যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল চুরির অভিযোগ বিএনপি নেতার

হবিগঞ্জের মাধবপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল চুরির অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার বিএনপি নেতা। এ ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) মাধবপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযুক্ত যুবদল নেতার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৫ মার্চ) আদাঐর ইউনিয়নে ৭১১ জন উপকারভোগীর মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ চলাকালে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম সরদারের বিরুদ্ধে ৪-৫ বস্তা চাল জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। এ বিষয়ে তিনি একটি ভিডিও বক্তব্য দেন, যেখানে দাবি করেন— ‘সে জোর করে ৪-৫ বস্তা চাল লুট করে নিয়ে গেছে। তার দেখাদেখি ইউপি সদস্যসহ আরও অনেকে চাল নিয়ে যায়, ফলে উপকারভোগীদের মধ্যে ঘাটতি দেখা দেয়।’ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ৭১১ জন উপকারভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল চুরির অভিযোগ বিএনপি নেতার
হবিগঞ্জের মাধবপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল চুরির অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার বিএনপি নেতা। এ ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) মাধবপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযুক্ত যুবদল নেতার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৫ মার্চ) আদাঐর ইউনিয়নে ৭১১ জন উপকারভোগীর মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ চলাকালে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম সরদারের বিরুদ্ধে ৪-৫ বস্তা চাল জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। এ বিষয়ে তিনি একটি ভিডিও বক্তব্য দেন, যেখানে দাবি করেন— ‘সে জোর করে ৪-৫ বস্তা চাল লুট করে নিয়ে গেছে। তার দেখাদেখি ইউপি সদস্যসহ আরও অনেকে চাল নিয়ে যায়, ফলে উপকারভোগীদের মধ্যে ঘাটতি দেখা দেয়।’ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ৭১১ জন উপকারভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। চেয়ারম্যানের এ দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- প্রকৃত ঘটনা কোনটি? স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করছেন, কাইয়ুম সরদার নির্দোষ। তাদের যুক্তি, প্রকৃতপক্ষে চাল চুরি হয়ে থাকলে তদন্ত প্রতিবেদনে ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ থাকত।  অপরদিকে অনেক উপকারভোগী অভিযোগ করেছেন, তারা পরিমাণমতো চাল পাননি এবং কোথাও কোথাও ওজনে কম দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম সরদার বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। তদন্তেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তারা ৪১ বস্তা চাল পাচারের চেষ্টা করছিল। আমাকে মিথ্যা অভিযোগে জড়ানো হয়েছে, এতে আমার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি দলের হাইকমান্ডের কাছে বিচার চাই।’ ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, ‘ওই যুবদল নেতা এভাবে চাল না নিলে ভালো হতো। আমাকে বললেই আমি দিতাম।’   দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ইউএনওর কাছে রিপোর্ট এভাবেই লিখতে হয়, সবকিছু সরাসরি লেখা যায় না।’ পরে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এদিকে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা ইকরাম বলেন, চাল বিতরণ ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এমন ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow