভদ্রতা নাকি ভেতরের অস্থিরতা?

বাইরে থেকে মনে হয় দ্রুত রিপ্লাই দেওয়া মানে ভদ্রতা বা শিষ্টাচার। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় এর পেছনে কাজ করে এক ধরনের অদৃশ্য উদ্বেগ। যাদের মধ্যে সামাজিক ভয় বা মানুষ কী ভাববে-এই চিন্তা বেশি থাকে, তারা মেসেজ ফেলে রাখতে পারেন না।

অনেকের মাথায় নানা ধরনের নেতিবাচক চিন্তা ঘুরতে থাকে, যেমন আমি কি কিছু ভুল বললাম, সে কি রাগ করেছে, আমি কি ইগনোর করছি, দেরি করলে সম্পর্ক খারাপ হবে না তো, এই ধরনের ভাবনাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় হিসেবে মানুষ দ্রুত রিপ্লাই দেয়। অর্থাৎ এটি শুধু ভদ্রতা নয়, অনেক সময় নিজের ভেতরের অস্বস্তি কমাতে এই কৌশল ব্যবহার করে।

সবসময় ‘অ্যাভেইলেবল’ থাকা মানসিকভাবে ক্লান্তিকর

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সব সময় সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেওয়ার অভ্যাস মানুষকে মানসিক ভাবে ক্লান্ত করে তোলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা সব সময় দ্রুত উত্তর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনুভব করেন, তাদের মধ্যে স্ট্রেস, মনঃসংযোগের সমস্যা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এছাড়া ফোন তখন শুধু হাতে নয়, মাথার ভেতরেও কাজ করতে থাকে। ফলে মানুষ কোনো মুহূর্তেই পুরোপুরি মানসিকভাবে উপস্থিত থাকতে পারে না।

jago

অভ্যাস যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন

এই অভ্যাস দূর করার জন্য যোগাযোগ বন্ধ করা নয়, বরং নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা। আপনি চাইলে নিজেকে একটি সহজ প্রশ্ন করতে পারেন, আপনি কি সত্যিই এখন রিপ্লাই দিতে চান, নাকি শুধু অস্বস্তি এড়াতে দিচ্ছেন।
এই ছোট বিষয়টি মুহূর্তই আপনার আচরণকে অনেক পরিবর্তন করতে পারে। সময় নিয়ে রিপ্লাই দেওয়া মানে অবহেলা নয়, বরং নিজের মানসিক স্বস্তিকে গুরুত্ব দেওয়া।

মেসেজ এলেই সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই দেওয়া সবসময় শুধু ভদ্রতার বিষয় নয়। এর পেছনে থাকতে পারে অভ্যাস, সামাজিক চাপ বা অজান্তে তৈরি হওয়া উদ্বেগ। তাই নিজের সময়, মনোযোগ এবং মানসিক শান্তি রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: দ্য ইকোনোমিক টাইমস, টাইমস নাউ, মিডিয়াম

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow