যে চার স্কুলে পাস করেনি কেউ
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বোর্ডের অধীনে ২২টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হলো-রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এর মধ্যে তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন, ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চারজন, পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন এবং পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চারজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২ জনের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৫
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বোর্ডের অধীনে ২২টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় রয়েছে।
বিদ্যালয়গুলো হলো-রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
এর মধ্যে তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন, ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চারজন, পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন এবং পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চারজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২ জনের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী ও প্রধান শিক্ষকসহ ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য নবম শ্রেণির প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাধন কুমার রায় বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত এলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। অনেক শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে। কেউ কেউ কাজের জন্য ঢাকায় চলে গেছে। ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী কমে গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, মেয়েদের বাল্যবিয়ে এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে উপস্থিতি কমেছে। উপজেলা শহরের কাছাকাছি হওয়ায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের অনেকে শহরের বিদ্যালয়ে চলে যায়। এটিও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। ২০২২ সালে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১২৫ শিক্ষার্থী ও নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। এ বছর পাঁচজন পরীক্ষার্থী হওয়ার কথা থাকলেও একজনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় চারজন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের কেউই পাস করেননি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। আগামীতে ফল ভালো করার চেষ্টা করা হবে।
ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২৪৫ শিক্ষার্থী ও ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। ২০১২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। এবার চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নন এমপিও হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে। প্রতিষ্ঠানটি বালিকা বিদ্যালয় হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়। এ কারণে পড়াশোনায়ও প্রভাব পড়ে। এবার প্রথমবারের মতো ফল বিপর্যয় হয়েছে। সংকট কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি পাস করতে পারেননি।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন। যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোকনুজ্জামান মানু/এসজেডএইচ/এএসএম
What's Your Reaction?
