যে কারণে শবেকদর অনির্দিষ্ট রাখা হয়েছে
শবেকদর ফারসি, আরবিতে লাইলাতুল কদর, মানে কদরের রাত। আল্লাহ যে রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেছেন, সে রাতকে বরকতময় করেছেন। সেটিই কদরের রাত বা শবেকদর। আল্লাহ বলেন, ‘শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি তো এ (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি এক লাইলাতুল মোবারকে (সৌভাগ্যের রাত্রিতে)। আমি তো সতর্ককারী। এ-রাত্রিতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়। আদেশ তো আমারই। আমিই রাসুল পাঠিয়ে থাকি, এ তোমার প্রতিপালকের তরফ থেকে অনুগ্রহ। তিনি সব শোনেন, সব জানেন।’ (সুরা দুখান : ১-৬) ঠিক কোন রাতে শবেকদর কোরআনে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কারণ হিসেবে সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লাইলাতুল কদর কোন রাত তা জানানো হয়েছিল। তিনি তা সাহাবিদেরকে জানানোর জন্য আসছিলেন, কিন্তু ঘটনাক্রমে সেখানে দুই ব্যক্তি ঝগড়া করছিল। তাদের ওই ঝগড়র কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে সে রাতের ইলম উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ কথাগুলো সাহাবিদেরকে জানানোর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হতে পারে, এতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। এখন তোমরা এ রাত (অর্থাৎ তার বরকত ও ফজিলত) রমজানের শেষ দশকে অন্বেষণ করো।
শবেকদর ফারসি, আরবিতে লাইলাতুল কদর, মানে কদরের রাত। আল্লাহ যে রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেছেন, সে রাতকে বরকতময় করেছেন। সেটিই কদরের রাত বা শবেকদর।
আল্লাহ বলেন, ‘শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি তো এ (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি এক লাইলাতুল মোবারকে (সৌভাগ্যের রাত্রিতে)। আমি তো সতর্ককারী। এ-রাত্রিতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়। আদেশ তো আমারই। আমিই রাসুল পাঠিয়ে থাকি, এ তোমার প্রতিপালকের তরফ থেকে অনুগ্রহ। তিনি সব শোনেন, সব জানেন।’ (সুরা দুখান : ১-৬)
ঠিক কোন রাতে শবেকদর কোরআনে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কারণ হিসেবে সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লাইলাতুল কদর কোন রাত তা জানানো হয়েছিল। তিনি তা সাহাবিদেরকে জানানোর জন্য আসছিলেন, কিন্তু ঘটনাক্রমে সেখানে দুই ব্যক্তি ঝগড়া করছিল। তাদের ওই ঝগড়র কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে সে রাতের ইলম উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ কথাগুলো সাহাবিদেরকে জানানোর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হতে পারে, এতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। এখন তোমরা এ রাত (অর্থাৎ তার বরকত ও ফজিলত) রমজানের শেষ দশকে অন্বেষণ করো। (বোখারি : ২০২০, মুসলিম : ১১৬৫/২০৯)
শবেকদর নির্দিষ্ট না করার পেছনে যেসব হেকমত থাকতে পারে
রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগের মুশরিফ মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, শবেকদর নির্দিষ্ট না করাটাও উম্মতের জন্য কল্যাণকর। এর পেছনে বেশ কয়েকটি হেকমত থাকতে পারে।
১. শবেকদর নির্দিষ্ট থাকলে শবেকদরের আশায় তখন অন্য রাতেও মানুষ যে ইবাদত করে, তা একেবারে ছেড়ে দিতো।
২. সব সময়ই কিছু কিছু লোকের গোনাহ হয়েই থাকে, এভাবে শবেকদরের মতো মহা মর্যাদাবান রাত জেনেও তারা গোনাহ করত আর ধ্বংস হয়ে যেত।
৩. শবেকদর নির্দিষ্ট থাকলে দুর্ভাগ্যবশত যদি কারও সে রাতে ইবাদত করা হয়ে না উঠত, তাহলে সে চরম হতাশ হয়ে রাত্র জাগরণই একেবারে ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হতো।
৪. এখন শবেকদর অনির্দিষ্ট থাকায় যত রাতই জাগরণ করবে, তার জন্য পৃথক পৃথক সওয়াব প্রাপ্ত হবে। হতে পারে শবেকদরের ফজিলত অর্জনের নিয়তে রাত্র জাগরণ করছে, বিধায় যত রাতেই জাগরণ করবে প্রতি রাতেই শবেকদরের সওয়াব প্রাপ্ত হবে। কেননা, আল্লাহপাক খাঁটি নিয়তের ভিত্তিতে সওয়াব প্রদান করে থাকেন।
What's Your Reaction?