যে কারণে বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে গোপনে মার্কিন সফরে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে অনেকটা গোপনেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সফরের আগে ইরান ইস্যুই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৭ জুলাই) ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কয়েক মিনিট আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের। নেতানিয়াহুর সরকারি বিমান উইংস অব জায়নের সামনে স্ত্রী সারাকে পাশে নিয়ে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, এমন জটিল সময়ে দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা দুটিই সমানভাবে প্রয়োজন। আমাদের আলোচনার এজেন্ডায় থাকা সব বিষয় নিয়ে কথা হবে, যার মধ্যে সবার আগে থাকবে ইরান। একই সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করা। ইরানের হুমকি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে নেতানিয়াহু তার যাত্রার সময় আগে থেকে প্রকাশ করেননি। তিনি তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে একটি ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ঘাঁটি থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন। তার যাত্রা নিশ্চিত হওয়ার পরই ভিডিও বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। নেতানিয়াহ
ইসরায়েলের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে অনেকটা গোপনেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সফরের আগে ইরান ইস্যুই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৭ জুলাই) ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কয়েক মিনিট আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
নেতানিয়াহুর সরকারি বিমান উইংস অব জায়নের সামনে স্ত্রী সারাকে পাশে নিয়ে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, এমন জটিল সময়ে দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা দুটিই সমানভাবে প্রয়োজন। আমাদের আলোচনার এজেন্ডায় থাকা সব বিষয় নিয়ে কথা হবে, যার মধ্যে সবার আগে থাকবে ইরান। একই সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করা।
ইরানের হুমকি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে নেতানিয়াহু তার যাত্রার সময় আগে থেকে প্রকাশ করেননি। তিনি তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে একটি ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ঘাঁটি থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন। তার যাত্রা নিশ্চিত হওয়ার পরই ভিডিও বার্তাটি প্রকাশ করা হয়।
নেতানিয়াহুর এই সফরের ধরন ইসরায়েলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেন তিনি নেভাতিম বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা করলেন এবং কেন যাত্রার সময় আগে থেকে জানানো হয়নি এ বিষয়ে তার কার্যালয় কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমনকি রোববারের মন্ত্রিসভার বৈঠকও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে একটি অজ্ঞাত ভূগর্ভস্থ স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় রাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত উইংস অব জায়ন বিমানে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সফরসঙ্গী হওয়ার অনুমতিও দেয়নি। এ সিদ্ধান্তেরও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। যদিও এর আগেও একাধিকবার সাংবাদিকদের নিজস্ব ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে বাধ্য করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। দীর্ঘদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক শীতল বলে পরিচিত।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি হবে দুই নেতার প্রথম বৈঠক। সফরসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক লিন্ডসি গ্রাহামের স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
গ্রাহামকে ইসরায়েলের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বন্ধু উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
নেতানিয়াহু বলেন, আমি একটি স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়েই এই সফরে যাচ্ছি আমাদের প্রিয় রাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা, শক্তি ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১৩ দিনের বিমান হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে সাময়িক বিরতি তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই সফর হচ্ছে।
গত শুক্রবার রাতে পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা স্থগিত করে। এরপর শনিবার ও রোববার নতুন কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধ রাখায় ইরানও সাময়িকভাবে পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে বলে জানিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মুখোমুখি বসবেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু।
এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে তাদের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। সে সময় নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করার পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে সে সময় তার বেশ কয়েকটি পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হয়নি।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধের কারণে গত মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভেঙে পড়ার পর ট্রাম্প নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
What's Your Reaction?