যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ কি আদৌ আমেরিকা ফার্স্ট বা আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে? খবর রয়টার্সের। চিঠিতে পেজেশকিয়ান সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের সম্বোধন করে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে আমেরিকার জনগণের কোন স্বার্থটি অর্জিত হচ্ছে? তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, বিস্তারবাদ কিংবা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধেরও সূচনা করেনি।  তিনি বলেন, ইরানকে একটি হুমকি হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা মূলত বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লালসার ফসল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পার্শ্ববর্তী দেশে তার সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। এই ঘাঁটিগুলো থেকেই চালানো সাম্প্রতিক মার্কিন আগ্রাসনগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের সামরিক উপস্থিতি প্রকৃতপক্ষে কতটা হুমকিস্বরূপ। উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে ইরানের প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে তিনি বৈ

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ কি আদৌ আমেরিকা ফার্স্ট বা আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে? খবর রয়টার্সের।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের সম্বোধন করে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে আমেরিকার জনগণের কোন স্বার্থটি অর্জিত হচ্ছে? তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, বিস্তারবাদ কিংবা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধেরও সূচনা করেনি। 

তিনি বলেন, ইরানকে একটি হুমকি হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা মূলত বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লালসার ফসল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পার্শ্ববর্তী দেশে তার সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। এই ঘাঁটিগুলো থেকেই চালানো সাম্প্রতিক মার্কিন আগ্রাসনগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের সামরিক উপস্থিতি প্রকৃতপক্ষে কতটা হুমকিস্বরূপ। উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে ইরানের প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে তিনি বৈধ আত্মরক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন।

চিঠিতে পেজেশকিয়ান মার্কিন সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি পার্থক্য রেখা টানার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের মনে আমেরিকা, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। এটি ইরানের সংস্কৃতির একটি গভীর মূলনীতি, কোনো সাময়িক রাজনৈতিক অবস্থান নয়।

পেজেশকিয়ান বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতের এই পথ বর্তমান সময়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং এর ফল হবে শূন্য। বিশ্ব এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে মুখোমুখি সংঘাতের চেয়ে আলোচনার পথই শ্রেয়।

তবে পেজেশকিয়ানের এই চিঠির পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানি নেতৃত্বকে পৃথিবীর সবচেয়ে সহিংস শাসনব্যবস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আসা একটি অসহনীয় হুমকি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন যে, ইরানের অধিকাংশ সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং এই যুদ্ধ এখন সমাপ্তির পথে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow