যার হাসিতে মুখর থাকত বাড়ি, সে ফিরল লাশ হয়ে

প্রতি বছর বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে আসত মাহজাবিন মোশাররাদ সাইয়্যেদা। সবার সঙ্গে হাসি-আনন্দে কাটত তার সময়। তার প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখর থাকত পুরো বাড়ি। কিন্তু এবারের ঈদ যাত্রায় থেমে গেল তার জীবন প্রদীপ। কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে প্রাণ হারায় সে। রোববার (২২ মার্চ) রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাইয়্যেদার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। যেখানে থাকার কথা ছিল উৎসবের আমেজ, সেখানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ।  মাহজাবিন মোশাররাদ সাইয়্যেদা (৯) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ উদদৌলার কন্যা। স্বজনরা জানান, সাইয়্যেদার বাবা সিরাজ উদদৌলা দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সপরিবারে সেখানেই বসবাস করলেও প্রতি ঈদে তারা গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে ফিরতেন। এবার নতুন নির্মিত ঘরে ওঠার কথা ছিল সবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ শোকে স্তব্ধ। তারা আরও জানান, দুই বছর আগে অসুস্থতায় সিরাজ উদদৌলার একমাত্র ছেলে মারা যায়। এবার সড়ক দুর্ঘটনায় হারালেন ছোট মেয়েকেও। বড় মেয়ে তাসনুবা তাবাসসুম আ

যার হাসিতে মুখর থাকত বাড়ি, সে ফিরল লাশ হয়ে
প্রতি বছর বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে আসত মাহজাবিন মোশাররাদ সাইয়্যেদা। সবার সঙ্গে হাসি-আনন্দে কাটত তার সময়। তার প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখর থাকত পুরো বাড়ি। কিন্তু এবারের ঈদ যাত্রায় থেমে গেল তার জীবন প্রদীপ। কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে প্রাণ হারায় সে। রোববার (২২ মার্চ) রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাইয়্যেদার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। যেখানে থাকার কথা ছিল উৎসবের আমেজ, সেখানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ।  মাহজাবিন মোশাররাদ সাইয়্যেদা (৯) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ উদদৌলার কন্যা। স্বজনরা জানান, সাইয়্যেদার বাবা সিরাজ উদদৌলা দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের একটি জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সপরিবারে সেখানেই বসবাস করলেও প্রতি ঈদে তারা গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে ফিরতেন। এবার নতুন নির্মিত ঘরে ওঠার কথা ছিল সবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ শোকে স্তব্ধ। তারা আরও জানান, দুই বছর আগে অসুস্থতায় সিরাজ উদদৌলার একমাত্র ছেলে মারা যায়। এবার সড়ক দুর্ঘটনায় হারালেন ছোট মেয়েকেও। বড় মেয়ে তাসনুবা তাবাসসুম আফনান (২২) বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। সিরাজ উদদৌলা ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাও ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ উদদৌলা নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। চাকরির কারণে ফরিদপুরে থাকলেও ঈদের ছুটিতে সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে ফিরতেন। সেই নতুন ঘরেই এবার ওঠার কথা ছিল তাদের। সিরাজ উদদৌলার শ্যালক আবি আবদুল্লাহ বলেন, আফনানের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং সে আইসিইউতে রয়েছে। রাজিয়া সুলতানার শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে গেছে, আর সিরাজ উদদৌলা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। উল্লেখ্য, রোববার ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামে একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে একে একে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow