মেহেরপুরে একের পর এক বোমা সদৃশ বস্তু, তদন্তের অগ্রগতি পানির বালতিতে
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে গত কয়েক মাস ধরে একের পর এক লাল টেপ মোড়ানো বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর থেকে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলার মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলায় অন্তত ১৭টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের খবর বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু পুলিশ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি উদ্ধারকৃত আলামতগুলো প্রকৃত বিস্ফোরক নাকি পরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর ভুয়া উপকরণ। স্থানীয়রা জানান, রাস্তার পাশে, ড্রেনের ভেতরে, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের অদূরে এবং প্রবাসী পরিবারের বাড়ির দেয়ালের কাছে এসব বস্তু পাওয়া গেছে। প্রতিবারই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে বস্তু উদ্ধার করেছে। কিন্তু উদ্ধার পরবর্তী ধাপে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য প্রায় একই রকম রয়ে গেছে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যদি উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো সত্যিই বিস্ফোরক হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর ধরন, ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক না করাকে দায়িত্বহীনতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। আবার যদি এগুলো নকল বা নিষ্ক্রিয় বস্তু হয়, তাহলে একই কৌশলে বারবার আতঙ্ক ছড়ানোও একটি গুরুত
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে গত কয়েক মাস ধরে একের পর এক লাল টেপ মোড়ানো বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর থেকে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলার মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলায় অন্তত ১৭টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের খবর বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু পুলিশ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি উদ্ধারকৃত আলামতগুলো প্রকৃত বিস্ফোরক নাকি পরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর ভুয়া উপকরণ।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার পাশে, ড্রেনের ভেতরে, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের অদূরে এবং প্রবাসী পরিবারের বাড়ির দেয়ালের কাছে এসব বস্তু পাওয়া গেছে। প্রতিবারই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে বস্তু উদ্ধার করেছে। কিন্তু উদ্ধার পরবর্তী ধাপে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য প্রায় একই রকম রয়ে গেছে।
তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যদি উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো সত্যিই বিস্ফোরক হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর ধরন, ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক না করাকে দায়িত্বহীনতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। আবার যদি এগুলো নকল বা নিষ্ক্রিয় বস্তু হয়, তাহলে একই কৌশলে বারবার আতঙ্ক ছড়ানোও একটি গুরুতর অপরাধ, যার পেছনে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা অপরাধী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত অপকৌশল জড়িত থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি ঘটনার পর পুলিশ বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করলেও এরপর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ধারাবাহিক ঘটনা থাকা সত্ত্বেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং কিংবা সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে চাঁদার চিরকুটে উল্লেখ থাকা মোবাইল নম্বরটি আদৌ ট্র্যাক করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নেরও কোনো উত্তর নেই।
মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান কালবেলাকে বলেন, উদ্ধার করার পর বস্তুগুলো পানির মধ্যে চুবিয়ে রাখা হয়েছে এবং পানিতে রাখার পরও সেগুলো থেকে কিছু বের হয়নি।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় এগুলো নকল বলেই মনে হচ্ছে। তবে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না এবং এক্সপার্ট মতামত দেওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হবে বস্তুগুলো বোমা না বোমা সদৃশ।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
জেলা পুলিশের অবস্থান জানতে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়ের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ও ফোন কলের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
একটি এলাকায় এভাবে একের পর এক বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি হয় একটি সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কের কাজ, নয়তো পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের সক্ষমতা যাচাইয়ের চেষ্টা। উভয় ক্ষেত্রেই বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
মেহেরপুরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে দ্রুত, কিন্তু তদন্ত যেন থেমে আছে পানির বালতিতে। কে এসব বস্তু রেখে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নের চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, এগুলো যদি বোমা হয়ে থাকে তবে মানুষ তা জানবে কবে? আর যদি নকল হয়, তবে ভয় দেখানোর এই ধারাবাহিক অপরাধের দায়ীরা ধরা পড়বে কবে? ১৭টি ঘটনার পরও এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকাই এখন জেলার মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।
What's Your Reaction?