যে ১০ সময়ের দোয়া আল্লাহ বেশি কবুল করেন, জেনে নিন হাদিসের বর্ণনা

দোয়া মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। দোয়ার মাধ্যমে বান্দা তার প্রয়োজন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অসহায়ত্বের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরে। সুখের সময় যেমন আল্লাহকে স্মরণ করতে হয়, তেমনি বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা ও প্রতিকূলতার সময়ও তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হয়। দোয়া করার সময় অন্তরকে আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ রাখা, বিনয় ও আকুলতার সঙ্গে প্রার্থনা করা এবং তাঁর রহমতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা জরুরি। আল্লাহ তাআলা সব সময়ই বান্দার দোয়া শোনেন। তবে কোরআন-হাদিসে এমন কিছু সময়ের কথা এসেছে, যখন দোয়া করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে এবং কবুলের আশা করা যায়। জেনে নেওয়া যাক, কোন সময়গুলোতে বেশি বেশি দোয়া করা যেতে পারে— ১. রাতের শেষ প্রহরে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়ার জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সময়। এ সময় ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিনের জন্য বিশেষ আমল। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইব

যে ১০ সময়ের দোয়া আল্লাহ বেশি কবুল করেন, জেনে নিন হাদিসের বর্ণনা

দোয়া মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। দোয়ার মাধ্যমে বান্দা তার প্রয়োজন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অসহায়ত্বের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরে। সুখের সময় যেমন আল্লাহকে স্মরণ করতে হয়, তেমনি বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা ও প্রতিকূলতার সময়ও তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হয়।

দোয়া করার সময় অন্তরকে আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ রাখা, বিনয় ও আকুলতার সঙ্গে প্রার্থনা করা এবং তাঁর রহমতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা জরুরি। আল্লাহ তাআলা সব সময়ই বান্দার দোয়া শোনেন। তবে কোরআন-হাদিসে এমন কিছু সময়ের কথা এসেছে, যখন দোয়া করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে এবং কবুলের আশা করা যায়।

জেনে নেওয়া যাক, কোন সময়গুলোতে বেশি বেশি দোয়া করা যেতে পারে—

১. রাতের শেষ প্রহরে

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়ার জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সময়। এ সময় ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিনের জন্য বিশেষ আমল।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৫৮)

তাই রাতের শেষ প্রহরকে দোয়া ও ইস্তিগফারের জন্য কাজে লাগানো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

২. সিজদার সময়

নামাজের সিজদা বান্দার জন্য আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভের মুহূর্তগুলোর একটি। তাই সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় সিজদার অবস্থায়। সুতরাং তোমরা তখন বেশি বেশি দোয়া করো।’
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২)

সিজদায় নিজের জন্য, পরিবার-পরিজনের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করা যেতে পারে।

৩. আজানের সময়

আজান শুধু নামাজের আহ্বান নয়, এটি আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। আজান শুনে মনোযোগ দিয়ে তার জবাব দেওয়া এবং এরপর আল্লাহর কাছে দোয়া করা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।

হাদিসে আজানের সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। তাই আজানের সময় অযথা কথাবার্তায় ব্যস্ত না থেকে আল্লাহকে স্মরণ করা এবং দোয়া করা উচিত।

৪. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে

আজান শেষ হওয়ার পর ইকামত শুরু হওয়ার আগের সময়টিও দোয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১২)

তাই এ সময়টুকু কাজে লাগিয়ে নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা এবং দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া করা যেতে পারে।

৫. ফরজ নামাজের পর

ফরজ নামাজ শেষ করার পর আল্লাহর জিকির ও দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন সময়ের দোয়া বেশি কবুল হয়? তিনি রাতের শেষ সময় এবং ফরজ নামাজের পরের সময়ের কথা উল্লেখ করেন।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৯৮)

তাই নামাজ শেষ করে কিছু সময় আল্লাহর জিকির ও দোয়ায় কাটানো যেতে পারে।

৬. জুমার দিনে

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪০০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪০৭)

তাই জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ, জিকির ও দোয়া করার চেষ্টা করা উচিত।

৭. বৃষ্টির সময়

বৃষ্টি আল্লাহর রহমতের নিদর্শনগুলোর একটি। বৃষ্টি নামার সময় দোয়া করার বিশেষ ফজিলতের কথাও হাদিসে এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুই সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: আজানের সময় এবং বৃষ্টি বর্ষণের সময়।
(সুনানে আবু দাউদ; সহিহুল জামে, হাদিস: ৩০৭৮)

তাই বৃষ্টি শুরু হলে আল্লাহর রহমতের জন্য শুকরিয়া আদায় করে নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা যেতে পারে।

৮. রমজান ও ইফতারের সময়

রমজান রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। এ মাসে ইবাদতের পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া করারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে রোজাদারের ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

তাই ইফতারের আগে ও সময়টিকে শুধু খাবারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত না রেখে কিছু সময় দোয়া ও ইস্তিগফারে কাটানো যেতে পারে।

৯. লাইলাতুল কদরে

রমজানের শেষ দশকের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রাত লাইলাতুল কদর। কোরআনে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।

এ রাতে বেশি বেশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়া করা উচিত। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে ইবাদত করে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩৭২)

আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে লাইলাতুল কদরে কী দোয়া করবেন জানতে চাইলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া শিখিয়েছিলেন।

১০. বিপদ, অসুস্থতা ও সফরের সময়

মানুষ যখন বিপদে পড়ে, অসুস্থ হয় কিংবা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তখন তার অসহায়ত্ব সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায়। এমন সময়ে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে সাহায্য চাওয়া মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এ ছাড়া সফররত ব্যক্তির দোয়া এবং সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়ার বিশেষ ফজিলতের কথাও হাদিসে এসেছে।

তাই বিপদে পড়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

দোয়া করার সময় কী মনে রাখা জরুরি?

দোয়া শুধু মুখের কিছু শব্দ উচ্চারণের নাম নয়। দোয়ার সময় অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও ভরসা থাকা জরুরি। নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, হালাল ও কল্যাণকর বিষয় প্রার্থনা করা এবং দোয়া কবুলের ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করাও গুরুত্বপূর্ণ।

দোয়া কবুল মানেই সবসময় বান্দা যেটি চেয়েছে সেটিই সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া নয়। আল্লাহ বান্দার জন্য যা কল্যাণকর, তা-ই নির্ধারণ করেন। তাই দোয়া করার পাশাপাশি ধৈর্য ধরতে হবে এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখতে হবে।

দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি সময়ের অপেক্ষা না করে সবসময়ই আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। তবে হাদিসে বর্ণিত এসব বিশেষ সময়ে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদতে মনোযোগী হলে একজন মুমিন আল্লাহর রহমত ও কবুলিয়তের আশায় নিজেকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করতে পারেন।

আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি দোয়া করার, দোয়ার আদব রক্ষা করার এবং কবুলিয়তের জন্য উপযুক্ত আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow