যে জার্সি কিনতে লাগবে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা
বিশ্বকাপ মানেই প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে উন্মাদনায় মেতে ওঠা। কিন্তু এমন যদি হয়, একটি জার্সি কিনতেই খরচ করতে হবে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে ফিফার বাজারে আনা বিশেষ ‘হোস্ট সিটি’ জার্সির দাম এখন ঠিক এতটাই। সীমিত সংস্করণ, আধুনিক প্রযুক্তি আর সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ-সব মিলিয়ে এই জার্সি শুধু পোশাক নয়, বরং একটি স্মারক হিসেবেই তুলে ধরছে ফিফা। ফিফার বিশেষ সংস্করণের ‘হোস্ট সিটি’ জার্সির একেকটির দাম ৩৭৫ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪৬ হাজার টাকা। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি একটি জার্সির জন্য এত টাকা খরচ করার মতো বিশেষত্ব আছে এতে? এতে এমন কী আছে, যা সাধারণ জার্সি থেকে একে আলাদা করেছে? বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোকে ঘিরে বিশেষ উদ্যোগ ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ-যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে আসরটি। ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টের ম্যাচ হবে ১৬টি শহরের বিভিন্ন ভেন্যুতে। আরও পড়ুন ম্রুণালের ক্যাজুয়াল লুকে লুকিয়ে ফ্যাশন ম্যাজিক এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিটি আয়োজক শহ
বিশ্বকাপ মানেই প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে উন্মাদনায় মেতে ওঠা। কিন্তু এমন যদি হয়, একটি জার্সি কিনতেই খরচ করতে হবে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে ফিফার বাজারে আনা বিশেষ ‘হোস্ট সিটি’ জার্সির দাম এখন ঠিক এতটাই।
সীমিত সংস্করণ, আধুনিক প্রযুক্তি আর সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ-সব মিলিয়ে এই জার্সি শুধু পোশাক নয়, বরং একটি স্মারক হিসেবেই তুলে ধরছে ফিফা।
ফিফার বিশেষ সংস্করণের ‘হোস্ট সিটি’ জার্সির একেকটির দাম ৩৭৫ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪৬ হাজার টাকা। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি একটি জার্সির জন্য এত টাকা খরচ করার মতো বিশেষত্ব আছে এতে? এতে এমন কী আছে, যা সাধারণ জার্সি থেকে একে আলাদা করেছে?
বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোকে ঘিরে বিশেষ উদ্যোগ
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ-যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে আসরটি। ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টের ম্যাচ হবে ১৬টি শহরের বিভিন্ন ভেন্যুতে।
এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য আলাদা নকশার সীমিত সংস্করণের জার্সি বাজারে এনেছে ফিফা। ‘হোস্ট সিটি জার্সি’ নামে পরিচিত এই সংগ্রহ মূলত শহরগুলোর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ফুটবল আবেগকে তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
খেলার জন্য নয়, সংগ্রহে রাখার জন্য
ফিফার তৈরি এই জার্সি সাধারণ অর্থে খেলার পোশাক নয়। প্রতিটি শহরের জন্য মাত্র ৯৯৯টি করে জার্সি তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, মোট ১৬টি শহরের জন্য জার্সির সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৮৪টি।
যদি সব জার্সি বিক্রি হয়ে যায়, তাহলে শুধু এই কালেকশন থেকেই ফিফার আয় হবে প্রায় ৬০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০ কোটিরও বেশি। মূলত এগুলো সংগ্রাহকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যারা বিশ্বকাপের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিশেষ কিছু সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।
ডিজাইনে শহরের নিজস্ব পরিচয়
হোস্ট সিটি জার্সিগুলোর নকশা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট শহরের অফিসিয়াল বিশ্বকাপ পোস্টার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। জার্সির সামনের অংশে রয়েছে ‘ফুটবল বিশ্বকে একত্র করে’ স্লোগানসংবলিত বিশেষ ব্যাজ।
বাঁ হাতায় যুক্ত করা হয়েছে প্রতিটি শহরের নিজস্ব স্লোগান আর পেছনের অংশে রয়েছে শহরের নাম ও বড় আকারের বিশ্বকাপ লোগো। অর্থাৎ, প্রতিটি জার্সিই নিজস্ব শহরের একটি আলাদা গল্প বহন করছে।
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া
ফিফা স্টোরের তথ্য অনুযায়ী, এই জার্সিগুলো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নতমানের কাপড় ও ঘাম শোষণকারী বিশেষ প্রযুক্তি, যা খেলোয়াড়দের জার্সিতেও ব্যবহৃত হয়।
তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এনএফসি প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জার্সিটির সত্যতা ও মালিকানার তথ্য যাচাই করা সম্ভব, যা নকল পণ্য ঠেকাতে সহায়ক হবে।
প্রিমিয়াম বক্সে কী থাকছে?
শুধু জার্সিই নয়, এর সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে একটি বিশেষ সংগ্রাহক বক্স। সেখানে থাকছে-
- সত্যতা যাচাইয়ের সার্টিফিকেট
- বিশেষভাবে তৈরি একটি হ্যাঙ্গার
- সংগ্রাহকদের জন্য প্রকাশিত একটি বই
- আকর্ষণীয় প্যাকেজিং
অর্থাৎ, পুরো প্যাকেজটিকেই একটি স্মারক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে ফিফা।
ফিফার বার্তা-সব জার্সি পরার জন্য নয়
ফিফা স্টোরে এই জার্সির বর্ণনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সব জার্সি মাঠে পরার জন্য তৈরি হয় না। কিছু জার্সির উদ্দেশ্য হলো কোনো বিশেষ মুহূর্তকে আজীবনের জন্য স্মরণীয় করে রাখা। এ কারণেই অনেকের মতে, ৪৬ হাজার টাকার এই জার্সি গায়ে দেওয়ার চেয়ে কাচের বাক্সে সাজিয়ে রাখাই হয়তো বেশি উপযোগী।
সমালোচনার মুখেও ফিফা
তবে জার্সিগুলো বাজারে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক ফুটবলপ্রেমীর মতে, অফিসিয়াল পোস্টারগুলো দেখতে যতটা আকর্ষণীয় ছিল, কাপড়ের ওপর সেই নকশা ততটা সুন্দরভাবে ফুটে ওঠেনি। প্রিন্ট ও কাপড়ের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠেছে ‘লিমিটেড এডিশন’ শব্দটি নিয়ে। প্রতিটি শহরের জন্য ৯৯৯টি করে জার্সি তৈরি করায় মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার। সংগ্রাহকদের একটি অংশ মনে করেন, এত বেশি সংখ্যায় উৎপাদনের কারণে এই জার্সির এক্সক্লুসিভ বৈশিষ্ট্য অনেকটাই কমে গেছে।
তাদের মতে, প্রতিটি শহরের জন্য ৫০টি কিংবা ১০টি জার্সি তৈরি করা হলে এর বিরলতা ও সংগ্রাহক মূল্য আরও অনেক বেশি হতো।
তাহলে ৪৬ হাজার টাকার এই জার্সির দাম কি যৌক্তিক?
প্রযুক্তি, সীমিত সংস্করণ, প্রিমিয়াম প্যাকেজিং এবং বিশ্বকাপের স্মারক-সবকিছু মিলিয়ে ফিফা এই জার্সিকে একটি সংগ্রহযোগ্য পণ্য হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। তবে ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশের মতে, অতিরিক্ত দাম এবং প্রত্যাশামাফিক ডিজাইন না থাকায় ‘হোস্ট সিটি’ জার্সি এখনো সেই বিশেষ আবেদন তৈরি করতে পারেনি।
তবু বিশ্বকাপের স্মৃতি ধরে রাখতে আগ্রহী সংগ্রাহকদের কাছে এই জার্সি হয়তো একদিন মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে। কারণ, কিছু জার্সি শুধু পোশাক নয়; সেগুলো সময়ের সাক্ষীও।
তথ্যসূত্র: ফিফা, ফিফা স্টোর, দ্য অ্যাথলেটিক ও নিউইয়র্ক টাইমস।
জেএস/
What's Your Reaction?
