যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের খসড়া ফাঁস, কী আছে চুক্তিতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফা খসড়া প্রকাশ্যে এসেছে। খসড়ায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাতে প্রাপ্ত খসড়া অনুযায়ী, স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার ঘোষণা দেবে। এতে লেবাননের সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের খসড়ার ১৪ দফা ১। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাশাপাশি তাদের মিত্ররা, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করবে। ভবিষ্যতে একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক বা শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেবে না। ২। উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। ৩। স্মারক স্বাক্ষরের পর সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালানো হবে। পারস্

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের খসড়া ফাঁস, কী আছে চুক্তিতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফা খসড়া প্রকাশ্যে এসেছে। খসড়ায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাতে প্রাপ্ত খসড়া অনুযায়ী, স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার ঘোষণা দেবে। এতে লেবাননের সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের খসড়ার ১৪ দফা

১। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাশাপাশি তাদের মিত্ররা, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করবে। ভবিষ্যতে একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক বা শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেবে না।

২। উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।

৩। স্মারক স্বাক্ষরের পর সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালানো হবে। পারস্পরিক সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

৪। যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্রপথে স্বাভাবিক চলাচল পুনঃস্থাপন করবে। চূড়ান্ত চুক্তির পর ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আশপাশের অঞ্চল থেকে তাদের বাহিনী সরিয়ে নেবে।

৫। ইরান পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। প্রয়োজনে মাইন অপসারণ ও প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করবে।

৬। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত করবে। এর বাস্তবায়ন কাঠামো ৬০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে।

৭। চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

৮। ইরান পুনরায় ঘোষণা করবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

৯। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা বজায় রাখবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে না।

১০। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং, বীমা এবং পরিবহন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেবে।

১১। আলোচনায় অগ্রগতির ভিত্তিতে বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ও তহবিল ধাপে ধাপে মুক্ত করা হবে এবং ইরানকে সেগুলো ব্যবহারের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে।

১২। চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয় তদারকির জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

১৩। চতুর্থ, পঞ্চম, দশম ও একাদশ ধারার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বাকি ধারাগুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় বসবে।

১৪। চূড়ান্ত চুক্তিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, খসড়াটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খসড়া চূড়ান্ত নথির হুবহু প্রতিফলন নয়। অন্যদিকে ইরানের কিছু কর্মকর্তাও ফাঁস হওয়া সংস্করণের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে শুক্রবার নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে নথির ভাষায় পরিবর্তন আসতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow