রমজান মাসজুরে পানিশূন্যতামুক্ত থাকতে যা করবেন

ফাল্গুনের শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ায় রমজান শুরু হওয়ায় দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হলে দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, পেট ফাঁপা, ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সচেতন খাদ্যাভ্যাস জরুরি। পুষ্টিবিদদের মতে, রোজায় হালকা ডিহাইড্রেশন হওয়া স্বাভাবিক। তাই পানি ও পানিসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। কতটা ও কীভাবে পানি পান করবেন ইফতারে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় একবারে অনেক পানি পান না করে ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পান করা ভালো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার (রুম টেম্পারেচার বা সামান্য ঠান্ডা) পানি শরীর দ্রুত শোষণ করতে পারে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন—ইফতারে ২ গ্লাস, রাতে ৪ গ্লাস এবং সেহরিতে ২ গ্লাস হতে পারে একটি কার্যকর ভাগ। পানীয় বাছাইয়ে সচেতনতা চা, কফি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় কম পান করাই ভালো। কফি ও চা মূত্রবর্ধক হওয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়। খালি পেটে কফি অ্যাসিডিটির ঝুঁকিও বাড়ায়। একান্তই খেতে চাইলে ইফতারের কিছু সময় পর খান। সোডা ব

রমজান মাসজুরে পানিশূন্যতামুক্ত থাকতে যা করবেন

ফাল্গুনের শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ায় রমজান শুরু হওয়ায় দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হলে দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, পেট ফাঁপা, ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সচেতন খাদ্যাভ্যাস জরুরি।

পুষ্টিবিদদের মতে, রোজায় হালকা ডিহাইড্রেশন হওয়া স্বাভাবিক। তাই পানি ও পানিসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে।

কতটা ও কীভাবে পানি পান করবেন

ইফতারে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় একবারে অনেক পানি পান না করে ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পান করা ভালো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার (রুম টেম্পারেচার বা সামান্য ঠান্ডা) পানি শরীর দ্রুত শোষণ করতে পারে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন—ইফতারে ২ গ্লাস, রাতে ৪ গ্লাস এবং সেহরিতে ২ গ্লাস হতে পারে একটি কার্যকর ভাগ।

পানীয় বাছাইয়ে সচেতনতা

চা, কফি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় কম পান করাই ভালো। কফি ও চা মূত্রবর্ধক হওয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়। খালি পেটে কফি অ্যাসিডিটির ঝুঁকিও বাড়ায়। একান্তই খেতে চাইলে ইফতারের কিছু সময় পর খান। সোডা বা ঘন শরবতের বদলে ডাবের পানি, তাজা ফলের রস বা ভেষজ চা ভালো বিকল্প।

মেনুতে রাখুন পানিসমৃদ্ধ খাবার

তরমুজ, কমলা, স্ট্রবেরি, শসা, টমেটো ও লেটুসের মতো খাবার ইফতারের প্লেটে রাখুন। সেহরি বা ইফতারে ডাল, সবজি কিংবা মুরগির স্যুপ রাখলে তা পুষ্টির পাশাপাশি শরীরের জলীয় অংশও বাড়ায়।

পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার—যেমন খেজুর, কলা ও ডাবের পানি—পানিশূন্যতা কাটাতে সহায়ক। এ ছাড়া দই, জেলি, কাস্টার্ড ও স্যুপও শরীরে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সেহরিতে হালকা ও সুষম খাবার

সেহরিতে এমন খাবার খান যা ধীরে শক্তি দেয় এবং দীর্ঘ সময় তৃষ্ণা কমায়। লাল চালের ভাত, চিড়া, মুড়ি, খিচুড়ি, সাবুদানা বা মিষ্টিআলু ভালো বিকল্প হতে পারে। অতিরিক্ত লবণাক্ত, মসলাযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো তৃষ্ণা বাড়ায়।

রোদ ও পরিশ্রমে সংযম

দিনের বেলা প্রখর রোদে বেশি সময় না থাকাই ভালো। প্রয়োজনে ছাতা বা হ্যাট ব্যবহার করুন। বিকেলে হালকা হাঁটাচলা বা শরীরচর্চা হজমে সহায়ক হতে পারে।

ত্বকের যত্নও জরুরি

পানিশূন্যতার প্রভাব ত্বকে দ্রুত পড়ে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে ময়েশ্চারাইজার বা হায়ালুরনিক সেরাম ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে এক দিন স্ক্রাব বা পিল ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকবে।

রমজানে ইবাদতের পাশাপাশি সুস্থ থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক পানি গ্রহণের মাধ্যমে পানিশূন্যতা এড়িয়ে কাটুক প্রাণবন্ত একটি মাস।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow