যে ট্র্যাফিক সিগনালে সবুজ বাতি জ্বলে বছরে মাত্র একবার

বিশ্বজুড়ে ট্র্যাফিক সিগনাল বা সংকেত ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য একই হলেও, দেশ ও সংস্কৃতিভেদে এর প্রয়োগে দেখা যায় বৈচিত্র্য। কখনো আইনি বাধ্যবাধকতা, আবার কখনো স্থানীয় ইতিহাস বা ঐতিহ্যের কারণে এই সিগনালগুলো হয়ে ওঠে অনন্য। তবে জাপানের একটি ছোট্ট দ্বীপের ট্র্যাফিক সিগনাল সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে একটি ট্র্যাফিক লাইট সারা বছর লাল হয়ে থাকে এবং বছরে মাত্র একবারের জন্য সেটি সবুজ (বা নীল) বর্ণ ধারণ করে। হিমা কাজিমা সিগনালবিহীন এক দ্বীপ জাপানের এই দ্বীপটির নাম হিমা কাজিমা। আয়তনে এটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, এক বর্গকিলোমিটারেরও কম। প্রায় ২ হাজার মানুষের বসবাস এই দ্বীপে। দ্বীপটিতে রাস্তাঘাট এবং যানবাহনের সংখ্যা এতটাই কম যে, সেখানে ট্র্যাফিক সিগনালের কোনো বাস্তবিক প্রয়োজনই নেই। ফলে দ্বীপের অধিকাংশ স্থানেই কোনো ট্র্যাফিক সিগনাল খুঁজে পাওয়া যাবে না । বছরে একবারই জ্বলে সবুজ বাতি পুরো দ্বীপের মধ্যে শুধুমাত্র পূর্ব দিকের বন্দরে একটি ট্র্যাফিক সিগনাল বসানো হয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই সিগনালে বছরের প্রায় প্রতিটি দিনই লাল বাতি জ্বলে থাকে। হিমা কাজিমার বাসিন্দাদের জন্য বছরের সেই একটি দিনই বিশেষ, যখন এই সিগনালে

যে ট্র্যাফিক সিগনালে সবুজ বাতি জ্বলে বছরে মাত্র একবার

বিশ্বজুড়ে ট্র্যাফিক সিগনাল বা সংকেত ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য একই হলেও, দেশ ও সংস্কৃতিভেদে এর প্রয়োগে দেখা যায় বৈচিত্র্য। কখনো আইনি বাধ্যবাধকতা, আবার কখনো স্থানীয় ইতিহাস বা ঐতিহ্যের কারণে এই সিগনালগুলো হয়ে ওঠে অনন্য। তবে জাপানের একটি ছোট্ট দ্বীপের ট্র্যাফিক সিগনাল সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে একটি ট্র্যাফিক লাইট সারা বছর লাল হয়ে থাকে এবং বছরে মাত্র একবারের জন্য সেটি সবুজ (বা নীল) বর্ণ ধারণ করে।

হিমা কাজিমা

সিগনালবিহীন এক দ্বীপ জাপানের এই দ্বীপটির নাম হিমা কাজিমা। আয়তনে এটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, এক বর্গকিলোমিটারেরও কম। প্রায় ২ হাজার মানুষের বসবাস এই দ্বীপে। দ্বীপটিতে রাস্তাঘাট এবং যানবাহনের সংখ্যা এতটাই কম যে, সেখানে ট্র্যাফিক সিগনালের কোনো বাস্তবিক প্রয়োজনই নেই। ফলে দ্বীপের অধিকাংশ স্থানেই কোনো ট্র্যাফিক সিগনাল খুঁজে পাওয়া যাবে না ।

বছরে একবারই জ্বলে সবুজ বাতি

পুরো দ্বীপের মধ্যে শুধুমাত্র পূর্ব দিকের বন্দরে একটি ট্র্যাফিক সিগনাল বসানো হয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই সিগনালে বছরের প্রায় প্রতিটি দিনই লাল বাতি জ্বলে থাকে। হিমা কাজিমার বাসিন্দাদের জন্য বছরের সেই একটি দিনই বিশেষ, যখন এই সিগনালে সবুজ বা নীল বাতি জ্বলে ওঠে। উল্লেখ্য, জাপানে অনেক সময় ইন্টারসেকশনগুলোতে সবুজ বাতির পরিবর্তে নীল বাতি ব্যবহার করা হয়।

কেন এই বিচিত্র নিয়ম?

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে, যেখানে গাড়ির চলাচল নেই বললেই চলে, সেখানে এমন একটি ট্র্যাফিক সিগনালের প্রয়োজনীয়তা কী? এর পেছনের কারণটি যতটা অদ্ভুত, ততটাই বাস্তবসম্মত। মূলত দ্বীপের বাসিন্দাদের, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের ট্র্যাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যেই এটি স্থাপন করা হয়েছে।

বছরের নির্দিষ্ট সেই দিনে যখন সবুজ বাতি জ্বলে, তখন স্থানীয়দের শেখানো হয় কীভাবে নিয়ম মেনে রাস্তা পার হতে হয় এবং লাল বাতি জ্বললে কীভাবে থামতে হয়। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো, হিমা কাজিমার বাসিন্দারা যখন অন্য কোনো বড় শহর বা ভিনদেশে ভ্রমণে যান, তখন যেন তারা ট্র্যাফিক নিয়ম না জানার কারণে কোনো বিপদে না পড়েন।

উপসংহার

হিমা কাজিমা দ্বীপের এই ট্র্যাফিক সিগনালটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নিয়ম কেবল শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই নয়, বরং শিক্ষার অন্যতম মাধ্যমও হতে পারে। যেখানে যান্ত্রিক ব্যস্ততা নেই, সেখানেও একটি লাল বাতি বছরের পর বছর দাঁড়িয়ে থেকে মানুষকে নিয়ম মেনে চলার পাঠ দিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow