‘রঙের ঢেউ’ চলবে তিন দিন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টাশালী গ্যালারিতে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক জলরঙ উৎসব ‘রঙের ঢেউ’। ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটারকালার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর আয়োজনে এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৭টি দেশের ২৬৫ জন শিল্পী। গতকাল শনিবার উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন মো. আজহারুল ইসলাম শেখ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইডব্লিউএস-এর প্রেসিডেন্ট আতানুর দোগান এবং শিল্পী কাওসার হাসান টগর। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিল্পী মো. কাউসার হোসেন, মিন্টু দে এবং সোহাগ পারভেজ। মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘জলরঙ এখন একটি বৈশ্বিক শিল্প আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বিশ্বজুড়ে শিল্পীদের মধ্যে সংলাপ ও মতবিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়।’ আতানুর দোগান বলেন, ‘আইডব্লিউএস বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিল্পের মাধ্যমে শান্তি ও সৌন্দর্যের বার্তা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ওয়েভ অব কালার’ থিমটি জলরঙের প্রবাহ, রঙের সামঞ্জস্য ও আবেগের স্তরবিন্যাসকে প্রতিফলিত করে। তার ভাষায়, প্রতিটি শিল্পকর্ম শুধ

‘রঙের ঢেউ’ চলবে তিন দিন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টাশালী গ্যালারিতে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক জলরঙ উৎসব ‘রঙের ঢেউ’। ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটারকালার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর আয়োজনে এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৭টি দেশের ২৬৫ জন শিল্পী।

গতকাল শনিবার উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন মো. আজহারুল ইসলাম শেখ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইডব্লিউএস-এর প্রেসিডেন্ট আতানুর দোগান এবং শিল্পী কাওসার হাসান টগর। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিল্পী মো. কাউসার হোসেন, মিন্টু দে এবং সোহাগ পারভেজ।

মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘জলরঙ এখন একটি বৈশ্বিক শিল্প আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বিশ্বজুড়ে শিল্পীদের মধ্যে সংলাপ ও মতবিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়।’ আতানুর দোগান বলেন, ‘আইডব্লিউএস বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিল্পের মাধ্যমে শান্তি ও সৌন্দর্যের বার্তা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ওয়েভ অব কালার’ থিমটি জলরঙের প্রবাহ, রঙের সামঞ্জস্য ও আবেগের স্তরবিন্যাসকে প্রতিফলিত করে। তার ভাষায়, প্রতিটি শিল্পকর্ম শুধু শিল্পীর অন্তর্লোকের প্রকাশ নয়, বরং একটি অভিন্ন মানবিক ভাষার বহিঃপ্রকাশ। শিল্পকে তিনি ‘সীমানা, ভাষা বা ধর্মহীন একটি দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্বশান্তির জন্য শিল্পীদের মধ্যে বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উৎসবের কিউরেটর মো. কাউসার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে জলরঙ কেবল একটি শিল্পমাধ্যম নয়, বরং দেশের ভূদৃশ্য ও বর্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি সাংস্কৃতিক ভাষা।’ তিনি জানান, এই উৎসবের মাধ্যমে তারা শুধু শিল্প প্রদর্শন করছেন না, বরং রঙ ও জলের প্রবাহে গল্প বলার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিচ্ছেন।

উৎসবে ল্যান্ডস্কেপ, প্রতিকৃতি ও ফিগারেটিভ, পুষ্প ও স্থিরচিত্র এবং বিমূর্তসহ বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হয়। উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে ছিল নেভস্কায়া পলিট্রা অ্যাওয়ার্ড, ড্যানিয়েল স্মিথ অ্যাওয়ার্ড এবং সিনুরস অ্যাওয়ার্ড।

বিভিন্ন বিভাগে স্বীকৃতি লাভ করেছেন বাংলাদেশের নয় শিল্পী— প্রদ্যুৎ কুমার ভট্ট, ইসরাত জাহান, প্রীতি দেব, রোহান আচার্য, মো. রাহাত, সিংধা রানী মিত্র, মো. আশরাফুল আলম, কাইফ আমিন এবং কে. এম. ইকবাল। এ ছাড়া মিন্টু দে ও সোহাগ পারভেজকে আইডব্লিউএস বাংলাদেশ ওয়াটারকালার মাস্টার পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।

আরএমডি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow